Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

কুমিল্লায় দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ নিয়ে ধুম্রজাল! কুমিল্লা

কুমিল্লায় দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত লাশ নিয়ে ধুম্রজাল!

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা এলাকার বাতুপাড়া গ্রাম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দুই সন্তানের জননী গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই গ্রামের স্বামীর বাড়ী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম আসমা আক্তার সাথী (২২)। সে উপজেলার কাজী জোড়পুকুরিয়া গ্রামের শাহাজালালের মেয়ে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদাউস বাদী হয়ে কুমিল্লা নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের মা জান্নাতুল ফেরদাউস জানান, বিগত ৪ বছর পূর্বে পৌরসদরের বাতুপাড়া গ্রামের বড় বাড়ীর মৃত: এয়াকুবের ছেলে জহিরুল ইসলামের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাথীর। বর্তমানে তাদের সংসারে ২ বছর ও দেড় মাস বয়সী দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টার দিকে আমার মেয়ের জামাই জহিরুল ইসলাম জরুরীভাবে তাদের বাড়ীতে যাওয়ার জন্য আমাকে ফোন করে। আমি গিয়ে দেখি সবাই নীরব। তখন আমি তাদেরকে আমার মেয়ে সাথীর কথা জিজ্ঞেস করলে তারা বলে আপনার মেয়ে ফাঁসিতে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছে। 

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ে পর্দানশীল ছিল। সে হজ্ব পালন করেছে এবং কোরআনে হাফেজা ছিল। আমার বিশ্বাস তারা আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে। তার দাবী, সাথীর জামাই জহির তার ভাবীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত ছিল। এনিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই কলহ হতো। এসব অশান্তির কথা আমার মেয়ে সাথী আমাকে জানালে আমি তাকে শান্তনা দিতাম। আমার মেয়েকে তারা হত্যা করেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে আমার মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন করে বিচার দাবী জানাই।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।