Opu Hasnat

আজ ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৮,

দৌলতদিয়ায় পাড়ের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি রাজবাড়ী

দৌলতদিয়ায় পাড়ের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি

দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া ঘাটে নদীপাড়ের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আটকা পড়েছে পশুবাহি ট্রাকসহ শত শত বিভিন্ন যানবাহন। এতেকরে ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ পর্যন্ত অন্তত সাড়ে তিন কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের সারি সৃষ্টি হয়েছে। 

এছাড়া পশু বোঝাই ট্রাক অতিরিক্ত ওজন হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী সেগুলোকে ওজন নির্ণয় করেই ঘাটে পৌঁছাতে হয়। এ বিপুল সংখ্যক পশুবোঝাই ট্রাক পরিমাপ করতে গিয়ে ওয়েস্কেল এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে গরুবোঝাই ট্রাক চালোক, গরু ব্যাবসায়ীসহ অন্যান্য সাধারন যাত্রীরা।

ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, দিনের শুরুতে যানবাহনের সারি একটু ছোট থাকলেও বিকেলের পর থেকে পশুবোঝাই ট্রাকের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুন। এতে বিকেল থেকে সারা রাত ৬/৭ কিলোমিটার জুড়ে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে ৭ কিলোমিটার দুরে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ এলাকায় বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃক স্থাপিত ওয়েস্কেল (যানবাহনের ওজন নির্ণয় যন্ত্র) এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। গরুবোঝাই অতিরিক্ত ট্রাক পরিমাপ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। আর এই পরিমাপ করতে গিয়েই সেখানে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজন। এতেকরে গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকায় যানবাহান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। যানজটে আটকে থাকা ট্রাকের গরু গুলো অনেক সময় অসুস্থ্য হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে চরম সমস্যায় পরে পাশে থাকা গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা। এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালে প্রবেশের একমাত্র পথ। সেই সাথে যানজটে আটকে থাকা যানবাহনের তীব্র হর্নের চরম দুর্ভোগে পরেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। 

ভুক্তভোগী অনেকেই জানান, কোরবানীর ঈদের সময় অতিরিক্ত গরুবাহি ট্রাক পারাপার হবে এটা স্বাভাবিক। এ সকল গরুবাহি ট্রাকগুলোর ওজন প্রায় একই রকম। তাই গরুবাহি ট্রাকগুলোকে ওজন করা খুব একটা জরুরী না। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করলে ওয়েস্কেল এলাকায় যানজন আপাতত কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আসতো।

সরেজমিন শুক্রবার দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের বাংলাদেশ হ্যাচারীজ এলাকা পর্যন্ত দুই কিলোমিটার ফোরলেন মহাসড়কের এক পাশের লেনে যানবাহন নদীপারের অপেক্ষায় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আটকে থাকা যানবাহনের মধ্যে গরুবাহি ট্রাক ও যাত্রীবাহি বাস, মাইক্রো বাস ও প্রাইভেটকার অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপার করছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে ২/৩ দিনেও ফেরির নাগাল পায়নি অনেক সাধারন পন্যবাহি ট্রাক।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত ব্যাবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম পশু বোঝাই ট্রাকগুলো অতিরিক্ত ওজন হয় না স্বীকার করে জানান, পরিমাপ না করে ফেরির টিকিট প্রদান করার নিয়ম নেই। বিশেষ সময় বিবেচনা করে মন্ত্রনালয় থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাদেরকে নির্দেশ দিলেই একমাত্র ওজন রশিদ ছাড়া গরুবাহি ট্রাকগুলোকে ফেরির টিকিট প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরো জানান, দক্ষিণাঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা রাজধানী ঢাকাগামী অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ একবারে বেড়ে যাওয়ায় দৌলতদিয়া ঘাটে কিছু যানবাহন আটকা পড়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়ায় ৫টি ফেরিঘাট ও নৌরুটের ফেরি বহরে ২০টি ফেরি সার্বক্ষণিক ভাবে যানবাহন পারাপার করছে।