Opu Hasnat

আজ ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৯,

​ পুলিশ ও বন কর্মকর্তাদের সামনেই পিটিয়ে বাঘ হত্যা পঞ্চগড়

​ পুলিশ ও বন কর্মকর্তাদের সামনেই পিটিয়ে বাঘ হত্যা

 
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় পুলিশ ও বন কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই একটি বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
এর আগে শনিবার সকালে বোদা উপজেলার ঝলই শালশিরি এলাকায় বাঘটি দেখতে পায় স্থানীয় কয়েক শিশু। তারা চিৎকার করলে লোকজন লাঠি নিয়ে বাঘটিকে ধাওয়া দেয়। তাড়া খেয়ে বাঘটি স্থানীয় পাথরাজ নদীর পাশে একটি ঝোপে আশ্রয় নেয়।
 
 
এদিকে লোকালয়ে বাঘের খবরে কয়েক হাজার উৎসুক মানুষ বাঘ দেখতে ভিড় করে। লোকজনের ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ সময় উৎসুক লোকজন বাঘটিকে বের করার জন্য ঢিল ছোড়ে। বিকেলে পর্যন্ত বাঘটিকে ঝোপ থেকে কোনোভাবে বের করা না গেলে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়।
 
দিনভর মানুষের উপস্থিতির কারণে বাঘটিও ওই ঝোপের মধ্যেই শুয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ ঝোপ থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। এ সময় লোকজন লাঠি নিয়ে বাঘটিকে ধাওয়া দেয়। এক পর্যায়ে সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।
 
এ সময় বাঘের আক্রমণে চারজন আহত হয়েছেন বলে জানান ময়দানদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার। আহতদের মধ্যে দুইজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
 
বোদা উপজেলা বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভারত থেকে বাঘটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সারাদিন বাঘটি বেশ ক্লান্ত এবং ক্ষুধার্ত ছিল। আমরা কৌশলে বাঘটিকে ধরার চেষ্টার করছিলাম। তার আগেই পালানোর সময় স্থানীয় লোকজন বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে। আমরা বাধা দিয়েও বাঁচাতে পারিনি।
 
বোদা থানা পুলিশের ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব স্থানীয়দের নিরাপত্তা দেয়া। সেখানে দিনভর জনগণের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন ছিল। সন্ধ্যার পর বাঘটি পালাতে শুরু করলে কে বা কারা বাঘটিকে পিটিয়ে হত্যা করে।’