Opu Hasnat

আজ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৮,

টেকনাফে পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩ কক্সবাজার

টেকনাফে পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ৩

কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবি ও পুলিশের পৃথক অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা পিস উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় বসতঘরে ইয়াবা রাখার দায়ে ৩ নারীকেও আটক করা হয়।

টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আছাদুদ জামান চৌধুরী জানান, রবিবার ভোরে হ্নীলা বিওপির সুবেদার মোঃ ইউসুফ আলীর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ টহল দল নিয়ে মৌলভী বাজার এলাকায় ধান ক্ষেতের মাঝে অবস্থিত একটি কুঁড়েঘরে তল্লাশি করে ঘরের একপার্শ্বে ময়লার ভেতর একটি প্লাষ্টিকের বস্তা দেখতে পায়।

তিনি আরও বলেন, প্লাষ্টিকের বস্তাটি খুলে গণনা করে ২ কোটি ১০লাখ টাকার মূল্যমানের ৭০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। যা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা,মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মিডিয়া-কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।

এছাড়া একইদিনে টেকনাফের নাজির পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের ৩ নারীকে ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। 

আটককৃতরা হলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া জিয়াউর রহমান জিয়ার স্ত্রী রোজিনা আকতার (২২), একই পরিবারের নুরুল ইসলামের স্ত্রী নুর বেগম (৫০) ও আবদুর রহমানের স্ত্রী ইসমতারা (২০)। এরা সবাই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া পরিবারের সদস্যরা। 
 
রবিবার বিকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ থানায় সদ্য যোগদানকারি অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ। তিনি জানান, ‘ইয়াবার গ্রাম’ হিসেবে খ্যাত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া এলাকায় এক ইয়াবা গডফদারের বাড়িতে ইয়াবা মজুদ রাখা হয়েছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনিসহ পুলিশের একটি টিম শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। 

এসময় তার ‘রাজপ্রসাদ’ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় জিয়াউর রহমানের স্ত্রীসহ তিন নারীকে আটক করা হয়। জিয়া স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। 

অভিযানের সময় বাড়িতে তাকে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওসি বলেন, সরকার টেকনাফ থেকে ইয়াবা নির্মুল করতে আমাকে এই অঞ্চলে পাঠিয়েছে। ফলে ইয়াবা নির্মুল করতে জীবন বাজিঁ রাখতে প্রস্তুত। ইয়াবার ব্যবসার সঙ্গেই যত বড়ই প্রভাবশালী জড়িত হউক তাদেরকে শেষ করে দেওয়া হবে। ইয়াবার শেকড় তুলে নেওয়া হবে। এঘটনায় শীর্ষ গডফাদার ইয়াবা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই আবদুর রহমানকে পলাতক আসামী করে মাদক মামলা রুজু করে আটক নারীদের কক্সবাজার আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।