Opu Hasnat

আজ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৮,

মুন্সীগঞ্জে নিভৃত আবাসস্থল মা-ইলিশরা পদ্মা-মেঘনায় সম্পূর্ন অরক্ষিত মুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে নিভৃত আবাসস্থল মা-ইলিশরা পদ্মা-মেঘনায় সম্পূর্ন অরক্ষিত

ইলিশের নিভৃত আবাসস্থল মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ১১ দিনে পৃথক অভিযানে শতাধিক জেলেকে কারাদন্ড, ১৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করলেও অপতৎপরতায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সফলতা  ম্লান হয়ে পড়েছে।

অপরিকল্পিত অভিযান, অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি বন্ধে অভিযান না করা এবং প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়হীতায় মা ইলিশ শিকার ও কেনাবেচা অব্যাহত থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বাহেরচরে পদ্মা নদীতে অভিযানে গেলে অসাধু জেলেদের ইটপাটকেল ছুড়ে মারার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ফাঁকা গুলিবর্ষণের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অপারগতায় অভিযান পন্ড হয়ে যায়। ফলে পিছু হটতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন দুই নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে প্রশাসনের নিস্কিৃয়ক্রয়তা দেখা দেওয়া এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় পদ্মা ও মেঘনা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু জেলেরা বেপরোয়াভাবে মা ইলিশ শিকার অব্যাহত রেখেছে। তারা প্রতিদিনই কয়েকশ' মণ মা ইলিশ নিধনের পর পদ্মা-মেঘনা তীরবর্তী প্রামগুলোতে ভাসমান হাট বসিয়ে দেদার ইলিশ কেনাবেচা করছে।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞার ১১ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এ সময়ে পৃথক অভিযানে শতাধিক জেলেকে কারাদÐ, জব্দ করা ১৫ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট ও বিপুল পরিমাণের মা ইলিশ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত, মৎস্য অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে ১০ অক্টোবর টঙ্গিবাড়ীর বাহেরচরে অসাধু জেলেরা ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা চালায়। এ সময় দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ফাঁকা গুলিবর্ষণের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ। এতে পিছু হটতে বাধ্য হলে পÐ হয়ে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান। এ ছাড়া গত শুক্রবার লৌহজংয়ের ঝাউটিয়া চর থেকে জেলেদের কাছ থেকে মা ইলিশ ক্রয় করে ফেরার পথে ক্রেতাদের আটকের চেষ্টাকালে তোপের মুখে পড়ে নাজেহাল হয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে থাকা দল।

লৌহজং উপজেলা বিআরডিবির চেয়ারম্যান মুনীর হেসেন মোড়ল জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতার কারণে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল হচ্ছে না। তারা অসাধু জেলেদের প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই পদ্মা নদী এখন অরক্ষিত। এ প্রসঙ্গে লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইদ্রিস তালুকদার জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতির কারণে পদ্মা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো যাচ্ছে না।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, মুক্তারপুরসহ আশপাশ এলাকার প্রায় ৫ শতাধিক জাল কারখানায় উৎপাদিত অবৈধ কারেন্ট জাল সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। এসব কারখানায় অভিযান চালাতে যথেষ্ট বরাদ্দ না পাওয়াসহ একাধিক সমস্যার কারণে নিয়মিত  অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এ ছাড়া মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন নদীতে সময় দিতে হচ্ছে। তাই কারেন্ট জাল তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো যায়নি। শিগগিরই কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।