Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

ব্রহ্মপুত্রের চরে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, আটক ৩ বগুড়া

ব্রহ্মপুত্রের চরে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, আটক ৩

 
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) আরেকটি ‘গোপন আস্তানার’ সন্ধান পাওয়া গেছে। তিস্তা নদীর দুর্গম চরের পর এবার কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর, রৌমারী ও চিলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী ব্রহ্মপুত্র নদের দিয়ারার চরে এই আস্তানার সন্ধান মিলেছে। দিয়ারার চর এখন নবগঠিত ঢুষমারা থানার অন্তর্গত।
 
পুলিশ সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বগুড়ার ডিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম দিয়ারার চরের জঙ্গি আস্তানা থেকে জেএমবির সামরিক শাখার দুই নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে।
 
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, চারটি গুলি, এক কেজি বিস্ফোরক পাউডার, আধা লিটার সালফিউরিক অ্যাসিড ও গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
 
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দিয়ারার চরে গড়ে তোলা জঙ্গি আস্তানায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় তোফাজ্জল হোসেন ওরফে তোতা মিয়া (৩০), রফিকুল ইসলাম (৩০) ও আবদুল হামিদ (৬০) নামে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা তিনজনই কুড়িগ্রাম জেলার নবগঠিত ঢুষমারা থানার ও রাজীবপুর উপজেলার দিয়ারার চরের বাসিন্দা।
 
পুলিশের দাবি, আটক তোফাজ্জল হোসেন জেএমবির কুড়িগ্রাম জেলার ইছাবা বা সামরিক শাখার প্রধান এবং রফিকুল ইসলাম জেএমবির রাজীবপুর, রৌমারী ও চিলমারী অঞ্চলের সামরিক শাখার প্রধান। এছাড়া আবদুল হামিদ জেএমবি দাওয়াহ শাখার সক্রিয় সদস্য।
 
বৃহস্পতিবার রাতে জঙ্গি আস্তানা থেকে অস্ত্র উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করলেও বিষয়টি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ।
 
জঙ্গি দমন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া বগুড়া জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে অস্ত্রসহ আটক চার জঙ্গিকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গম চরে আরেকটি গোপন জঙ্গি আস্তানা সম্পর্কে তথ্য দেয়। জঙ্গিদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে অভিযান চালায়।
 
পুলিশ জানায়, দিয়ারার চরের অবস্থান ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত কুড়িগ্রামের রাজীবপুর, রৌমারী ও চিলমারীর সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায়। এর উত্তরে রৌমারী, পূর্বে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলা। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ছাড়াও সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য এমন দুর্গম এলাকায় আস্তানা গেড়েছিল জেএমবি।