Opu Hasnat

আজ ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

মেডিকেলের ভুয়া প্রশ্ন ফাঁস : পাঁচজন রিমান্ডে আইন ও আদালত

মেডিকেলের ভুয়া প্রশ্ন ফাঁস : পাঁচজন রিমান্ডে


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার প্রতারকচক্রের পাঁচ সদস্যের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার এই পাঁচজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় পল্টন থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জালাল উদ্দিন।


পাঁচ আসামি হলেন- পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ার কালাম গাজীর ছেলে কাউসার গাজী, চাঁদপুর মতলবের জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল মিয়া, মাদারীপুরের কালকিনির হাসানুর রশীদের ছেলে তারিকুল ইসলাম শোভন, নওগাঁ পত্মীলার আলমের ছেলে রুবাইয়াত তানভির (আদিত্য), টাঙ্গাইল কালিহাতীর আনসার আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান ইমন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। দেশে নতুন এই আইনে এটি প্রথম মামলা।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ প্রশ্ন ফাঁসকারী প্রতারণাচক্রের মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, বর্তমানে তারা প্রশ্নফাঁস করতে না পেরে নিজেদের মতো প্রশ্ন তৈরি করেন। এরপর বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে ১০০ ভাগ গ্যারান্টি- এমন প্রচারণা চালিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।’
 
নজরুল ইসলাম বলেন, মাস্টারমাইন্ড কাউসার গাজীকে এ কাজে সহযোগিতা করত তার বন্ধু সোহেল মিয়া। তিনি অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভুয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতেন।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই প্রতারকচক্র সিআইডিকে আরও জানায়, তারা দীর্ঘদিন এ প্রশ্নপত্র ফাঁসের কাজ করে আসছেন। কিন্তু এবার প্রশাসনের তৎপরতায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করতে পারেননি। কিন্তু ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করে ১০টি ফেক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে মেডিকেলের প্রশ্ন পাওয়ার প্রচারণা চালান। তারা ফেক প্রশ্নপত্র তৈরি করতে বিভিন্ন সাজেশন বই, বিগত বছরগুলোর প্রশ্নপত্র একত্রে করে একটি ভুয়া প্রশ্নপত্র তৈরি করেন।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম টিম বুধবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর কাজলা পার, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে দুটি মোবাইল ও একটি বিকাশ রেজিস্ট্রার খাতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করে। একই দিন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৯টার দিকে বাড্ডা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আলিফ নগর এলাকা থেকে তিনজনকে তিনটি মোবাইল ও দুটি ল্যাপটপসহ গ্রেফতার করা হয়।


বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে মামলা হয়েছে সেটি তদন্তধীন। আমরা আশা করি, এ প্রতারকচক্রের আরও কতিপয় সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারব।’