Opu Hasnat

আজ ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ২০১৮,

শেখ জাহিদ আজিম

দ্য লোয়ার ডেপ্থস্ : দর্শক দেখলো এবং শিখলো মতামত

দ্য লোয়ার ডেপ্থস্ : দর্শক দেখলো এবং শিখলো

তাবৎ পৃথিবীর মানুষের দুঃখের তান্ডবগুলো একই রঙের, বুকের ভেতর সকল মানুষের খান্ডবদাহন একই ডঙের, আর দুঃখগুলো ডেঙাতে পারে না জীবনযুদ্ধে ভেঙে পড়া মানুষগুলো। এ রকম রঙ মেশানো নাটক নিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় (০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮) অভিনয়ের হাজিরা দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার এন্ড পারফরমেন্স স্টাডিস বিভাগের ১৫জন নাট্যশিক্ষার্থী। নাটকটি নাম "দ্য লোয়ার ডেপ্থস্", ম্যাক্সিম গোর্কি রচিত, যার নির্দেশনায় ছিলেন তানভীর নাহিদ খান ও মঞ্চপরিকল্পনায় আশিক রহমান লিয়ন। যার মঞ্চায়ন হলো “আইডিএলসি” আয়োজিত নাট্য উৎসবে। নাটকটি আঙ্গিকগত জায়গা থেকে স্বভাববাদী ধারার যাতে  অভিনয় রীতির প্রয়োগে স্ত্যানিস্লাভস্কির অভিনয় পদ্ধতির চূড়ান্ত  প্রচেষ্টা সন্তুষ্টিজনক, এজন্য সাধুবাদ কুশিলব ও নির্দেশক।
নাটকে চরিত্র রয়েছে ভবঘুরে, বেশ্যা, চাবিমিস্ত্রী, চোর, মদখোর, ব্যর্থঅভিনেতা, বাড়িওয়ালা, মুমূর্ষুরোগী প্রমুখ। যারা যেকোনো সমাজের নিম্নজীবীজনগোষ্ঠী। আর এ সকল নানাবর্ণের চরিত্রের অভিনয়ে কেবল ভান করলে হয় না, তাতে দর্শকের মনে সয় না। কিন্তু অল্পবয়স্ক অভিনেতা-অভিনেত্রীরা জানান দিল তারা অভিনয়টা পারে তাদের কাছে চাইলে বড়রাও শিখতে পারে। হ্যা ঢাকার বড় বড় নাট্যকর্মীরা তাদের কাছে অভিনয়ের চূড়ান্ত শিখরে পৌছানোর প্রচেষ্টা শিখলো বৈকি। বিশেষভাবে উল্লেখ করছি চাবিমিস্ত্রী চরিত্রের অভিনেতা মেহেদীর কথা চরিত্রটির বিপতœীক হওয়ার পরের দৃশ্যে তার আহাজারি, কি অদ্ভূত অভিনয় ছেলেটির স্বর-শরীর আলাদা করে দর্শক মানসে নাটক স্মরণ মাত্রই মনে পড়ে। নাটকে যে গানটি রয়েছে তার সুর ও সম্মিলিত গায়কী অসাধারণ তা যে কোনো সাধারণ দর্শকও বুঝতে পারে, বার বার সবার কানে গানটি বাজতে পারে।
চমৎকার নাটকটিতে সবচেয়ে বড় চমৎকারিত্ব হচ্ছে নাটকের সেট-ডিজাইন আর তার পরিবর্তন কৌশল যা দেখে দর্শক চোখধাঁধানো সুখ পায়, সাথে সাথে মঞ্চপরিকল্পক একটি বাহবা নিশ্চয়ই পায়।
গোটা নাটকের জন্য মোটা ধন্যবাদ পায় তরুণ নির্দেশক তানভীর নাহিদ খান। তার সাথে আলাপে জানা যায়, নাটক সৃজনমঞ্চায়নে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ তার পছন্দ-আনন্দ। আমরা বলবো নির্দেশক চ্যালেঞ্জে জয়ী, জয় করেছে দর্শক হৃদয়। এছাড়া তিনি এই নাটকের সাথে বাংলাদেশের নিম্নজীবী মানুষ তথা বিশ্বের সব নিচুতলার মানুষের যোগসূত্র খুঁজে পান। তাতেই হয়তো দর্শক নাটকে এত একাত্ব হন।
সর্বপরি এ নাটক সমালোচনায় সর্বশেষ উক্তি করি, যথার্থ নাট্যমঞ্চায়ন তাই দর্শকহৃদয়ে আনন্দের স্পন্দন। বার বার হোক এমন নাটক-দর্শক মিলবন্ধন।
০৫/০৯/১৮খ্রি. পিসিআই, বিরুলিয়া, ঢাকা।