Opu Hasnat

আজ ২১ নভেম্বর বুধবার ২০১৮,

দেবরের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ভাবীকে হত্যা মুন্সিগঞ্জ

দেবরের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ভাবীকে হত্যা

লম্পট দেবরের কু-প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় বড় ভাই সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী শারমিন বেগম (২৬) কে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। পরে নিহতের লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেখে শশুর বাড়ির লোকজনের পালিয়ে যায়। নিহত শারমিন বেগমের মা হালিমা বেগম জানান, নিহত শারমিন বেগমের স্বামী আলম দেওয়ান সৌদি প্রবাসী। এ সুযোগে লম্পট দেবর সালাম দেওয়ান বিভিন্ন সময়ে শারমিন বেগমকে অবৈধ ভাবে শারিরিক সম্পর্ক করার জন্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে পাচ বছরের কন্যা সন্তানের মা শারমিন বেগম দেবরের কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বুধবার সকালে শশুর বাড়ির লোকজন পাশবিক নির্যাতসহ পাচ বছরের শিশু সন্তান আইভি ও শারমিন বেগমকে জোড় করে বিষ পান করায়। পরে মৃত অবস্থায় শারমিন বেগমকে হাসপাতালে ফেলে শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। তবে কন্যা শিশু আইভি জীবিত রয়েছে বলে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ডাক্তার শৈবাল বসাক জানিয়েছেন।

নিহত শারমিন বেগমের মা হালিমা বেগম আরো জানান, পরিকল্পিত ভাবে তাকে শারিরিক ভাবে নির্যাতন করার পর জোড় পুর্বক বিষ পান করিয়ে হত্যা করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেখে শশুর বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। বুধবার দুপুর আড়াই টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপালে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার মেয়ে পক্ষের লোকজন জানতে পেরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এসে এ সব অভিযোগ করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, বুধবার আড়াইটার দিকে মৃত অবস্থায় গৃহবধুর মরদেহ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর সাথে পাচ বছরের একটি মেয়ে আইভিকে ও নিয়ে আসা হয়। মাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে আর মেয়েকে গুরুতর অবস্থায় আনা হয়েছে। তাৎখনিক ভাবে মেয়েটিকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের আবির পাড়া গ্রামের দীন ইসলামের বড় মেয়ে শারমিন বেগম। টঙ্গিবাড়ি উপজেলার মারিয়ল গ্রামের রাজ্জাক দেওয়ানের ছেলে আলম দেওয়ানের ছেলের সাথে বিগত ২০১১ সালে বিবাহ দেওয়া হয়।

নিহত শারমিনের খালু জহিরুল হক জানায়, বিয়ে হওয়ার পর থেকে তার শশুর বাড়ি লোকজন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালাতো। প্রতিবাদ করলে ছোট মেয়ে আইভিকে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি দিতো। এখনো পর্যন্ত কন্যা সন্তান আইভির খোজঁ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, শারমিনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাই মরদেহ রেখে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে শারমিনের শশুর বাড়ির লোকজন।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা: শৈবাল বশাক জানায়, মৃত অবস্থায় একটি মেয়েকে নিয়ে আশা হয়। আর অসুস্থ্য অবস্থায় একটি শিশুকে আনা হয়। অসুস্থ্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্ররণ করা হয়েছে । তিনি বলেন, শিশুটিকে আইসিওতে রাখতে হবে তা নাহলে বাচানো মুসকিল হয়ে পরবে।

এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ মো: আওলাদ হোসেন জানায়, আমরা শুনেছি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। এটা হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্ত রির্পোট শেষে বলা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি।  লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।