Opu Hasnat

আজ ১৯ ডিসেম্বর বুধবার ২০১৮,

লোহাগড়ায় মধুমতী নদীর তীরবর্তী মানুষের কান্না নড়াইল

লোহাগড়ায় মধুমতী নদীর তীরবর্তী মানুষের কান্না

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মহিষাহপাড়া, মঙ্গলহাটা, করফা, আতোষপাড়া, শিয়রবর ও ঘাঘা গ্রামে মধুমতী ভাঙন ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক বাড়ি ঘর। ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক বাড়ি।

স্থানীয়রা জানান, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে মধুমতীতে বিলীন হওয়া শিয়রবর গ্রামে  হাসান মুন্সী, আতিয়ার, দেলোয়ার, নিলু, রাজ্জাক, আক্তার, আক্কাস, মিন্টু, ইকবল এর বাড়ি রয়েছে।

এছাড়া ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মানববন্ধন করেছে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা।  

মলি­কপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ জিন্নাত শেখ বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে এই নদী ভাঙা গড়ার খেলায় মেতেছে। আমি নিজেই ৯টা বাড়ি সরিয়েছি। আমরা এখন সিএন্ডবিতে (রাস্তার পাশে) কোন রকম ঘর তুলে আছি। মাননীয় প্রধানন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা তিনি যেন এই নদীর তীর রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবেন।   

শিয়রবর গ্রামের রওশন শিকদার বলেন, আমাদের বাড়ি চার বার মধুমতী নদীতে বিলীন হয়েছে। এ বছর নদী যে ভাবে ভাঙছে তাতে মনে হয় এবারও বাড়ি সরাতে হতে পারে।

কোটাকোল ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা বি,এম, মনিরুজ্জামান বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে নদীর করাল গ্রাসের শিকার এ অঞ্চলের অসহায় মানুষ। ভাঙন রোধে এ ইউনিয়নে মধুমতীর তীরে ব্লক ফেলতে এসছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তর। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে তা বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের দাবি দ্রুত ভাঙন রোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে অহসায় গৃহহীন মানুষের পাশে দাড়াবে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) এম.এম. আরাফাত হোসেন বলেন, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার আমাদের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করলে জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়ে দেব। অনেকেই আবেদন করেছে ইতিমধ্যে জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি। তাঁরা যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় সে বিষয়েও তাগিদ দিচ্ছি। 

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহনেওয়াজ তালুকদার বলেন, আমরা শিয়রবর বাজার এলাকায় ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু মহিষাহপাড়া, মঙ্গলহাটা, করফা, আতোষপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ হাট-বাজার না থাকায় কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি।