Opu Hasnat

আজ ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার ২০১৯,

নড়াইলে সদর হাসপাতলে কুমারী মাতার সন্তান প্রসব ! নড়াইল

নড়াইলে সদর হাসপাতলে কুমারী মাতার সন্তান প্রসব !

নড়াইল সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়াড়া গ্রামের অবিবাহিত পাগলী মা হয়েছে। অবিবাহিত যুবতী কুমারী কন্যা মা হওয়ার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ জানুয়ারী) নড়াইল সদর হাসপাতালে কুমারী পাগলী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। বুধবার সকাল ৯ টায় হাতিয়াড়া গ্রামের নির্মল পাঠকের স্ত্রী চন্দনা পাঠক তাকে সদর হাসপাতলে ভর্তি করে রেখে চলে যান। নবজাতক কন্যা সন্তানকে নিয়ে কুমারী মাতা (পাগলী) বর্তমান সদর হাসপাতলে চিকিৎসাধীন আছে। ওই সন্তানের বাবা কে? তা এখনও জানা যায়নি। নড়াইলবাসির দাবী এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের খুজে বের করে আইনের আওতায় আনা  হোক। হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে,কুমারী মাতাকে (পাগলী) হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে সে প্রসব যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। 

চিকিৎসা শুরুর কিছু সময় পর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম (নরমাল ডেলিভারি) হয়। শিশুটি দেখতে বেশ সুশ্রী হয়েছে। নবজাতক শিশু এবং শিশুর মা উভয়ই সুস্থ্য ও ভাল আছেন বলে জানিয়েছেন গাইনী বিভাগের প্রধান ডাঃ মীনা হুমায়ুন কবীর। সরেজমিনে জানা যায়,কুমারী মাতা পাগলীর মামা বাড়ি নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়নের হাতিয়াড়ায়। সে যখন ছোট তখন তার মা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখন থেকেই সে তার মামার বাড়িতে থাকতো। তার বয়স যখন ১০-১২ বছর তখন এলাকার মানুষ জানতে পারে তার মস্তিস্ক বিকৃত। ছোট বেলা থেকেই  সে মানুষের বাড়ি-বাড়ি, রাস্তা-ঘাটে, বাজারেও এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতো। যেখানে সেখানে রাতযাপন করতো। এলাকার মানুষ তাকে খাবার দিলে খেত। 

এভাবেই সে ২২বছরে পা দিয়েছে। জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা  ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন কুমারী মাতার সন্তান প্রসবের খবর শুনার সঙ্গে সঙ্গে নবজাতক শিশু এবং তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁরা সেখানে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোজ-খবর এবং চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান,‘ওইএলাকার মানুষ কুমারী মাতাকে পাগলী নামে চেনে। এলাকার বখাটে যুবকেরা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।’ ওই নবজাতকের পিতা কে ?  সে বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে এলাকার একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তদবির করছেন।