Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

সুনামগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস আজ সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস আজ

৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ১৫ই আগষ্ট মহান মুক্তিযুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেরিগাঁও গ্রামে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় তৎকালীন পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর সাথে এ সময় সম্মুখ যুদ্ধে অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন । এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আরো প্রায় দুই শতাধিক  মুক্তিযোদ্ধ শহীদ হয়েছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শহীদদের স্মরণে গণ-কবরগুলোতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের  দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। 

উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরিগাঁও ৫নম্বর সেক্টর ছিল ভারতের বালাট সাব সেক্টরের অধীনে। এখানে ’৭১ সালের ১৫আগস্ট ভোরে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকিস্থানী বাহিনীর সম্মুখে সমরে ভয়াবহ যুদ্ধ হয়। জেলার অন্যতম যুদ্ধ ছিল এটি। এ যুদ্ধে অনেক পাকবাহিনীর সদস্যরা ও নিহত হন।

এ যুদ্ধে ৮জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২৬জন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত ধরে নিয়ে যায় পাক হানাদার বাহিনী। ২জন মুক্তিযোদ্ধা পালিয়ে আসলেও  পরে  বেরিগাঁও ৫ নম্বর সেক্টরে আরো ২২জনকে মেরে ফেলে পাক বাহিনী।  শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের এনে সুরমা ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামে গনকবর দেয় পাকিস্থানীরা। বাকীদের ধরে নিয়ে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা  সুনামগঞ্জের  আহসানমারা ফেরীঘাটে নিয়ে ২ জনকে গুলি করে নদীতে ফেলে দেয়। এলাকার মুক্তিকামী মানুষ পরে নদী থেকে নিহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ তালেব ও কৃপেশ দাসের লাশ এনে দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলার উজানীগাঁও গ্রামে তাদের সমাহিত করা হয়।  এছাড়াও হানাদার বাহিনীর সদস্যরা  জেলার ছাতকে ১৪ জন, দোয়ারাবাজারে ২৬ জন, জামালগঞ্জে ১০ জন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১২ জন, দিরাইয়ে ১৫ জন, জগন্নাথপুরে ১০ জন, তাহিরপুর উপজেলায় ৮ জন ও শাল্লা উপজেলায় ১ জন মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। 

এ যুদ্ধের পর অনেকেই মুগাই নদী পাড় হয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরবর্তীতে বর্ননা করেন ভয়াবহ স্মৃতির। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে গনকবর  হিসেবে উল্লেখযোগ্য নলুয়া গ্রামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে। 

স্বাধীনতা সংগ্রামের ৪৭ বছর পর ও সুনামগঞ্জ জেলার অসংখ্য যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এখনো অনেকেই পঙ্গু হয়ে, কেউ বা  রিক্রা চালিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করে  চলেছেন। কিন্তু  বিগত সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে তারা যথাযথ মূল্যায়ন পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন  হওয়ায় তাদের প্রত্যাশা অনেক বেশী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার তাদের অন্ন বন্ত্র বাসস্থান ও রেশনের ব্যবস্থা সহ সবধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করবে বিজয়ের মাসে এমনটাই প্রত্যাশা  করছেন জেলার যুদ্ধাহত সকল মুক্তিযোদ্ধারা।

এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আল আজাদ বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ পূর্ণ গঠনে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্যস্ত ছিলেন স্বাধীনতার তিনবছরের মাথায় স্বাধীনতা বিরোধী পরাজিত শক্রুরা ১৯৭১ সালের ১৫ই আগষ্ট তাকে স্বপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্থ করা হয়েছিল। ফলে দেশের মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন অবহেলিত। কিন্তু জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা প্রদানসহ নানান ধরনের সুযোগ সুবিধা সুষ্টি করেন। পাশপাশি তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্য সম্পন্ন করে জাতিকে কলংঙ্কমুক্ত করেন।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল আহাদ বলেন, সুনামগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি  গৌরব উজ্জল গাথাঁ ইতিহাস ধারন করে আছে সারাদেশব্যাপী । এ জেলার দোয়াবাজার উপজেলার বাশঁতলা, তাহিরপুরের ট্যাকেরঘাট, সদর উপজেলার ডলুরা ও ধর্মপাশা উপজেলার বংশিকুন্ডা এই চারটি স্থানে মুক্তিযুদ্ধের বড় স্মৃতি স্থাপনা রয়েছে। বাশঁতলায় একটি পর্যটন স্মৃতি স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষন করা গেলে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সুনামগঞ্জে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ঐহিত্য সর্ম্পকে জানতে পারবে। এজন্য সরকার ও প্রশাসনের তরফ থেকে এই স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষন করা হবে বলে জানান। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর