Opu Hasnat

আজ ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার ২০১৯,

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষন জাদুঘর এলাকায় বেরেছে বীর সন্তানদের সম্মান রাজবাড়ী

মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষন জাদুঘর এলাকায় বেরেছে বীর সন্তানদের সম্মান

 

রাজবাড়ী জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের চিনতে সহায়ক ভুমিকা পালন করছে রাজবাড়ীর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষন জাদুঘর। জাদুঘরটিতে রয়েছে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার ৭২ জন মুক্তিযোদ্ধার ছবি। যা দেখে ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সহজেই চিনতে পারছে নতুন প্রজন্ম। আর এ থেকেই রাস্তা ঘাটে দেখা হলে শিশু কিশোররা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে তাদের, দিচ্ছে সালাম নিচ্ছেন খোজ খবর।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামে ২০০৯ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস। এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন চিত্র। প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে এই জাদুঘর দেখতে আসছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। প্রথম থেকেই জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে  বিকেল পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘরটি।

জানাগেছে, ২০০৯ সালের ১৯ মে আড়াই শতাংশ জমির ওপর একটি চৌচালা টিনশেড ঘরে জাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন গোয়ালন্দ অঞ্চলের মুজিব বাহিনীর প্রধান বীর  মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আবদুল জব্বার।

সরেজমিনে রবিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়,  ঘরের দেয়ালে ঠাঁই পেয়েছে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম, জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতিমূলক ছবি, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্মারকসহ ভারতের কল্যাণী ক্যাম্পের কিছু দুর্লভ ছবি, বঙ্গবন্ধুর মুক্তিসংগ্রামের আহŸান, পাকিস্তানি সেনাপতির আত্মসমর্পণের ছবি, যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, সংবাদপত্রে প্রকাশিত যুদ্ধের ইতিহাস ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের কপি, যুদ্ধকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত কিছু উপকরণসহ পাঁচ শতাধীক আলোকচিত্র।

গোয়ালন্দ উপজেলার বরাট ভাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র রিয়াজ আহম্মেদ জানান, আমরা আমাদের এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের চিনেছি এই জাদুঘরে থাকা ছবি দেখে, জানতে পেরেছি কিভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিলো। এখন আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহজেই চিনতে পারি এবং রাস্তাঘাটে দেখলে সালাম দেই। 
গোয়ালন্দ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সামাদ মোল্লা  জানান, নতুন প্রজন্ম অনেকে জানে না মুক্তিযুদ্ধ কি ? এখানে এসে তারা জানতে পারছে দেশের মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চন্য ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠার পর হতে এই এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের চিনে না তাদের সম্পর্কে জানে না এমন কোন মানুষ নেই। এই এলাকার সকলেই বলতে পারবে ১৯৭১ সালের মরনপন যুদ্ধের কাহিনী।

রাজবড়ীর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা গোলাম মোস্তফা গিয়াস জানান, ১৯৭৫ সালের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলন্ঠিত হওয়া শুরু করে। অপশক্তির ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নানান তথ্য বিভ্রাট করা হচ্ছে। তখন থেকে চিন্তা করি মুক্তিযুদ্ধকে বাচিয়ে রাখতে হবে। সঠিক ইতিহাস সংরক্ষন করতে হবে। এই এলাকায় জাদুঘরটি তৈরি হওয়ায় এখন এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সহজেই চিনতে পারছে নতুন প্রজন্ম। রাস্তাঘাটে আলাদাভাবে সম্মান করা হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের। 
তিনি আরো জানান, একক উদ্যোগে এই জাদুঘরটি তৈরি করেছি। আমার দাবী জাদুঘরটি আরো সম্প্রসারিত করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের মন থেকে কখনও সেই সব দিনের স্মৃতি হারাবে না। এ জন্য প্রয়োজন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা।