Opu Hasnat

আজ ১৯ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

বঙ্গবন্ধু না থাকায় আমাদের দেশ এখনও ৪২ বছর পিছিয়ে: শিল্পমন্ত্রী ঝালকাঠি

বঙ্গবন্ধু না থাকায় আমাদের দেশ এখনও ৪২ বছর পিছিয়ে: শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই দাবী আদায়ে সোচ্চার ছিলেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হক তার দাবীতে সন্তুষ্ট হয়ে পুরণ করেছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধু উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলে তারা বঙ্গবন্ধুকে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি করিয়ে বেকার ছাত্র হোস্টেলে থাকার সুযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো ৩০ লাখ শহীদ, ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জত ও সাড়ে ৩ কোটি বাঙালীগ সর্বহারা হবার বিনিময়ে। তিনি আরো বলেন, ১৯৪০ সালে বিশ্বযুদ্ধের প্রভাব এ উপমহাদেশে না পড়লেও পরবের্তিতে দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব ঠিকই পড়েছিলো। মানুষ এবং কুকুর ডাস্টবিনে পরিত্যক্ত ময়লা ভাগাভাগি করে খেয়েছিলো। তা কাটিয়ে উঠতেও ওই সময়ে ১০ বছর লেগে গিয়েছিলো। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছরেই দেশের অর্থনৈতিক চাকা স্বচল করতে পারছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপন করা। এ লক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেছিলেন। স্বপরিবারে তাকে হত্যা করা না হলে ১৯৭৭ সালেই আমাদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করা সম্ভব হতো। তা এসে ২০১৮ সালে উৎক্ষেপন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু না থাকায় আমাদের দেশ এখনও ৪২ বছর পিছিয়ে আছে। “ক্লাবে সংগঠিত করে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কিশোর-কিশোরীদের ক্ষমতায়ন” শীর্ষক আলোচনাসভা ও কিশোর কিশোরী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঝালকাঠি জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমী হলরুমে রোববার দুপুরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর থেকে দেশের সর্ব ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার হার শতকরা ৪৭ ভাগ থেকে ৭১ ভাগে উন্নীত হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি করায় তাকে সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। সমাজিক অবক্ষয় রোধ, ভদ্রতা, শিষ্টাচার, আদর্শ, সম্মান ও নীতি-নৈতিকতাবোধ শিক্ষার জন্য কিশোর-কিশোরী ক্লাব গঠন করা হয়েছে। এখানে আড্ডার জন্য ক্লাব গঠন করা হয়। ক্লাবে বিভিন্ন সফল মনিষীর, বিখ্যাত দার্শনিক, বিভিন্ন দেশের আইডল ব্যক্তিদের রচিত বই থাকবে। যা পড়ে নিজেকে একজন সামাজিক ও সফল জীব হিসেবে গঠন করতে পারে। ইভটিজিং ও মাদকের প্রতি ধিক্কার জানাবে, বাল্যবিবাহ রোধে সোচ্চার থাকবে, নিজেদের (সদস্যদের) ভাই-বোন সম্বোধন করে চলাচলটা ভাই-বোনের মতোই করতে হবে।

গঠন মূলক ও শিক্ষনীয় গল্প করতে করতে হবে। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার। অনুষ্ঠানে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আলতাফ হোসেন’র সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার। এসময় শ্রেষ্ঠ সংগঠক নির্বাচিতসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নির্বাচিতদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি শিল্পমন্ত্রী আমু। পরে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এর পূর্বে সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্ত¡র থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমী ভবন হলরুমে গিয়ে মিলিত হয়।