Opu Hasnat

আজ ১৪ নভেম্বর বুধবার ২০১৮,

শুটিং বন্ধ এখনও, চরম অচলাবস্থা টালিগঞ্জে ! বিনোদন

শুটিং বন্ধ এখনও, চরম অচলাবস্থা টালিগঞ্জে !

গত শনিবার টালিগঞ্জের স্টুডিওপল্লিতে শুটিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর্টিষ্ট ফোরাম ও প্রযোজকদের দফায় দফায় বৈঠকের পরও মঙ্গলবারও কোন সমাধান সূত্র বের হয়নি।

বিভিন্নি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোন ধারাবাহিকেরই কোনও ব্যাকিং এপিসোড জমা পড়েনি। ফলে কর্তৃপক্ষ পুরনো এপিসোড দেখাতে বাধ্য হচ্ছেন।

শিল্পীদের অভিযোগ, তারা শুটিংয়ে যাচ্ছেন কিন্তু টাকা না পাওয়া তারা কাজ করতে পারছেন না।

অন্যদিকে প্রযোজকরা বলেছেন, একজন শিল্পী একাধিক সিরিয়ালে অভিনয় করেন। কিন্তু প্রত্যেক প্রযোজকের কাছ থেকে একদিনের শিল্পী একদিনেরই পারিশ্রমিক নেন।

চলমান ধর্মঘট থেকে উত্তরণের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত। এদিনও দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সভায় প্রায় দেড় হাজার অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলী যোগ দিয়েছিলেন। ওই মিটিংয়েও শিল্পীরা প্রযোজকদের কাছে পাওনা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার কথা বলেছেন।

আর্টিস্ট ফোরামের জেনারেল মিটিংয়ের উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ অভিনেতা।

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শিল্পীরা কল-টাইম দিলে চলে যাবেন। বুধবার সকালেই যদি তাদের ডাকা হয় প্রত্যেক শিল্পীরাই যাবেন শুটিং স্পটে। কিন্তু তাদের সেখানেই টাকা রেডি রাখতে হবে। আমাদের শিল্পীরা ১০ ঘণ্টার জায়গায় ১৮ ঘণ্টাও কাজ করেন। তাদের পাওনা টাকা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। এটা এটা নিয়মের মধ্যে আসা উচিৎ। প্রযোজকরা আমাদের বন্ধু মানুষ, তাদের উচিৎ হবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলা।

এর আগে সোমবার দুপুরে টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে প্রযোজকদের তিন দফায় বৈঠক হয়। কিন্তু কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। পরে শিল্পী-কলাকুশলী ও প্রযোজকদের উভয়পক্ষ পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান।

প্রযোজকদের পক্ষে অরিন্দম শীল বলেন, একজন শিল্পী ওভারটাইমের হিসাব করেন। ওভারটাইমের টাকা পাওনা আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু তারা একসঙ্গে একাধিক মেগাসিরিয়ালে কাজ করেন। একদিন একাধিক কাজও করেন। কিন্তু তাদের পুরোদিনের টাকা দিতে হয়। আর তারাই এখন ওভারটাইমের কথা বলছেন। এটা কি কোনও যুক্তি হতে পারে আদৌ।

প্রসঙ্গত গত ১৮ আগস্ট থেকে কলকাতার ভারতলক্ষ্মী, ইন্দ্রপুরীর মতো ব্যস্ততম স্টুডিও কার্যত তালা বন্ধ।

শেষ পর্যন্ত সমাধান সূত্র কি আদৌ বেরুবে? তার জন্য আর কতদিন অপেক্ষা করবেন সকলে ? সত্যিই কি দু’পক্ষ একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসবেন? এখন এ সব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রি।