Opu Hasnat

আজ ২৩ জুলাই সোমবার ২০১৮,

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম  জেলা ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড.এস.এম মনির-উজ-জামান, বিপিএম, পিপিএম-এর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নগরীর খুলশীস্থ ডিআইজি’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে সংসদের জেলা ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিনের নেতৃত্বে সম্মাননা স্মারক ও ফুল দিয়ে ডিআইজিকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতৃবৃন্দরা। 

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা  ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত অতিথি পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিদায়ী ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস.এম. মনির-উজ-জামান, বিপিএম, পিপিএম।  বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (এএন্ডএফ) এস এম রোকন উদ্দিন, অতিরিক্ত ডিআইজি (ওএনসি) মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ ও জেলা পুলিশের আরআরএফ কমান্ড্যান্ট (এসপি) মো. মাসুদ করিম। 

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার এ কে এম সরোয়ার কামাল দুলু, সহকারী কমান্ডার (ক্রীড়া) মো. বদিউজ্জামান, সহকারী কমান্ডার (শিক্ষা ও পাঠাগার) বোরহান উদ্দিন, সহকারী কমান্ডার (শ্রম ও জনশক্তি) রসিদ সিদ্দিকী, কার্যকরী সদস্য সেকান্দর আলী চৌধুরী, একরামুল হক, বাবুল মজুমদার, থানা কমান্ডার মো. হারুন মিয়া (বোয়ালখালী), মো. মহিউদ্দিন (পটিয়া), খায়রুল বশর (রাঙ্গুনিয়া), আবু তাহের (সাতকানিয়া), জাফর আলী হিরু (চন্দনাইশ), আকতার আহমদ সিকদার  (লোহাগাড়া), শামসুল আলম (ফটিকছড়ি), সহকারী কমান্ডার (রাঙ্গুনিয়া) তপন কান্তি দাশ,  বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসহাক, বন গোপাল দাশ, তপন বড়–য়া, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক মশিউজ্জমান সিদ্দিকী পাভেল ও সদস্য সচিব কামরুল হুদা পাভেল। 

অনুষ্ঠান বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে কর্মরত পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও থানা ইউনিট কমান্ডের নেতৃবৃন্দ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী ডিআইজি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস.এম. মনির-উজ-জামান, বিপিএম, পিপিএম বলেন,  এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা কখনো কারো কাছে মাথানত করে না। আমি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার ভালোবাসা ও সংগ্রামের সাথী তারা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে লুঙ্গি-গামছা পরিধান করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ বিরোধী পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীকে বিতাড়িত করতে না পারলে আমরা ‘বাংলাদেশ’ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেতাম না। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে  মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। ত্যাগ-তিতিক্ষা উপেক্ষা করে জীবনের মায়া ছেড়ে সেদিন  বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি পেতাত্মাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়লে এদেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তালেবান ও সিরিয়া হত। অস্থিতিশীল, রনাঙ্গন ধ্বংসযজ্ঞের  রাষ্ট্রে পরিণত হতো এ দেশ।  জাতির পিতা আমাদেরকে এনে দিয়েছেন স্বাধীনতার লাল সবুজের পতাকা। আজ তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধিসহ অনেক জণকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে রয়েছেন।  যতদিন মহান আল্লাহ তায়ালা আমাকে বাঁচিয়ে রাখবেন ততদিন এদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মনে রাখবো। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত করে নিজেরাও সম্মানিত হয়েছেন। এ বিষয়টা চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। 

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা  ইউনিট কমান্ডার মো. সাহাবউদ্দিন বলেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পুলিশের একজন ডিআইজি’র বিদায়ী সংবর্ধনা এবার প্রথম। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ড. এস.এম. মনির-উজ-জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।  তিনি চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের বিভিন্ন কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে গেছেন। তিনি একজন চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চট্টগ্রামে জঙ্গিবাদ,  নাশকতা ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেছেন ডিআইজি।