Opu Hasnat

আজ ১২ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

বঙ্গবন্ধু না হলে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না : মোজাফফর চট্টগ্রামমুক্তিবার্তা

বঙ্গবন্ধু না হলে ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না : মোজাফফর

চট্টগ্রামস্থ হাতিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে হাতিয়া উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর  দারুল ফজল মার্কেটস্থ মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। হাতিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ সামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মোজাফফর আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদের  ডেপুটি কমান্ডার মোহাম্মদ শহীদুল হক চৌধুরী সৈয়দ ও পাহাড়তলী থানা কমান্ডার হাজী জাফর আহমদ। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রামস্থ হাতিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির  সহ-সভাপতি অধ্যাপক নরুন্নবী এমরান, সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, সদস্য মো. জাবের, মো. মোজাম্মেল হোসেন, শরীফ উদ্দিন, মো. ইদ্রিস, জামাল উদ্দিন, মতি লাল নাথ, মীর মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তাক উদ্দিন মিন্টু, মর্তুজা আলী বাবুল, মেজবাহ উদ্দিন, তাকদিরা খানম ও কোহিনূর বেগম। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ফুয়াদ পাশা কঁচির কন্যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ও শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট ড. লায়লা খালেদ আঁখিকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। আঁখির পক্ষে তার মাতা কোহিনূর বেগম এ স্মারক গ্রহণ করেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান ও একই সালের ৩০ অক্টোবর নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলাকে হানাদার মুক্ত করায় এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের  সহধর্মিনীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কমান্ডার মোজাফফর আহমদ। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭১ সালে তিনি সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এদেশের সর্বস্তরের মেহনতি মানুষ দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ নিয়ে পাকিস্তানি আলবদর ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছে। তিনি না হলে ১৯৭১ সালে আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। ৭১’র পরাজিত শক্তি রাজাকার, আলবদর ও কুলাঙ্গার বাহিনী পরাজয় মেনে নিতে না পেরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে। জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের চিত্র পাল্টে গেছে। সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে স্বাধীনতা বিরোধীরা নানান ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখাসহ মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বর্তমান সরকারকে আবারো নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারলে দেশবিরোধীরা আর মাথাছাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সরকারের উন্নয়নের মহাসড়কে সবাইকে শামিল হতে হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের দেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছে। প্রতিটি সূচকের দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে।  সরকারের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০২১ সালে এদেশ মধ্যম আয়ে, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে পৌঁছবে বাংলাদেশ। সবশেষে মিলাদ ও  দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।