Opu Hasnat

আজ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

কামাল বারি’র একগুচ্ছ কবিতা শিল্প ও সাহিত্য

কামাল বারি’র একগুচ্ছ কবিতা

‘তার আচমকা ডাকে’

আমি কেঁপে কেঁপে ভুল করে বসি;
তার আহ্বানে সাড়া দিতে দিতে
সময় সময় আমার ভুল হয়ে যায়;
আমার হাতে যা কিছু থাকে-
তার আচমকা ডাকে- পড়ে যায়;

তার প্রবেশকালের সম্ভাষণ শুনে-
আমি যা বলছিলাম, তার খেই হারাই;
অথবা, ভীষণ থেমে যাই; কিছুই আর
বলতে পারি না ঠিক; 

তার উপস্থিতি আমি মাঝে মাঝে 
দারুণ উপভোগ করি;
আমার ঠোঁট কেঁপে কেঁপে ওঠে আবেগে!

প্রতিবার তার প্রবেশের পর চোখ খুলি আমি
ফিরে যাবার পর ফের দুচোখ বন্ধ করে রাখি।
************************


তোমার হৃদয় উচ্ছ্বাসের সাথে


শতাব্দীর উন্মোচন করেছো তুমি আমার দুচোখে;
আমাকে নতুন শস্যের ঢেউয়ে ঢেউয়ে
তোমার সাথে বয়ে বয়ে নিয়ে যাচ্ছো;
আমি প্রবাহিত হচ্ছি
তোমার হৃদয় উচ্ছ্বাসের সাথে;
কী সুন্দর প্রেমের স্মারক
জেগে উঠেছে তোমার অন্তর্গত শরীরে!
আহা, পলিময় নতুন ভূমি-
জেগে উঠেছে শত বছরের
সম্ভাবনায় উজ্জ্বল!

শতাব্দীর উন্মুক্ত করেছো তুমি আমার দুচোখে;
আমি নির্ভুল আয়না জল- থির হয়ে দাঁড়িয়েছি;
বুকটান সুদর্শন জলের নন্দন- 
দুচোখে তুমি দেখিতেছো কত কাল- 
চোখের পিপাসা ভরে!
কী দারুণ পুলকজাগানিয়া কটাক্ষ তোমার!
অগণন প্রশ্নের ডালি: 
এই কি পৌরুষ- তুমি দীপিত দীপন?
হৃদয়ে আজন্ম তৃষ্ণার বিশদ সোপান!
আহা, এত বেশি আনন্দ উন্মুখ প্রাণ দেখিনি তো!
এত বেশি উন্মুক্ত আমি হইনি কখনও!
এরূপ মুক্তিদান হয়নি তো আগে!

হায়, এমন উন্মোচন হয়নি তো আর! 
তার কাছে যতটা হয়েছি- হতে চাই...।
*****************


ওম জাগানো প্রেমান্ধ 


অই ওম থেকে গ’লে ঝ’রে পড়ি;
ঝ’রে পড়ি বলেই কি ঝর্নাধারা?
নাকি পতনের নৃত্য-ছন্দের
সোহাগ-নাম?...

সমতল খুঁজে পেতে ছুটতে ছুটতে
আমি বহুগামী জলের শরীর!
কত রূপে থেমে থেমে নামি-
ভরিয়ে যাই কত জলাশয় জলাধার;...

আমি নেচে নেচে নিচে নামি;
থেমে যাই সবুজ-শ্যামল কোন্ আঁচলে!...

আঁচলের মোহ ভুলে ফের কোন্ খেয়ালে
গভীরতা ভালোবেসে নিচে নামি;
বুনো ঢেউয়ে- স্রোতে কুলকুল গানে 
আমি ভ্রমণের আরামে ভাসি;
****************


তার চেয়ে আর প্রণয় কীসে


শিশুর মতো অবাক চোখে যে সড়ক ধরে হাঁটি-
তার চেয়ে আর প্রণয় কীসে, স্বদেশ মাতা, মাটি?
**************************


কবি পরিচিতি :


কামাল বারি : জন্ম ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৫; প্যারিদাশ রোড, ঢাকা।
পৈতৃক নিবাস : ডাঙ্গারপাড়, ভাঙ্গা, ফরিদপুর।
বাবা : বারি।
মা : জহুরা।
নব্বইয়ের দশকে কবিতা লেখা শুরু। লেখা হচ্ছে। তবে প্রকাশ খুব কম।
কবিতা ছাড়াও লিখছেন- গল্প, গান, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস ইত্যাদি।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ক্রিয়েটিভ ফিচার ও রিপোর্ট লিখে থাকেন মাঝে মাঝে।
সময় সময় সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশে ব্যস্ত থাকেন।
পেশা : সাংবাদিকতা।