Opu Hasnat

আজ ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

বারবার সেরা হয়েও এমপিও বঞ্চিত ফরিদপুরের হাজী আবুল হোসেন কলেজ! ফরিদপুর

বারবার সেরা হয়েও এমপিও বঞ্চিত ফরিদপুরের হাজী আবুল হোসেন কলেজ!

ভাগ্যহত চরাঞ্চল। যেখানের মানুষগুলোর দু-বেলা খাদ্য যোগাতেই সংগ্রাম করতে হয়, করতে হয় কঠোর পরিশ্রম। সেখানে উচ্চ শিক্ষা যেন ছিল স্বপ্নের মতো। শত প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে সেই ভাগ্যহত মানুষের স্বপ্নের পথে সারথী হিসেবে কাজ করে চলেছে ফরিদপুরের হাজী আবুল হোসেন কলেজ। যেখানে একঝাঁক মেধাবী শিক্ষকদের সমন্বয়ে চলছে পাঠদান।

গতানুগতিক ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে পিঁছিয়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষার আলো জ্বালাতে ২০১১ সালে ফরিদপুর শহরের মমিন খাঁর হাট নামক এলাকায় কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরই জেলার মধ্যে কলেজটি ফলাফলে শীর্ষে থাকলে ভাগ্য ফেরেনি শিক্ষকদের, আজও এমপিও জুটেনি কলেজটির। নিদারুণ অর্থ কষ্টে দিনাপাতিত করছে কলেজটির শিক্ষকরা।

কলেজ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও চরাঞ্চলের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ, শিক্ষা সরঞ্জাম, কলেজ ড্রেস প্রদান, দরিদ্র মেধাবীদের জন্য বৃত্তি, শিক্ষা সফর, নৌ বিহার সবই করে যাচ্ছে কলেজটি। এছাড়াও কলেজটি ইতোমধ্যে খুব অল্প সময়েই তার বিভিন্ন কর্মকান্ড দিয়ে সুপরিচিত লাভ করেছে। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য যে, যারা আজ চরাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের প্রদীপ জ্বালিয়ে দিচ্ছে তারাই আজ বছরের পর বছর এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ অর্থ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুরের চরাঞ্চলের হতদরিদ্র শিক্ষা বঞ্চিত শতশত কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো দেখানোর একমাত্র সম্বল হাজী আবুল হোসেন কলেজ। তারা বলেন, এ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত না হলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা যেন স্বপের মতোই থেকে যেত ।

কলেজটির জয়ন্ত ভট্টাচার্য নামে সমাজকর্ম বিভাগের এক প্রভাষক জানান, আর্থিক সংকটে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। কলেজটি এমপিও হলে কষ্টটা হয়তোবা লাঘব হতো।

হাজী আবুল হোসেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফয়সাল-ইবনে-মোস্তফা জানান, শত বছরের অন্ধকার ও উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত চরাঞ্চলের আলোকবর্তিকা এই হাজী আবুল হোসেন কলেজ। তিনি বলেন, সুবিধা বঞ্চিত, অবহেলিত, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ করে দিতে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে অদ্যবদি কলেজটির শিক্ষকমন্ডলী নিরলস পরিশ্রম করে কলেজটিকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার মধ্যেও বারবার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে যাচ্ছে।

অধ্যক্ষ ফয়সাল এসময় আক্ষেপ করে বলেন, এব্যাপারে বারবার শিক্ষা দপ্তরে গিয়েও কলেজটির এমপিও এর ব্যাপারে অদ্যবদি কোনো সুরাতহাল মেলেনি। আমাদের শিক্ষকরা খুব অর্থ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

এব্যাপারে কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা (আদা মিয়া) বলেন, চরাঞ্চলের শিক্ষাথীদের আর্থিক অস্বচ্ছলতা, কলেজগুলোর দূরত্ব এবং পারিপার্শ্বিক নানা অসঙ্গতির কারণে জেলা সদরে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তাইতো চরাঞ্চলের উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত কোমলমতি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে স্থানীয়দের সহযোগীতায় কলেজটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তিনি বলেন, কলেজটির শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষায় প্রতিবছরই ভালো ফলাফল করে আসলেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে আজও এমপিও পায়নি কলেজটি। তাইতো কলেজটিকে এমপিও প্রদান করে চরাঞ্চলের অবহেলিত শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করতে  আমরা স্থানীয় এমপি, শিক্ষা মন্ত্রী, ডিজি মহোদয় প্রতি জোঁর দাবী জানাই।