Opu Hasnat

আজ ২৫ মার্চ সোমবার ২০১৯,

আজ ঝালকাঠি হানাদার মুক্ত দিবস

জেলার বৃহত্তর বধ্য ভূমির পূর্বপ্রান্তে কসাইখানা, পশ্চিম প্রান্তে অবৈধ দখল মুক্তিবার্তাঝালকাঠি

জেলার বৃহত্তর বধ্য ভূমির পূর্বপ্রান্তে কসাইখানা, পশ্চিম প্রান্তে অবৈধ দখল

৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি মুক্তদিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঝালকাঠি ও নলছিটি থানা হানাদার মুক্ত হয়। এ দিনে বিজয়ীর বেশে শহরে প্রবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। জেলার সর্বত্র আনন্দ-উল্লাসের পাশাপাশি শুরু হয় হারানো স্বজনদের খোঁজার পালা, কেউ জীবিত আবার কারো মৃতদেহ।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে ছিলো ঝালকাঠি। ২৭ এপ্রিল ভারী কামান আর মর্টার শেলের গোলা নিক্ষেপ করতে করতে পাকহানাদারা শহরটি দখলে নেয়। এরপর পাকবাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর আর আল শামসের সহায়তায় জেলা জুড়ে হত্যা, ধর্ষণ, লুট আর অগ্নিসংযোগসহ নারকীয় নির্যাতন চালায়। শহরের পৌরসভা খেয়াঘাট, পালবাড়ী গোডাউনঘাট, রমানাথপুর মসজিদ সংলগ্ন পুকুর পাড়, দেউলকাঠি, গাবখান, খেজুরা গ্রামে শত শত নিরীহ বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এক পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে টিকতে না পেরে ৭ ডিসেম্বর শহরে কারফিউ জারি করে পাকবাহিনী, ওইদিনই শহর ছেড়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে রাজাকাররা মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে মুক্ত হয় ঝালকাঠি। একই দিন পাকহানাদার মুক্ত হয় নলছিটি। ৭ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্পে আক্রমণ করে রাজাকারদের নিরস্ত্র করেন। এ পর্যন্ত জেলায় বহু বধ্যভূমি ও গণকবর আবিষ্কৃত হলেও তা রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়, সরকারিভাবে সেগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। 

বধ্যভূমি সংরক্ষণ সংগঠন হৃদয়ে ৭১ এর সাংগঠনিক উপদেষ্টা পলাশ রায় মুক্তিযোদ্ধাদের বরাত দিয়ে জানান, ঝালকাঠি জেলার সবচে বড় বধ্যভূমি পৌর শহরের সুগন্ধা পাড়ের পৌর খেয়াঘাট এলাকাটি। একাত্তরের ৯মাস মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য মানুষকে এখানে ধরে এনে হত্যা করে পাকবাহিনী ও তাদের দেশীয় এজেন্ট রাজাকার। এখানে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

স্বাধীনতার পর বধ্যভূমির মূল স্থানটি সুগন্ধার ভাঙনে প্রায় বিলীন হয়ে যায়। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু বধ্যভূমিটি পরিদর্শনে এসে মাটি চাঁপা পড়া শহীদের হারগোড় নদীতে ভেঙে পড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁর নির্দেশে পরে বধ্যভূমি থেকে কঙ্কাল তুলে শহরের বর্তমান সিটি পার্কে স্টেডিয়ামের পেছনের শহীদ মিনারের পাদদেশের কোনায় সমাহিত করা হয়। গণহত্যায় নিহত অনেকেরই কঙ্কাল নদী ভাঙনে চলে যায়।

অনেক বছর পর সুগন্ধায় আবার নতুন করে চর জাগে। কিন্তু জেগে ওঠা চরে স্বাধীনতার পর কোন সরকার বধ্যভূমির স্মৃতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসেনি। বরং দখল হয়ে যায় চরের বেশ কিছু জমি। যা সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানভূক্ত। যার পূর্ব প্রান্তে ঝালকাঠি পৌর কসাইখানা আর পশ্চিম প্রান্তের জমি স্থানীয়রা দখল করে ময়লা আবর্জনা ও জল কাঁদার ওপর কাঁচা পায়খানা এবং চায়ের দোকান বসায়। এলাকার এক দল যুবককে ২০১২ সালের স্বাধীনতা দিবসে বধ্যভূমির কিছুটা অংশ দখলমুক্ত করা হয়। সীমাহীন প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে স্থানটি দখলমুক্ত করার পর মাটি ভরাট করা হয়। তৈরি করা হয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তখনকার পৌর মেয়রও আমাদের কাজে অনেকটা সহযোগিতা করেন।

এখন ৮ ডিসেম্বর ও ১৪ ডিসেম্বরসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখানে শহীদ স্মরণে ফুল দিতে আসেন প্রশাসনসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠন। কিন্তু অনুষ্ঠান আয়োজন পর্যন্তই শেষ। বছরের বাকি পুরোটা সময় এখানে ভাঙারী ব্যবসায় অবৈধ দখলে থাকছে। আবারও দখলদারদের কবলে ময়লা আবর্জনা আর বস্তার স্তুপ ঘিরে থাকছে। পরিচ্ছন্ন করা পরিবেশ আবারও অপরিচ্ছন্ন করে রাখছে অর্থলোভীরা। হামলা, মামলার হুমকীসহ নানা প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে উদ্ধার করা শোকের এ বধ্যভূমির জমিটুকু তবে কী দখলদারের বাণিজ্যিক কেন্দ্র পরিণত হবে? এমন অভিযোগও করেন তিনি। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর