Opu Hasnat

আজ ১৭ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৮,

গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেপ্তার ৫ রাজবাড়ী

গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যা রহস্য উদঘাটন গ্রেপ্তার ৫

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে চাঞ্চল্যকর মঞ্জু হত্যার ১৭ দিনে খুনিদের গ্রেফতার ও হত্যা রহস্য উদঘাটন করল গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। 

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করা মঞ্জু শেখকে (২৮) হত্যা করে তার মোটরসাইকেলটি ছিনতাই করে ওই চার খুনি। এ ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাত দূর্বৃত্তদের আসামী করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে মঞ্জুর বাবা বাবলু শেখ। থানা পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করে হত্যায় অংশ নেয়া চার খুনি ও মোটরসাইকেলের ক্রেতাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সরাসরি হত্যায় অংশ নেয় গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের আক্কাছ শেখের ছেলে কোবাদ শেখ (২০), সুলতান মৃধার ছেলে সাহাদত মৃধা (২৮), বিল্লাল মোল্লার ছেলে মনোয়ার হোনে মনু (২২), বাতেন সরদারের ছেলে রিপন সরদার (২৬) ও মোটরসাইকেলের ক্রেতা ফিরোজ বেপারীর ছেলে রুবেল বেপারী (২৮)।
ছিনতাই হওয়ার আগেই খুনিরা মঞ্জুর ডিসকভার মোটরসাইকেলটি মাত্র ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী মঞ্জুকে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করে সেই টাকা ভাগ করে নেয় চার খুনি। মঙ্গলবার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় গ্রেফতারকৃতরা অকপটে হত্যার কথা স্বীকার করে খুনের বর্ণনা দেয়।

গ্রেফতারকৃতরা জানায়, মঞ্জুর মোটরসাইকেলটি ছিনতাইয়ে উদ্দেশ্যে গত ২৮ অক্টোবর দুপুরের পর থেকে মঞ্জুকে নিয়ে তার মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘুরাঘুড়ি করে। এরপর রাতে ইলিশ মাছ কেনার কথা বলে মঞ্জুর মোটরসাইকেল স্থানীয় আক্কাছ আলী হাইস্কুলের সামনে রেখে খুনিদের একজন সেখানে অপেক্ষা করে অপর ৩ জন তাকে নিয়ে নদীপারের দিকে চলে যায়। সেখানে মঞ্জুকে হত্যা করতে গেলে সে সবকিছুর বিনিময়ে তাকে প্রাণে না মারার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করে। কিন্তু তারা ধারালো অস্ত্রদিয়ে তাকে কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে মঞ্জু প্রাণ বাঁচাতে দুইজনকে কামড়ে আহত করে। এরপর তারা মঞ্জুর মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ ফেলে রেখে দৌলতদিয়া সাইনবোর্ড এলাকায় মাত্র ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করে টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
নিহত মঞ্জুর ভাই আলমগীর শেখ বলেন, জীবিকার জন্য বাকিতে যে মোটরসাইকেলটি কিনে আমার ভাই যাত্রী পরিবহন করে সংসার চালাতো, সেই মোটরসাইকেলের জন্য তার প্রাণ দিতে হলো। পুলিশ দ্রæত আমার ভাই হত্যা রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের গ্রেফতার করায় আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। আমার ভাইকে আর পাব না, কিন্তু খুনিদের ফাঁসি হলে একটু সান্তনা পাব।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ এজাজ শফী জানান, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা  মিলির দিক নির্দেশনায় ক্লুলেস একটি মামলা অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করে দ্রæত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের শীতাকুন্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসামীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্ধী দিয়েছে।