Opu Hasnat

আজ ১৮ আগস্ট শনিবার ২০১৮,

তরুণ-তরুণীর প্রোফাইল ক্যাপশনে ফয়সাল হাবিব সানি’র প্রেমের কবিতা শিল্প ও সাহিত্য

তরুণ-তরুণীর প্রোফাইল ক্যাপশনে ফয়সাল হাবিব সানি’র প্রেমের কবিতা

১. ‘আমি ভালোবেসে তাকে না পাই, অন্তত সে জানুক আমি কী তুমুলভাবে আজন্ম প্রেমিকের মতো তাকে ভালোবেসেছি।’

২. ‘প্রেম যেন টবে সারিবদ্ধ কিছু ফুলের মতো
এতো কাছে থেকেও তারা কখনো কাছে আসতে পারেনি, ছুঁতে পারেনি একে অপরকে, মিলিত হতে পারেনি পরস্পর!
যুগ-যুগান্তর আশ্চর্য দূরত্বে থেকে পুড়েছে তাদের মিলনের অঙ্গার।’

এমন আশ্চর্য সব প্রেমের চরণের রচয়িতা বাংলা কবিতায় এ সময় প্রেমের কবিতার রাজপুত্তুর হিসেবে খ্যাত ফয়সাল হাবিব সানি।  ফয়সাল হাবিব সানি’র প্রেমের কবিতা এখন তরুণ-তরুণীর মুখে মুখে। তার প্রেমের অণুকাব্য এখন ব্যবহৃত হচ্ছে তরুণ-তরুণীর প্রোফাইল পিকচারের ক্যাপশন হিসেবে। প্রেম আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবেও তারা ব্যবহার করছে প্রেমের এ রাজপুত্তুরের কবিতার চরণ। ফয়সাল হাবিব সানি বর্তমান বাংলা কবিতায় অন্যতম তারুণ্য, দ্রোহ ও বিশুদ্ধ প্রেমের কবি হিসেবে আলোচিত হয়েছে।

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‌‘দাবানল’ দ্রোহ ও প্রতিবাদের আহ্বান নিয়ে ২০১৬ সালে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় (ঢাকা) পাঠকের সামনে হাজির হলেও পরবর্তীতে এ সময়ে এসে প্রেমই হয়ে উঠেছে এ তরুণ কবির কবিতার অন্যতম উপাদান। এবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত তার কবিতার বইগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলেই প্রেমের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ পরিলক্ষিত হয়।

এ বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় জনপ্রিয় এ তরুণ কবির চারটি কবিতাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থগুলো হলো ‘দাবানল (২য় সংস্করণ)’, ‘নির্বাচিত ১০১ কবিতা’, ‘নির্বাচিত পঞ্চাশ প্রেমের কবিতা’ ও ‘অপ্রকাশিত কথন (একটি ব্যতিক্রধর্মী অণু চরণগুচ্ছ)’।

উল্লেখ্য, এ বছর তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দাবানল’- এর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ চারটি কবিতাগ্রন্থের মধ্যে দু’টি কবিতাগ্রন্থতেই সুবিস্তৃত স্থান দখল করে আছে প্রেমের কবিতা। আলোচিত তরুণ কবি ফয়সাল হাবিব সানি যে প্রেমের কবিতার অনন্য স্রষ্টা তা তার প্রেমের কবিতাগুলোর মধ্যেই সুস্পষ্টরূপে প্রতীয়মান।

ফয়সাল হাবিব সানি এ সময়ে এপার বাংলা ও ওপার বাংলা দুই বাংলাতেই বেশ জনপ্রিয় কবি। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় মোট পাঁচটি কবিতাগ্রন্থ লিখে সাড়া জাগিয়েছে এক সময়ের নিভৃতের অবহেলিত এ তরুণ কবি। এ তরুণ কবির জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৩ আগস্ট সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া জেলায়। তার মা-বাবা যেই ছেলেটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলো তাদের ছেলে বড় হয়ে হয়তো ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবে, সেই ছেলেটির কবিতাতেই এখন মাতছে পুরো দেশ।

আলোচিত তারুণ্য ও যৌবনের কবি ফয়সাল হাবিব সানি বর্তমানে গোপালগঞ্জের শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র। ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ এখন ফয়সাল হাবিব সানি আর কুষ্টিয়ার কৃতিমুখ ফয়সাল হাবিব সানি এখন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব ও অহংকার।

ফয়সাল হাবিব সানি তার কবিতার মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে নিজের জন্য গচ্ছিত একটি স্থান তৈরি করে নিতে চায়। বড় হওয়ার প্রবল স্বপ্নই সানিকে স্থান করে দিয়েছে সময়ের তুমুল জনপ্রিয় কবির কাতারে। কবিতা লিখে চলেছেন শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ও ম্যাগাজিনগুলোতে।

এ তরুণ কবির কাব্যপ্রতিভা শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই আবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশ ছাড়াও ওপার বাংলায় রাতারাতি জনপ্রিয়তা লুফে নিয়েছে ফয়সাল হাবিব সানি। ওপার বাংলার সাহিত্য পত্রিকা ‘এবারের রংমশাল’, ‘ইচ্ছেনদী' সহ কবিতা লিখে চলেছে ভারতের উল্লেখযোগ্য সাহিত্য ওয়েব প্রতিলিপি ডট কমের পাতায়।

কবিতা লেখার পাশাপাশি সাংবাদিকতাতেও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জিতে নিয়েছে ‘এডুকেশন ওয়াচ’ সম্মাননা।

প্রসঙ্গত, এ কবি যখন নবম শ্রেণির ছাত্রাবস্থায় কবিতা লেখা শুরু করে তখন সুযোগ ও মাধ্যমের বঞ্চনায় কোনো কবিতা প্রকাশই করতে পারেনি তৃণমূল পর্যায়ের অবহেলিত এ কবি। উপযুক্ত মাধ্যম ও সুযোগের অভাবে এ প্রতিভাবান তরুণ কবির কাব্যপ্রতিভা অবহেলিতই থেকে গিয়েছিলো বহুদিন যাবৎ। একা পথ চলতে যেয়ে বারেবারে ব্যর্থ হয়েছে সানি! তার এই পথচলায় এগিয়ে আসেনি কেউ-ই। তবু সানি রঙিন স্বপ্ন বুনে গিয়েছিলো বুকের ভেতর; নিজের ভেতরই আটকে রেখেছিলো প্রতিভার বোবা কান্না।

শিক্ষিত পরিবারে শিক্ষিত গণ্ডির মধ্যে বেড়ে উঠলেও তার শৈশব ভালো ছিলো না। শৈশব কেটেছে পারিবারিক পরিমণ্ডলে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থেকে। জীবনের আনন্দ যে কী তা হয়তো উপলব্ধিই ছিলো না সানি’র! ফলশ্রুতিতে সামাজিকীকরণও তেমনভাবে ঘটেছিলো না এ কবির; মানুষের সাথে কিভাবে চলতে হয়- সেই বোধ থেকেও শৈশবে অনেকটা দূরে ছিটকে পড়েছিলো সানি। মানুষের উপহাস তাই প্রবলভাবে আক্রান্ত করেছিলো তখনকার উঠতি এ কিশোরকে। কিন্তু সেই উপহাসই হয়তো এ কবির ভেতরের সুপ্ত আগুনকে পুষে রেখেছিলো খুব যত্ন করে। যেই ভেতরের পোষ্য আগুনকেই সঙ্গী করে ২০১৬ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দাবানল' অমর একুশে গ্রন্থমেলায় (ঢাকা) প্রথম জন্মলাভ করে। সবকিছু পেরিয়ে ফয়সাল হাবিব সানি হয়ে উঠেছে সময়ের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় প্রথিতযশা তরুণ কবি।

তার সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘স্বপ্ন’ (প্রকাশকাল, ২০১৫)। তাছাড়াও প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ ও ম্যগাজিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আঁধারে আলোর রেখা’, ‘প্রতিভা’, ‘কাশফুল’, ‘ফাল’, ‘দ্বীপজ’, ‘একতা’, ‘হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’, ‘জমিন’ প্রভৃতি।