Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

লোকবল সংকটে ব্যহত ছাতক প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সুনামগঞ্জ

লোকবল সংকটে ব্যহত ছাতক প্রাণী সম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা প্রাণীসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রাণীসম্পদ অফিসের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই উপজেলার প্রায় ৮৫ হাজার হাস মুরগী ও গবাদিপশু। প্রয়োজনীয় উপকরণ, ঔষধ ও জনবল সংকটের কারনেই দিন দিন নিমজ্জিত হয়ে পড়ছে সরকারি এই প্রাণী সম্পদ অফিসটি। ১১টি পদের মধ্যে ৮টি পদই রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে  শূন্য। বিগত ৫ বছর ধরে ভেটিরিনারী সার্জন ছাড়াই চলছে এই সরকারী হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য ভবন আছে, এলাকায় পর্যাপ্ত গবাদিপশু আছে, নেই শুধু সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, তাই জনগন ছুটছে চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে। 

প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শিল্পনগরী ছাতক উপজেলা গঠিত। এই উপজেলায় তালিকাভুক্ত গরুর খামার রয়েছে ১৮টি। এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে আরো ছোট-বড় প্রায় ৬০টি খামার রয়েছে। ছাগলের খামার ৩টি, হাঁেসর খামার ২শ’টি ও মোরগের খামার রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক। তবে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার হবে। বর্তমান সরকার যখন দেশকে দারিদ্র্য মুক্ত করতে বিভিন্ন উপায়ে যেমন, ছাগল পালন, হাঁস- মুরগীর খামার, গবাদী পশু পালনে মানুষদের আগ্রহী করছেন প্রশিক্ষন দিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে সরকারি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অসচেতনা ও অবহেলায় যেমন আগ্রহ হারাতে বসেছে পশু পালনকারীরা, তেমনি নষ্ট হচ্ছে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালটির সরঞ্জামাদিও । কারন প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে উপজেলার এই প্রাণী সম্পদ হাসপাতালটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির ১১টি পদের মধ্যে ৮টি পদই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারি দিয়ে চলছে অফিসের কার্যক্রম। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা, ভেটেরিনারী কম্পাউটার ও এফএএআইসহ ৩ পদের লোকের মাধ্যমে সরকারি এই হাসপাতালটির কার্যক্রম চলছে। আর অন্যান্য ৮টি পদ ৫বছর ধরে শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে ভেটেরিনারী সার্জন ১জন, ভিএফএ ৩জন, ইউএলএ ১জন, অফিস সহকারি ১জন, ড্রেসার ১জন, এমএলএসএস ১জন। এই পদগুলো শুন্য থাকায় গবাদিপশুর চিকিৎসা সেবা নিয়ে উপজেলাবাসী পড়েছে নানা বিপাকে। জানা যায়, এখানে এক সময় প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন বিভিন্ন সেবা যেমন কৃত্তিম প্রজনন, ছাগলের ঠান্ডা কাশিসহ ভ্যাক্সিন দিতে আসতো। বর্তমানে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে খামারিদের। এছাড়াও ৩জন কর্মকর্তা কর্মরত থাকা অবস্থায়ও খামারিরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। নির্ধারিত সময়ে অফিসে না আসার অভিযোগও উঠেছে প্রানী সম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরকারী সেবার এই দৈন্যদশার সুযোগে পশু ডাক্তারের নামে হাতুড়ে ডাক্তারের ছড়াছড়ি। আর এদের হাতে গলাকাটা সেবার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। এক সময় এই হাসপাতালটি হতে সপ্তাহে একদিন বিনা ম‚ল্যে হাঁস মুরগী ভ্যাকসিন প্রদান করা হতো। বর্তমানে সেটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষ বিপাকে পড়েছে। কারণ বর্তমানে বাজারে হাজারের নীচে ২০/২৫ টির হাঁস মুরগীর কোন ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। আর সাধারণ মানুষের পক্ষে এতদামের ভ্যাকসিনও কেনা সম্ভব হয় না। 

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুদ করিম সিদ্দিকী বলেন,এখানে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় বিপুল জনগোষ্ঠির প্রাণী সম্পদ চিকিৎসায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রত্যেক মাসিক সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন করি এবং লিখিত আবেদন করি কিন্তু কোন ফল আসে না। উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বলেন লোক নেই কোথা থেকে দেব, যেভাবে চলে সেভাবে চালাতে হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর