Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

কুমিল্লায় ১০টাকায় শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক নারী ও শিশুকুমিল্লা

কুমিল্লায় ১০টাকায় শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক আটক

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ৫বছরের এক শিশুকে ১০টাকার প্রলোভন দেখিয়ে একটি নির্জন ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় চলছে। শিশুটি এখন মুমূর্ষ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই ঘটনায় ধর্ষিতা শিশুর পিতা বাদী হয়ে দেবীদ্বার পৌর এলাকার কাজীবাড়ির কাজী খোকন’র ছেলে ধর্ষক কাজী আশিকুর রহমান(১৬)কে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দেবীদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। 

পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় কাজী আশিকুর রহমান(১৬)কে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষক পুলিশের নিকট ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছে। 

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টায়, দেবীদ্বার পৌরসভার মোহনা আবাসিক এলাকার ‘দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়ক’র পাশে অবস্থিত ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্ত’র কার্যালয়ের পেছনের একটি পরিত্যাক্ত নির্জন বাড়িতে।

ঘটনার সময় শিশুটির আর্তচিৎকারে পথচারীরা শিশুটিকে রক্তাক্ত ও মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করলেও ধর্ষক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা শিশুটিকে প্রথমে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুটি রাস্তায় একা হাটতে দেখে ধর্ষক কাজী আশিক তাকে ১০টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলে নিয়ে যায়। এসময় তার মা’ তাকে নিয়ে যেতে বলেছে বলেও জানায়। আশিক ওই শিশুটিকে বলে, পাশের ওই বাসায় তার মা’ গৃহপরিচিকার কাজ করছে। পরে মোহনা আবাসিক এলাকার ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্ত’র কার্যালয়ের পেছনের একটি পরিত্যাক্ত নির্জন বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকে মারধরও করে। শিশুটির আর্তর্-চিৎকারে স্থানীয় এক মহিলা ও উপজেলার মাশিকাড়া গ্রামের দু’জন পথচারী ঘটনাস্থল থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক রক্তাক্ত শিশুটিকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মাহবুবা আলম জানান, শিশুটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ায় আশংকাজনক অবস্থা দেখে দ্রæত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। 

শিশুটি বাবা সাংবাদিকদের জানান, আমার মেয়েকে পাষন্ড কাজী আশিক ১০টাকা দিবে বলে প্রলোভন দেখিয়ে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায় এবং ওই খানে তাকে ধর্ষণ করে। আমার মেয়ে বাঁচার জন্য কান্না করলে ওই পাষন্ড আমার মেয়েকে মার ধরও করে। আমার মেয়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, ডাক্তার বলছে তাকে রক্ত দিতে হবে। 

শিশুটি উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের ভৈষখোলা (পদ্মকোট) গ্রামের এক রিক্সা চালকের মেয়ে, মা’ও গৃহপরিচিকার কাজ করে। বর্তমানে সে ছোট আলমপুর দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার হেলাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। শিশুটিও বাবা মায়ের সাথে থাকত। 

এ ব্যাপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সরকার আবদুল্লাহ- আল- মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ধর্ষণের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাজী আশিকুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। ধৃত আসামী কাজী আশিক ধর্ষনের সাথে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করেছে। শনিবার তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হবে।