Opu Hasnat

আজ ২২ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৮,

মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষে আগাম প্রস্তুতি প্রান্তিক চাষিদের কৃষি সংবাদমুন্সিগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জে চলতি মৌসুমে আলু আবাদের লক্ষে আগাম প্রস্তুতি প্রান্তিক চাষিদের

চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে প্রান্তিক আলু চাষিরা আলু আবাদের জন্য এখনই সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। নিচু জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই আলু চাষিরা মহা উৎসবের মধ্যে কোমর বেঁধে আলু আবাদে নেমে পড়বেন। ইতোমধ্যেই উঁচু জমি থেকে পানি নেমে গেছে। তবে আলু আবাদের জন্য জমিতে এখানো জো আসেনি।

এক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষিবিদদের ধারনা হচ্ছে অক্টোবরের চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকেই চাষিরা আলু আবাদে নামবে। এই আবাদ আগামী ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় যে, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়ে ছিল ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। কিন্তু সেই অর্থ বছরে আলু আবাদ হয়ে ছিল ৩৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। আর এর আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮শ’ ৫৮ মেট্রিক টন। কিন্তু সেই অর্থ বছরে আলু উৎপাদন হয়ে ছিলো ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯শ’ ১২ মেট্রিক টন আলু। সেই অর্থ বছরে বৈরী আবহাওয়ায় কয়েকদিন টানা বৃষ্টির কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ি আশানুরূপ আলু উৎপাদন হয়নি।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: খোরশেদ আলম দেওয়ান জানান যে, জাতীয় পর্যায়ে প্রতি এক হেক্টর জমি আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২০ মেট্রিক টন আলু। কিন্তু মুন্সীগঞ্জে প্রতি এক হেক্টরে আলু উৎপাদন হয় ৩০ মেট্রিক টন আলু। এখানকার জমি মুলত আলু উৎপাদন উপযোগি জমি।

তিনি আরো জানান, মুন্সীগঞ্জের বেশিরভাগ আলু জমিই নিচু এলাকায়। আর নিচু এলাকার জমিগুলো বর্ষার পানিতে বেশিরভাগ সময়ই ডুবে থাকে। এ কারণে বর্ষার সময় জমিতে প্রচুর পরিমাণে পলি মাটি পরে। যা পরে সেই জমি আলু উৎপাদনে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা যায় যে, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মুন্সীগঞ্জ আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার হেক্টর জমি। আর এর বিপরিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৯৯ হাজার ৯শ’ ১২ মেট্রিক টন আলু।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ পরিচালক মো: হুমায়ূন কবির জানান, মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদের সাথে প্রায় ৯৯ হাজার চাষি জড়িত রয়েছেন। তাদের প্রাণ পণ চেষ্টায় মুন্সীগঞ্জে সব সময়ই আলুর বাম্পার ফলন হয়ে থাকে।

মুন্সীগঞ্জে মোট হিমাগার রয়েছে ৬৮টি। এই হিমাগার গুলোর ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৯শ’ ৭৭ মেট্রিক টন আলু। এইসব হিমাগারে চাষিরা খাবার আলুর পাশাপাশি ৫০ থেকে ৫৫ মেট্রিক টন আলু বীজ সংরক্ষণ করে থাকেন। আর সেই আলু বীজ দিয়েই চাষিরা পরবর্তিতে আলু আবাদ করে থাকেন। প্রকৃত আলু চাষিরা আলুর বেশি উৎপাদনের আশায় প্রথমবার হল্যান্ডের বাক্স্রর আলু আবাদ করে সেখান থেকেই বীজ আলু সংরক্ষণ করেন। তবে আলু চাষিরা ঐ আলু বীজ দু’বারের বেশি আবাদ করেন না। লোকাল এ পদ্ধতিতে আলু বীজ চাষিদের অনেক উপকারে আসে এবং চাষিদের আলু বীজের চাহিদা পুরণ করে থাকে।

এখান আর আগের মতো বিদেশী আলু বীজ ও বিএডিসি’র আলু বীজের জন্য আলু চাষিদের অপেক্ষা করতে হয় না। তাদের নিজেদের কাছেই হিমাগারে মজুদ আলু বীজ দিয়েই চাষিরা প্রতিবছর আলু আবাদে মেতে উঠেন।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পুরাবাজারে সরকারিভাবে বিএডিসি’র হিমাগার তৈরি করা হয়েছে গত বছর থেকেই। বিএডিসি’র হিমাগারের ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ২ হাজার মেট্রিক টন আলু বীজ। তবে চলতি অর্থ বছরে চাষিদের চাহিদা মেটাতে এখান থেকে চাষিদের আলু বীজ দেয়া হবে।

মুন্সীগঞ্জে আলু বীজের চাহিদা রয়েছে ৭৭ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন। মুন্সীগঞ্জের আলু বীজ ব্যবসায়িরা ৫০ কেজির বাক্স হল্যান্ড থেকে এ বছর আলু বীজ আনবেন প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। সেক্ষেত্রে সেই আলু বীজ মুন্সীগঞ্জ লোকাল বাজারের চাহিদা পুরণে সক্ষম হবে বলে এখানকার আলু চাষিরা মনে করেন।

মুন্সীগঞ্জে প্রচুর পরিমাণ আলু উৎপাদন হলেও হিমাগারের ধারণ ক্ষমতার অভাবে আলু চাষিরা গ্রাম্য তিন পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ করে থাকেন। এক হচ্ছে চৈত্র মাসে আলু জমি থেকে তোলার পর জমিতেই আলু নাড়া দিয়ে ভুর করে রেখে দেয়। জমিতে পানি না আসা পর্যন্ত প্রায় দুই মাস এ পদ্ধতিতে আলু জমিতেই রেখে চাষিরা বিক্রি করে থাকেন। অনেক চাষি নিজের বসবাড়ির ভেতর ও আলাদা মাচা ঘর তৈরি করে সেখানে ছয় মাসের মতো আলু রেখে ধীরে ধীরে বিক্রি করেন।