Opu Hasnat

আজ ১৭ নভেম্বর শনিবার ২০১৮,

রিয়াজ হায়দার চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত চট্টগ্রাম

রিয়াজ হায়দার চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ এবং সর্ববৃহৎ সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। বিএফইউজে'র মনোনয়নে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হওয়ায় সাংবাদিক ও পেশাজীবী  নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডাঃ মো. ইসমাইল খান । 

দেশের পগতিশীল পেশাজীবীদের সর্বোচ্চ মোর্চা পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক তিনি। এছাড়া চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যেগেরও আহবায়ক।  চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের(সিইউজে) নির্বাচনে ৫৭ বছরের রেকর্ড ভোট পেয়ে  সভাপতি নির্বাচিত হন। দুইবার সাধারণ সম্পাদক ও দুইবার সাংগঠনিক সম্পাদক হন সিইউজের।      

চট্টগ্রামে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ উন্নয়ন ও সামাজিক রাজনৈতিক নানা  ইস্যুতে একাধারে  প্রবীণনেতা সাবেক মেয়র  এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়ে মাঠে  সোচ্চার ভুমিকা রাখেন এই পেশাজীবী নেতা।  

নানা সময়ে চিকিৎসক, শিক্ষক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মী-সংগঠক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার দাবী আাদায়ের সংগ্রামে বরাবরই মাঠে রয়েছেন রিয়াজ। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ায় সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীকে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম'র সভাপতি প্রফেসর ডাঃ একিউএম সিরাজুল ইসলাম ও দৈনিক খবরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান মো. আহমাদুর রহমান শাওনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিনন্দন জানিয়েছেন। 

বাংলাদেশ প্রতিদিনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি তিনি । এর আগে একাধারে কাজ করেন তিনি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা এবং টেলিভিশনে। কাজ করেছেন দৈনিক পূর্বকোণ, দৈনিক রূপালী, দৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয়সহ বিভিন্ন কাগজে। এছাড়া একুশে টেলিভিশন, যমুনা টিভি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীক বাংলা টিভি, এসটিভি ইউএস ও নিউজ টুয়েন্টি ফোরেও কাজ করেন চট্টগ্রাম প্রধান হিসেবে।  জাতীয় ও আঞ্চলিক অসংখ্য পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হয়। 

টেলিভিশন টকশো'র চট্টগ্রাম থেকেই জনপ্রিয় আলোচক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। নিজেও নিয়মিত টকশো সঞ্চালনা করে তৈরি করেছেন নিজস্ব দর্শক-ভক্ত বলয় । একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা এই অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক লিখেছেন  মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা সংগ্রাম নিয়ে গবেষণাধর্মী লেখা। গত দুই দশকে আলোচিত রাজনৈতিক প্রতিবেদন লিখে বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের কাছে অতি আলোচিত নাম-পরিচিত মুখও তিনি। 

ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরে রাজনীতি ও পর্যটন নিয়েও দারুণ লিখেছেন রিয়াজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২০১২সালে তিনি  আন্তর্জাতিক ন্যাম সম্মেলনেও অংশ নেন। পেশাগত সফর করেন  ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, জাপান, তুরস্ক, তাইওয়ান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ভারতসহ ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্রে।
একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বিগত জাতীয় নির্বাচনে 'চট্টগ্রাম বিভাগীয় নাগরিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিটি'র আহ্বায়ক ছিলেন । ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত 'জাতীয় পেশাজীবী সম্মেলনে" চট্টগ্রাম থেকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই সংসদ নির্বাচনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও সারা দেশের পেশাজীবীদের  সামনে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন।  

সাবেক মেয়র জননেতা  এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে নাগরিক কমিটি, বন্দর রক্ষা কমিটি ও সামাজিক নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস বিরোধী কমিটির সদস্য হিসেবে লালদীঘি মাঠ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বন্দর ভবন চত্বরসহ শহরজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান-সমাবেশে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেন । 

এছাড়া ২১আগস্টে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে রাজপথে সক্রিয় থাকা রিয়াজ ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদ, জ্ঞানজ্যোতি ভিক্ষু হত্যাকান্ড ও অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা, সাংবাদিক শামসুর রহমান কেবল, হুমায়ূন কবির বালু, সাগর-রুনি-শিমুল হত্যার  প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন । সিলেটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদিদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শিকাবিদ প্রফেসর ডঃ জাফর ইকবাল অনশন-ধর্মঘটের ডাক দিলে সেখানেও ছুটে যান এই সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা।  যশোরে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আক্রান্ত হলে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ছুটে যান সেখানেও ।

বিডিআর বিদ্রোহ'র নামে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদেও মাঠে ছিলেন তিনি। এ নিয়ে লিখেছেনও পচুর । 

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ করা ১৯৫  পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার বিচার দাবিতে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি'র নেতৃত্বে গঠিত গণতদন্ত কমিশনের দাবিকে  চট্টগ্রামের ছড়িয়ে দেয়ার জন্যও সংগঠকের ভুমিকা পালন করেন রিয়াজ। কমিশনের চট্টগ্রামের প্রথম সমাবেশটি সঞ্চালনাও করেন তিনি ।   

২০০৬ সালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের উপর পুলিশের বেধড়ক হামলার প্রতিবাদে ন্যায্য বিচার চেয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে পেশাজীবীদের আন্দোলন গড়ে তোলেন রিয়াজ। সেই ঘটনায় জন্য  তিন মন্ত্রণালয় বৈঠকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন  তৎকালিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। যুদ্ধাপরাধি কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবির মধ্য দিয়ে সৃষ্ট গণজাগরণের চট্টগ্রামের প্রধানতম এই  সংগঠক সে সময় হামলারও শিকার হন। অল্পের জন্যই প্রাণে বেঁচে যান।

শৈশব থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাশ্রিত প্রতিবাদি এই সংগঠক স্কুল ছাত্রলীগ থেকেই রাজনীতি সংশ্লিষ্ট। কৈশোরে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, মুজিব সেনা, মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রকমান্ড, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন 'আমরা পলাশ' ও 'ত্রিতরঙ্গে' সম্পৃক্ত ছিলেন। দক্ষিণ বাকলিয়ায় প্রতিষ্ঠা করেন 'বঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী'। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সংগঠনের উপদেষ্টাও।