Opu Hasnat

আজ ১৫ অক্টোবর সোমবার ২০১৮,

সৈয়দপুর ঢেলাপীর হাটে কোরবানি পশুর দাম কম হওয়ায় হতাশ খামারিরা নীলফামারী

সৈয়দপুর ঢেলাপীর হাটে কোরবানি পশুর দাম কম হওয়ায় হতাশ খামারিরা

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু নীলফামারীর সৈয়দপুর ঢেলাপীর হাট থেকে : ঈদুল আজহার আর মাত্র হাতে গোনা কয়েক দিন বাকি। এরই মধ্যে কোরবানিকে সামনে রেখে নীলফামারী জেলার ঐতিহ্যবাহী সর্ববৃহৎ সৈয়দপুরের ঢেলাপীর হাটে উঠতে শুরু করেছে গরু-ছাগল। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের অসংখ্য দেশিয় গরু উঠেছে হাটে। ৩৫ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার গরুও এসেছে হাটে। এ ছাড়া হাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাগলও নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা গেছে গত বছর থেকে এবার দাম কিছুটা কম। তবে এখনও হাট পুরোদমে জমে উঠে নাই বলে জানালেন  পশু ব্যবসায়ীদের।

হাটগুলোতে  বিভিন্ন জেলা থেকে  নসিমন করিমন করে গরু নিয়ে আসছেন গরু ব্যবসায়ীরা। এবার হাটে ৪৫ হাজার থেকে শুরু করে ৬৫ হাজারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে মাঝারী ধরনের গরুগলো। ১২ টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন রানীশংকৈল থেকে গরু ব্যবসায়ী আইজুল। দুটি ৪৬ হাজার আর ৫৩ হাজারে বিক্রি করলেও দাম না পাওয়ায় বাকি গরুগুলো বিক্রি করতে পারেননি তিনি। তিনি জানান, এবার পশুর দাম গত বছরের তুলনায় গড়ে ৭ থেকে ১১ হাজার কমে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দাম পাচ্ছেনা খামারীরা। তাই জেলার সবচেয়ে বড় এই হাটে এ বছর গরুর দাম ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। কোরবানিকারীদের ৮৫ ভাগ ব্যক্তিই ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে কোরবানির গরু কিনতে চান। ঢেলাপীর হাটে গরু কিনতে আসা নীলফামারীর বাবড়ীঝাড় গ্রামের রাজেকুল হাসান বলেন, হাটে পছন্দসই গরুর অভাব নেই। তিনি তার সাধ্যের মধ্যে ৪২ হাজার টাকায় মাঝারী আকারের একটি ভাল গরু কিনেছেন। গত বছর এ ধরনের গরু ৪৮-৫১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছিল। লালমনিরহাট থেকে নিয়ে আসা মোখলেছুর রহমান তার পোষা শাহিওয়াল ষাড়ের দাম রেখেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ক্রেতা ১ লাখ ১০ হাজার দাম দিলেও বিক্রি করেননি তিনি। সোহেল আরজু নামে সৈয়দপুর গোলাহাটের একজন ক্রেতা জানান, হাটে ৬০-৮০ হাজারের মধ্যে ভাল মানের গরু পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া এক থেকে দেড় লাখ টাকা দামের শাহিওয়াল জাতের কিছু বড় গরু হাটে এসেছে। দাম সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক পশু ব্যবসায়ী ফয়েজ উদ্দিন জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে পশু তেমন আসছে না সে অনুযায়ী হাটে বেশিভাগ দেশি গরু আছে। তবে সামনের হাটে উঠতে পারে বিভিন্ন জাতের গরু। তিনি হাটে ৮ টি গরু নিয়ে আসলেও একটিও বিক্রি করতে পারেন নি। তবে তিনি আশাবাদী পরবর্তী হাটে সব গরু বিক্রি করতে পারবেন। গরুর পাশাপাশি বিভিন্ন সাইজের ছাগলেরও দেখা মিলেছে হাটে। একটি মাঝারি সাইজের ছাগল ৯ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও উন্নতমানের বড় ছাগলগুলোর দাম হাঁকা হচ্ছে ১৫ হাজারের উপরে।

তবে এবার ঢেলাপীর হাটে গরুর প্রতি রশিদ মুল্য ৩০০ আর ছাগলের ১৩০ টাকা হলেও রশিদে গরু ও ছাগল প্রতি কত টাকা নেওয়া হবে তার উল্লেখ না থাকায় অনেক ইজারাদার কর্মীকে রশিদের মুল্য বেশি করে আদায় করতে দেখা গেছে। রশিদে গরু ছাগলের রশিদ প্রতি কত টাকা দিতে হবে তার উল্লেখ নাই কেন কারন জানতে চাইলে ইজারাদার কর্মীরা তার সদুত্তর দিতে পারেননি। তবে তারা জানান, সব কিছুর দাম বেড়েছে এটার একটু বাড়লে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এদিকে হাটগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ইজারাদার মোতলেব হোসেন। সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে হাট কারণ সামনের পশুরহাটটি  পুরোদমে জমে উঠবে নীলফামারী জেলার এতিহ্যবাহী এই ঢেলাপীর হাট এমনটি বল্লেন এখানকার পশু ব্যবসায়ীগণ।