Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

৩ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার কার্যক্রম স্বাস্থ্যসেবাচুয়াডাঙ্গা

৩ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার কার্যক্রম

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা ৩১শর্য্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০শয়্যায় উন্নীত হলেও তার কার্যক্রম শুরু হয়নি। যেখানে এ্যাম্বুলেন্স নেই, এ-ক্সে মেশিন নেই নয়জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র চারজন। ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই অঞ্চলের রোগীসাধারন। 
সাড়ে ৮কোটি টাকা ব্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চত্বরে সুরম্য ভবন নির্মিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ৭ জুলাই তৎকালিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্ত আবু হাসানুজ্জান নুপুরের নিকট  ভবনটি হস্তান্তর কারহয়। এখানে সমস্ত কার্য়ক্রম চালু হলেও প্রয়োজনীয় সংখক লোকবল ও খাবার বরাদ্ধ না পাওয়ায় ৫০শর্য্যার কার্যক্রম চালুকরা সম্ভব হয়নি।      

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নয়জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ও দুইজন সাব সেন্টার থেকে আনা মেডিকেল অফিসার দিয়ে চালানো হচ্ছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। বাকী ৫টি পদ দীর্ঘদিন শুণ্য রয়েছে। 

জরুরী রোগী আনা নেওয়ার একমাত্র যান এম্বুলেন্সটি দীর্ঘ ১০বছর যাবত নষ্ট। এখান থেকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের দুরুত্ব ১৫ কিলোমিটার। রাতে কোন মুমুর্ষ রোগী চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করলে যনবাহন পাওয়া দুরুহ হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের দুরুত্ব তিন কিলোমিটার  পাখিভ্যান, ইজিবাইক, আলমসাধুতে  নিতে হলে দামুড়হুদা সদরে আসতে হয়। এতে যেমন সময়  বেশি লাগে বাড়তি খরচও গুনতে হয় ভুক্তভুগি দেরকে।

আট বছর আগে নষ্ট হওয়া এ-ক্সরে মেশিনটি মেরামতের চেষ্টা করে মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় মেশিনটিকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ-ক্সেরে করতে হলে দামুড়হুদা উপজেলা সদর ও চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে দ্বিগুনেরও বেশি খরচ করে এ-ক্স্র করে আনতে হয়।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদটিও শুন্য। নারী গাইনি চিকিৎসক পদ শুন্য থাকায় উপজেলার অধিকাংশ গাইনী রোগিদের যেতে হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ও গাইনী বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকলেও দুজনই সাময়িক আদেশে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। একইভাবে সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের একমাত্র পদের চিকিৎসক প্রেষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত। একটি মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেশিয়া) ও ডেন্টাল সার্জনের পদ শুন্য। মেডিকেল টেকনোলজি  (রেডিও গ্রফার), যক্ষা ও কুষ্ট নিয়ন্ত্রণ সহকারি পদ শুন্য রয়েছে। 

দামুড়হুদা উপজেলা সদরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রবিউল হেসেন বলেন, রাতে  কেউ যদি কোনো দূর্ঘটনায় আহত হন তাকে এই হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে যদি রেফার্ড করার প্রয়োজন হয় তাহলে বিপাকে পড়তে হয় রোগির লোকজনকে। এম্বুলেন্সনা থাকায় রোগিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিতে আলমসাধু, ইজিবাইক, সিএনজি নিতে ছুটে আসতে হয় ৩ কিলোমিটার দুরে দামুড়হুদা সদরে। এতেকরে রোগী বহনে যেমন সময় নষ্টহয় তেমনি বাড়তী খরচ গুনতে হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল বলেন, হাসপাতালটি ৫০শর্য্যায় উন্নীত হওয়ায় এখানে সমস্ত কার্য়ক্রম চালু করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও খাবারের বরাদ্দনা পাওয়ায় ৫০শয্যার কার্যক্রম চালুকরা সম্ভব হয়নি। খাবারের বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় জনবল পেলে কার্যক্রম চালুকরা হবে। এ্যাম্বুলেন্স ও এক্সরে মেশিনের ব্যাপারে প্রায়ই উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়। কোনো কাজ হয়নি। ৩১ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন ৩০-৩১ জন রোগি ভর্তি থাকে। আউটডোরে প্রতিদিন ৪০০-৬০০ রোগি চিকিৎসা নেন। প্রধান সড়কের পাশের গ্রামগুলোর রোগিরা এখানে কম আসেন। সংকট দূর করে এখানকার সেবার মান বাড়ানো গেলে আরো বেশি মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে। একজন মেডিসিন ও গাইনি ডাঃ পেলে সেবার মান বাড়বে ও রোগীদেরকে জেলা সদরে যাওয়ার প্রয়োজন হবেনা বলে তিনি জানান।