Opu Hasnat

আজ ১৯ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

কিশোরদের ‘মুখোশ বাহিনী’ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিশোরগঞ্জ

কিশোরদের ‘মুখোশ বাহিনী’ হত্যাকাণ্ডে জড়িত

অনেকদিন ধরে কিশোরগঞ্জ শহরবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম ‘মুখোশ বাহিনী।’ ১৫/২০ জনের একটি মুখোশধারী কিশোর দল বিনা কারণে হঠাৎ হামলা-ভাঙচুর বা কাউকে কুপিয়ে আহত করছে। অপরাধ ঘটিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই হাওয়া হচ্ছে মুখোশধারীরা। অনেক চেষ্টা করেও পুলিশ তাদের ধরতে পারছিল না। অবশেষে সামাউল হক নিলয় নামে মুখোশ বাহিনীর এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরগঞ্জ শহরে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে স্কুলপড়ুয়া কিশোর অপরাধী সামাউল হক নিলয়। সে শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. কাজল মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিলয় পুলিশকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর অপরাধী দল শহরে মুখোশ পরে হামলা-ভাঙচুর ও খুন-জখমের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের হামলায়, শহরের বত্রিশ এলাকায় রাজা নামে এক যুবক নিহতসহ অন্তত ১০/১১ জন গুরুতর আহত হয়। এ ছাড়াও বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।

নিলয়কে গ্রেফতারের পর অন্য কিশোর অপরাধীদের আটকে মাঠে নামে পুলিশ। ইতোমধ্যে এ চক্রের আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, অনেক দিন ধরে শহরে বিভিন্ন এলাকায় মুখোশ পরা একটি অপরাধী চক্র হামলা-ভাঙচুরের তাণ্ডব চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পুলিশ তাদের চিহ্নিত করতে পারছিল না। গত ১১ সেপ্টেম্বর এ ধরনের একটি হামলার ঘটনায় শহরের আজিমুদ্দিন স্কুলের ১০ম শ্রেণির ছাত্র নিলয়কে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নেয়া হলে সে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাসহ অন্তত চারটি সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নিলয়কে শনাক্ত করা হয়েছে জানিয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, নিলয়কে আরও কয়েকটি মামলায় রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। নিলয়সহ মাদকাসক্ত ১৫/২০ জন স্কুল পড়ুয়া কিশোর অপরাধী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, গত ১৩ মার্চ শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় আলমাস রেজা চৌধুরীসহ দুইজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে গত ১১ সেপ্টেম্বর শহরের শোলাকিয়া এলাকা থেকে নিলয়কে গ্রেফতার করা হয়।

পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, গত ৯ এপ্রিল শহরের তেরিপট্টি বৌলাই উত্তর রাজকুন্তি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ও ব্যবসায়ী রাজা হত্যায় নিলয় সরাসরি জড়িত। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে চাপাতি দিয়ে রাজাকে কোপাতে দেখা গেছে। গত ৩০ জুলাই বিকেলে কিশোরগঞ্জ থানার অদূরে ডিজি ল্যাবের সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডিজি ল্যাবের ম্যানেজার অনোয়ার হোসেন বাচ্চুকে। অন্য কয়েকজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওই হামলায় অংশ নেয় নিলয়। এ ছাড়াও গত ৯ সেপ্টেম্বর নীলগঞ্জ রোড এলাকায় নিলয়ের নেতৃত্বে রাস্তার দুইপাশে ৮/১০টি দোকান ভাঙচুর করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

ওসি জানান, নিলয়কে দু’দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত থাকায় একটি হত্যাসহ আরও তিনটি মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। দুটি মামলায় তাকে ৭ দিন ও ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। নিলয় আরও কোনো ঘটনায় জড়িত ছিল সেটি খুঁজে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে তার আরও চার সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।