Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ রাজবাড়ী

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ

কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে। পাইলিং নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করে পাইলিংয়ে ব্যবহৃত নির্মাণকৃত খুটি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। 

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয় সুত্রে জানাগেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধায়নে ৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা ব্যায়ে ৫ম তলা ভীত ৩ তলা ভবন নির্মাণ কাজ করছে ঢাকা বনানীর হাউজ ১০২/৬, বীর উত্তম জিয়াউর রহমান রোডের মেসার্স অনিক ট্রেডিং কর্পোরেশন। গত ২৩ মার্চ কাজের চুক্তির পর বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১৫ মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবন ভাঙ্গার পর নতুন করে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিন্মমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগ উঠে। পাইলিং করার সময় খুটি গুলো পোতার সময় ভেঙ্গে পড়ছে। ভাঙ্গা খুটিই পাইলিং করা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এস,এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ কাজ বন্ধ করে দেয়। তা সত্বেও কাজ অব্যাহত আছে।খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা সরেজমিনে গিয়ে নিন্মমানের পাইলিংয়ের জন্য তৈরী ৫টি খুটি জব্দ করেছেন। ভালো পিলার (ভীম) দিয়ে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাইলিং করার সময় খুটির মাঝ খান থেকে  ভেঙ্গে যাচ্ছে। ভাঙ্গা খুটি দিয়েই পাইলিং করা হচ্ছে। এব্যাপারে কথা বলার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে হাসপাতাল এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, পাইলিংয়ের জন্য খুটি পোতার সময় বিকট শব্দ এবং কাপুনীতে আশপাশের ভবন গুলো দুলছে ও ভূমিকম্প হলে ফাটল দেখা দেওয়াসহ ক্ষতিসাধন হওয়ার আশঙ্কায় রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা জানান, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবন নির্মাণ কাজের পাইলিংয়ের পিলার (ভীম) পুতার সময় ভেঙ্গে যাচ্ছে। ওই পিলার গুলো দিয়েই কাজ করার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে ৫টি পিলার জব্দ করা  হয়েছে। ভাঙ্গা পিলার দিয়ে যাতে কোন কাজ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত করে দেখা হবে কেন পিলারগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস,এম আব্দুল্লাহ আল মুরাদ জানান, পাইলিংয়ের সময় খুটি গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে। বাঁধা দেওয়া সত্বেও কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নিন্মমানের কাজের বিষয়ে রাজবাড়ী সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদেরকে জানানো হয়েছে।   

 এ ব্যাপারে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রহিম বক্স বলেন, ‘পিলার ভঙ্গে যাইতে পারে, আসলে আমি বলি এটা হচ্ছে এক্সপার্ট ওপেনিয়নের ব্যাপার, এটাতো আমাদের কোন বিষয় না, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আসছিল সে এসে ওখানে কথা বলেছে, দেখেছে, এটা তাদের মন্ত্রনালয় থেকে ডিজাইন করা, ঢাকা থেকে এটা করা, এধরনের পাইলিং ভাঙ্গার ঘটনা ঘটতে পারে’।

মাটির নিচে পুতার সময় পিলার গুলোর মাঝখান থেকে ভেঙ্গে যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আমি কথা বলেছি তাদের বক্তব্য হলো যে, একটা এরিয়াতে যখন পাইলিং করা হয়, প্রথম দিকের পাইলিং গুলো ঠিকমত যায়, এরপরে যখন একটা নির্দিষ্ট পরিমান পাইলিং ঢোকার পরে স্পেস থাকে না, সেই গুলো পাইলিং ভেঙ্গে যেতে পারে, এটা নরমাল ব্যাপার এটা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য। আমরা তো এক্সপার্ট না এটা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এটা তারা জানে’।