Opu Hasnat

আজ ২২ সেপ্টেম্বর শনিবার ২০১৮,

এ এস আই কামরুল সোহেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হরিণাকুন্ডুবাসি ঝিনাইদহ

এ এস আই কামরুল সোহেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হরিণাকুন্ডুবাসি

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুতে এএসআই কামরুল ইসলাম ও সোহেলের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে হরিণাকুন্ডুবাসি। আাসামী কেনা বেচা, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে দালালদের মাধ্যমে টাকা নেওয়া ও বেপরোয়া গণগ্রেফতার বানিজ্যসহ নানা অভিযোগ কামরুল ও সোহেলের বিরুদ্ধে। সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে জামায়াত-বিএনপি ছাড়াও সরকারী দল আওয়ামীলীগও এই দুই দারোগার কর্মকান্ডে চরমভাবে নাখোশ। 

গ্রাম থেকে নিরীহ মানুষকে ধরে নিয়ে অর্থ বানিজ্য করেন পুলিশের এ দু’জন সদস্য। রাতে আটক, সকালে মুক্তি। টাকা না দিলে ক্রস ফায়ারের হুমকি অথবা জামায়াত-শিবির কর্মি সাজিয়ে কোর্টে চালান দেন এ দু’দারোগা। হাতবদল হচ্ছে বান্ডিল বান্ডিল টাকা। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছেন জেলা পুলিশ প্রশাসন। তবে পেরে উঠেন নি। উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে সব শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝে পুলিশের এএসআই কামরুল ও সোহেল আতংক চরমে বিরাজ করছে। বিএনপি’র নেতা কর্মিরা অসহায়, সরকারী দলের স্থানীয় নেতারাও ক্ষুব্ধ। এছাড়াও হয়রানী মুলক মামলা দায়ের করে দারোগা কামরুল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সক্ষতা, নিজে মাদক সেবন এবং টাকা নিয়ে বাল্য বিবাহতে সহযোগিতা করাসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে আলোচিত এ দুই দারোগার বিরুদ্ধে। রক্ত পরীক্ষা করলেই প্রমান মিলবে কামরুলের মাদক সেবনের বিষয়। 

সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দাপিয়ে বেড়ান এএসআই কামরুল গং। সম্প্রতি এএসআই কামরুল উপজেলার জোড়াদহ বাজারের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ভয় দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। এছাড়া গণগ্রেফতার বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায়ী, জুয়া কারবারীদের সাথে সখ্যতা, থানার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার, শালিস ব্যবসা, বাল্য বিবাহতে সহযোগিতা করা, গাছকাটা, ওয়ারেন্ট আসামী বাণিজ্যসহ এএসআই কামরুল ও সোহেলের নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে নাজেহাল হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী।
অভিযোগের অন্ত নেই এ দুই দারোগার বিরুদ্ধে। নগদ টাকা পয়সার কোন হিসাব নেই এ আলোচিত দারোগা কামরুলের। বেপরোয়া গ্রেফতার বানিজ্যের থাবা থেকে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরাও রক্ষা পাননি। উপজেলার ক্লিনিক মালিক উজ্বল, হরিণাকুন্ডু গ্রামের মানোয়ারসহ অসংখ্য ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ বানিজ্য করা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল মোড়ের রবিউলের মেয়ের বিয়েকে কেন্দ্র করে বানিজ্য করেছেন কামরুল গং। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার নজির রয়েছে কামরুল ও সোহেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়েছে জোড়াদহ বাজারের পল্লী চিকিৎসক আশরাফুলকে আটক করে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ফলসী গ্রামের সাইফুলের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করেছেন দারোগা কামরুল। 

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষনা করলেও মাদক বিক্রেতাদের সাথে রয়েছে এএসআই কামরুলের সক্ষতা। এছাড়া তিনি নিজেও মাদক সেবন করে থাকেন বলেও সূত্র জানায়। 
প্রসঙ্গত ২০১৩ সালের ৩ মার্চ হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদ চত্তরে জামায়াত-শিবিরের ডাকা ধর্মঘটের দিনে নির্মম ভাবে নিহত হন সোনাতনপুর পুলিশ ফাড়ির কনস্টেবল গাজী ওমর ফারুক। ওই দিন পরিষদ ভবন এলাকায় তান্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরের শত শত নেতা কর্মি। কনস্টেবল ওমর ফারুক হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা মোতাহার হোসাইনসহ দুই শতাধিকের বেশী মানুষের নামে চার্জশীট দেয়া হয়। গ্রেফতার আতংকে থাকা সাধারন মানুষ এরপর কিছুটা স্বস্তি ফিরে পায়। কিন্তু না আজো চলছে গ্রেফতার বানিজ্য। এএসআই কামরুল, এএসআই সোহেল হরিণাকুন্ডু থানায় যোগদানের পর থেকেই শুরু করে দেন রমরমা গ্রেফতার বানিজ্য।

কথিত আছে হরিণাকুন্ডু থানার আলোচিত এ দু’দারোগা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। নামে-বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। উপজেলার প্রতিটি গ্রামে তাদের নিজস্ব দালাল নিয়োগ রযেছে। এই দালালরাই ধরিয়ে দেন গ্রামের নিরীহ মানুষদের। সাধারণ মানুষদের বিএনপি-জামায়াত বানিয়ে প্রচার করা হয়। এমনকি আওয়ামীলীগ পরিবারের মানুষও কামরুল সোহেলের অত্যাচার ও হয়রানী থেকে রেহায় পায় নি। উপজেলার গ্রামে গ্রামে বোবা কান্না আর আর্তনাতে মানুষের বুক ভেঙ্গে গেছে। আর্থিক ভাবে বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। গোটা হরিণাকুন্ডু জুড়েই গ্রেফতার বানিজ্য করছেন এএসআই কামরুল।

 ভয়ে মুখ খৃলতে কেউ সাহস পায়না এ দুই দারোগার বিরুদ্ধে। কনষ্টেবল থেকে প্র্মেশন পেয়ে কামরুল ও সোহেল হরিণাকুন্ডু উপজেলায় রাম-রাজত্ব কায়েম করে চলেছেন তারা। হরিণাকুন্ডু থানায় দীর্ঘদিন থাকায় তারা বসতি হয়ে উঠেছেন। সাধারন মানুষের ঘুম তারা হারাম করে দিয়েছেন। গ্রেফতার আতঙ্কে উপজেলার সাধারন মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভোর থেকেই সাধারন মানুষ আটকে এরা দুজন মরিয়া হয়ে উঠেন। বিশেষ একটি সুত্রে জানা গেছে, এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ পুলিশের একাধিক শাখায় জমা পড়েছে। সে সব বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে খুব দ্রæত। অভিযোগে দারোগা কার কাছ থেকে কত অংকের টাকার ঘুষ নিয়েছেন তার ফিরিস্তি রয়েছে। এএসআই কামরুল সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন তার বিরুদ্ধে এ সব অপপ্রচার জামায়াত-বিএনপির ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন। মানুষ ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেন।