Opu Hasnat

আজ ২৬ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০১৮,

ব্রেকিং নিউজ

স্কুলছাত্রীকে লাঞ্ছনাকারী সেই কিশোর গ্রেপ্তার হবিগঞ্জ

স্কুলছাত্রীকে লাঞ্ছনাকারী সেই কিশোর গ্রেপ্তার

হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় রাস্তায় এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে মারধরকারি কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা পৌনে একটার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযুক্ত কিশোর এখন থানা হাজতে অাছে।

হবিগঞ্জ সদর থানার বারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম নাজিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত কয়েকদিন ধরেই স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে মারধরের এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়ং। এরপরপরই সরব হয়ে ‍ওঠে প্রশাসন। গতরাত থেকেই অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে তারা।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম শুক্রবার বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক।প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, বিষয়টি ঘটার সাথে সাথে কেউ আমাদেরকে জানায়নি। ফেসবুকে ভিডিওটি ছড়িয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি আমাদের নজরে অাসলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যাবস্থা নেই।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের কোন ঘটনা অার না ঘটে সেজন্য স্কুল শুরু ও ছুটির সময় স্কুলের শিক্ষক অথবা পুলিশ সদস্যকে স্কুলের আশেপাশে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কোন শিক্ষার্থীর প্রতি এ ধরণের কোন ঘটনা ঘটে গেলে যাতে সাথে সাথে প্রশাসনকে জানানো হয়, সে বিষয়েও সচেতনতা তৈরী করা হবে।

হবিগঞ্জ শহরের রাজনগর এলাকার এতিমখানা সড়কের ঐ ছেলেটি কিছুদিন আগে প্রেমের প্রস্তাব দিলে মেয়েটি (১৪) তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে সাড়া না পেয়ে হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের (জুনিয়র স্কুল) নবম শ্রেণির ছাত্র রাহুল মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানতে পেরে কিছুদিন আগে মেয়েটির এক নিকটাত্মীয় তাকে চড়-থাপ্পর মারেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬ আগস্ট বিদ্যালয় ছুটির পর বাসায় যাওয়ার পথে ওই ছাত্রীকে চড়-থাপ্পর মারে বখাটে ছেলেটি। এসময় ছেলেটি, মেয়েটির যে স্বজন তাকে পিটিয়েছেন তার হাত-পা কেটে ছাত্রীটির কাছে পাঠানোর হুমকি দেয়।

হবিগঞ্জের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগের ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। গত কয়েকদিনে হাজার হাজারবার শেয়ার হয়েছে ভিডিওটি। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে সবাই।

প্রকোশ্যে মেয়েদেরকে মারধরের ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও দুটি ভিন্ন ঘটনায় মেয়েদেরকে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। তখন বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা শোনা যায়নি।