Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পদক্ষেপে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে চট্টগ্রাম

প্রধানমন্ত্রীর সুচিন্তিত পদক্ষেপে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে

নগরীর হোটেল পেনিনসুলায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসুচীর আয়োজনে আইসিটি এবং ফেসবুক সহযোগিতায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ডিজিটাল খিচুড়ি চ্যালেঞ্জ ২০১৮। এই সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)’র মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কিউকো ইউকো সুকা, সহকারী ডিরেক্টর মাহমুদা আফরোজ, প্রজেক্ট ম্যানেজার রবার্ট স্টোলম্যান, আইসিটি’র ডিভিশনাল এডভাইজার পিনা জাবিন, কমনওলেথ ইউকে’র আসান আলী, ফেইসবুক সাউথএশিয়া পলিসি ম্যানেজার দেবিকা মালিক এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, সিটি মেয়রে একান্ত সচিব মুফিদুল আলম, প্রধান পরিকল্পনাবিদ এ কে এম রেজাউল করিমসহ ইউএনডিপি বাংলাদেশ, ফেইসবুক, স্টার্টআপ বাংলাদেশ ও আইসিটি ডিভিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহনকারী বিপুল সংখ্যক প্রতিযোগীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

চসিক মেয়র বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার অন্যতম লক্ষ্য হলো অসা¤প্রদায়িক বাংলাদেশ, যেখানে আমরা সব জাতি, ধর্ম, বর্ণ মিলেমিশে থাকবো। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তি দেশের সীমানা পেরিয়ে মানুষকে নতুন করে ভাবতে ও দেখতে শিখিয়েছে। বিশ্ব এখন আক্ষরিক অর্থেই হাতের মুঠোয়। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সুচিন্তিত পদক্ষেপের ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য আজ আমরা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমাদের অনেক কর্মঘন্টা বাঁচিয়েছে। আমাদের আর্থিক সাশ্রয় করেছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, তথ্য প্রযুক্তির বিস্তারের সাথে সাথে মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়ছে। আমাদের দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রসঙ্গক্রমে মেয়র আরো বলেন, ডেলয়েট পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় যে, ২০১৫ সালে আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত শুধু ফেসবুক ব্যবহার করে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ডলার আয় করে থাকেন। কর্মসংস্থান হয় প্রায় ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার। পক্ষান্তরে, বাংলাদেশ এক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশ বিশ্বে ফেইসবুক ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে থাকলেও আমাদের দেশে কতিপয় লোক ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ানোর কাজে। ডিজিটাল পন্থায় মোকাবিলার মাধ্যমে এ অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে দিনে ১৪টি সংসার ভাঙছে। ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় একটি তালাকের ঘটনা ঘটছে। এসবের পেছনে রয়েছে অনলাইন প্রযুক্তির অপব্যবহার। এ অপব্যবহার আমাদের রোধ করতে হবে। মেয়র শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়ে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে এই আয়োজনটি করার জন্য আয়োজকদেরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। চট্টগ্রাম থেকে প্রাপ্ত ধরণাগুলো সমাজ ও রাষ্ট্রকে সংহতি ও উন্নয়নের রাস্তায় একসাথে চলার পথ তৈরি করবে মর্মে মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আশা করেন তরুণদের এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের স¤প্রীতি ও সহনশীলতার ঐতিহ্যকে আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো। পরে মেয়র বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।