Opu Hasnat

আজ ১৫ অক্টোবর সোমবার ২০১৮,

চট্টগ্রামে রাইফা হত্যায় মামলা নিল পুলিশ চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে রাইফা হত্যায়  মামলা নিল পুলিশ

নগরীর ম্যাক্স হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকের অবহেলায় শিশু রাইফা খানের মৃত্যুতে তার বাবার দায়ের করার দু’দিন পর এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চকবাজার থানা পুলিশ এজহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। মামলা নম্বর-০৮/১৮। গত ব্ধুবার বিকেলে ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী ও তিন চিকিৎসককে অভিযুক্ত করে চকবাজার থানায় এজাহার দায়ের করেন রাইফার বাবা সাংবাদিক রুবেল খান। এজাহারে অভিযুক্ত বাকি তিনজন হলেন- ডা. বিধান রায় চৌধুরী (৫০), ডা. দেবাশীষ সেনগুপ্ত (৩২) ও ডা. শুভ্র দেব (৩২)। অভিযুক্ত প্রত্যেকের ঠিকানা দেয়া হয়েছে ম্যাক্স হাসপাতাল। বিষয়টি নিশ্চিত করে চকবাজার থানার ওসি মো. আবুল কালাম বলেন, এজাহারটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। 

গত ২৯ জুন রাতে নগরের বেসরকারি ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাংবাদিক রুবেল খানের মেয়ে রাইফা খান। মৃত্যুর পর থেকেই রাইফার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই অকালমৃত্যু ঘটে রাইফার।
ঐ দিন রাতেই এ জন্য দায়ী ডাক্তার এবং নার্সদের আটক করে চকবাজার থানা পুলিশ। কিন্তু ভোর রাতে তাদের ছাড়িয়ে আনতে থানায় গিয়ে অশোভন আচরণ এবং চট্টগ্রামে চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুমকি দেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সল ইকবাল চৌধুরী ও তার সহযোগীরা।
রাইফার মৃত্যুর পর চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৬ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলায় রাইফার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করে তদন্ত কমিটি।
এ ছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ম্যাক্স হাসপাতালের লাইসেন্সে ত্রুটিসহ ১১টি অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানায়। গত ৮ জুন ম্যাক্স হাসপাতালে ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। 
এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসুচি অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার  বিকেল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামলের সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার, বিএফইউজের নব নির্বাচিত সহসভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, সিনিয়র সহভাপতি মাঈনুদ্দিন দুলাল, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, বিএফইউজের নব নির্বাচিত যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক সবুর শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কুতুব উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য উত্তম সেনগুপ্ত, রতন কান্তি দেবাশীষসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
রাইফা’র মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সাংবাদিক-জনতার আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিনতির দিকে এগিয়ে  নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের এই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামে চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগনের দৌরগৌড়ায় পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সাংবাদিকরা সহায়ক হিসাবে কাজ করবে। 
সমাবেশে বক্তারা, রাইফা’র মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, 
বিএমডিসি’র গঠিত তদন্ত কমিটি সকল বির্তকের উর্ধ্বে উঠে নিরেপক্ষ ভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেবে। সরকারের নেয়া উদ্যোগের প্রতি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ পূর্ণ সমর্থন জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষনা দেন।