Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে সৈয়দপুরে গৃহহীনদের মধ্যে আনন্দের বন্যা নীলফামারী

প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর পেয়ে সৈয়দপুরে গৃহহীনদের মধ্যে আনন্দের বন্যা

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে ৩০০টি বসত ঘর করে দেওয়া হচ্ছে গৃহহীনদের বসবাসের জন্য সৈয়দপুর উপজেলায়। উপজেলার ৫ ইউনিয়নে যাদের জমি আছে ঘর নেই এমন ৩০০ পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে এসব গৃহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর সাড়ে ১৬ ফুট- সাড়ে ১৫ ফুট করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরগুলোর ফ্লোর পাকা, সামনে খোলা বারান্দা, আরসিসি পিলার, পাশে ও উপরে টিন দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে স্যানিটারী ল্যাট্রিনের সু-ব্যবস্থা।

প্রত্যেকটি ঘর নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা করে। এর মাধ্যমে সমাজের অসহায়, দারিদ্র ও ভাসমান মানুষের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। উন্নয়ন ঘটবে এসব পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের জীবনমানের। আর তাই প্রচন্ড খুশি সমাজের অসহায় মানুষগুলো ঘর পেয়ে। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

মানুষের প্রধানতম পাঁচটি মৌলিক চাহিদার অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশে উন্নয়নবান্ধব সরকারের অভাবে মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে হোঁচট খেতে হয়। উন্নয়নশীল অগ্রযাত্রার যুগোপোযোগী পরিবর্তনে বর্তমান সরকার যথেষ্ট এগিয়ে।

এই প্রকল্পের কাজটি সৈয়দপুর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার মো: বজলুর রশীদ নিজস্ব প্রচেষ্টায় উপজেলার লোকজনের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে বরাদ্দ এনেছিলেন।  

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়নে সরকার বরাদ্দকৃত ঘর নির্মাণের কাজ  চলছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন প্রত্যেকটি গ্রামে সাবেক ইউএনও মোঃ বজলুর রশীদরে মতই আশ্রায়ন-২ প্রকল্প বাস্তবায়ন টাক্সফোর্স এর সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এর নেতৃত্বে ছুটছেন অন্য সদস্যগণ। যেখানে সামান্য ত্রুটি বা অভিযোগ আছে সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ‘যার জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ’ শীর্ষক উপ-প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন কমিটির পাশাপাশি নীলফামারী জেলা প্রশাসক প্রতিদিন খোঁজ খবর নিচ্ছেন। এমনকি মাঠ পর্যায়ে এসে তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। যাতে কোনক্রমেই অনিয়ম না হয়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) পরিমল কুমার সরকার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক এই কাজ যেন বাধগ্রস্থ না হয় সেজন্য আমরা রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিদের মাধ্যমে গৃহহীনদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গৃহ নির্মাণের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যার প্রাপ্তির ফলে সমাজের অবহেলিত মানুষগুলোর সামাজিক মূল্যায়ন বৃদ্ধিসহ প্রত্যাহিক জীবনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে। কাজের গুনগত মান বজায় রাখার জন্য নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

ঘর নিমার্ণ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাকখারুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রত্যেক পর্যায়ে আমরা গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। কাঠ, সিমেন্ট, ইট, বালু, যাতে মান সম্পন্ন হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি।

কাশিরাম ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল চৌধুরী বলেন, আমার ইউনিয়নে ৬০ জন গৃহহীনের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রত্যেকটি ঘরসহ টয়লেট নিয়মমাফিক নির্দেশনা মোতাবেক নির্মাণ করা হচ্ছে। যেহেতু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীন গরীব মানুষের জন্য ঘর নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছেন। সে কারণে আমরা চেষ্টা করছি যাতে ভালোভাবে ঘর নির্মাণ করা যায়। 

খাতামধুপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মজিবর রহমান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গরীব দুঃখী মানুষের মায়ের মত। এ ইউনিয়নে কাজ প্রায় শেষের দিকে। 

খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, যেসকল ঘরহীন মানুষের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, তারা যে কত খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। অনেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেছেন। 

নীলফামারী -৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকত চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই জনগণের কল্যাণের কথা ভাবেন। গরীব দুঃখী মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পূণর্বাসনের জন্য নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তিনি। দেশের জনগণ কিভাবে ভালো থাকবেন স্ইে চিন্তা ভাবনায় তিনি নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গৃহহীনদের জন্য ৩০০টি গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন সৈয়দপুর উপজেলায়। এসব কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের কাজ কিছুটা আমিও তদারকি করেছি। এর মধ্যে খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের ধ্রুব চন্দ্র রায়ের ঘরটি উদ্বোধন করেছি।

উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বালাপাড়া গ্রামের ছপিয়া বেগম কোন রকম একটি ঝুপড়ির মধ্যে বাস করতেন। অর্থের অভাবে ঘর করতে পারেন নি। বর্ষা মৌসুমে ও শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হত তার। এখন প্রধানমন্ত্রীর ঘরে থাকবেন। আর কষ্ট পেতে হবে না। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য অনেক দোয়া করেছেন।

এদিকে ঘর নির্মাণের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে গেলে গৃহহীন অনেকের সাথে কথা হয়। বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের লক্ষণপুর দোলাপাড়া গ্রামের করিম উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মায়ের মত কাজ করেছেন। নিজের মত করে করে পরিবার নিয়ে ঘরে থাকবো এর চেয়ে খুশি আর কি হতে পারে। একই ইউনিয়নের বাড়াইশাল শেখ পাড়া গ্রামের বাক প্রতিবন্দি মোতালেব ইশারায় ঘর পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে। খাতামধুপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের টিংপাড়া গ্রামের ছপিয়া বেওয়া বলেন, আগে হামার কোন ঘর আছিল না। এখন হামার জন্য সরকার ঘর বানে দিচ্ছে, মুই এই ঘরত থাকিম। সবাই খুব খুশি, এই আনন্দ মুই বুঝাতে পাইমনা। শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ। 

একইভাবে আনন্দ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের খোর্দ্দ বোতলাগাড়ী গ্রামের হরসাধু মোহন্ত। তিনি বলেন, গরীবের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই ঘর সারা জীবনের জন্য অন্যতম উপহার।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের দলুয়া গ্রামের শ্রী ভবেশ চন্দ্র রায় বলেন, জায়গা থাকলেও ঘর আছিল না। এজন্য খুবই সমস্যাত আছিনু। বিনা টাকায় প্রধানমন্ত্রী হামার ঘর করি দেওয়ায় সে সমস্যা দূর হলো সাথে সমাজত একনা সম্মানও বাড়িলো।