Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

মহেশপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পের অর্থ ভুয়া সমবায় সমতির নামে খরচ ঝিনাইদহ

মহেশপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পের অর্থ ভুয়া সমবায় সমতির নামে খরচ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পের অর্থ ভুয়া সমবায় সমতির নামে খরচ করা হয়েছে। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তোলপাড় শুরু হয়।

জেলা সমবায় অফিসার নুরুল কুদ্দুস জানান, ২০০২ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলার খালিশপুর গ্রামে ‘মহেশপুর আদিবাসি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সমিতি রেজিস্ট্রেশন করা হয়। যার রেজি নং-৫৫৭/ঝি । কার্যক্রম না থাকায়  ২০১৬ সালের  ৩ অক্টোবর ১৮৬৪ নাম্বার এক আদেশে ওই সমিতির রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করা হয়। তিনি আরো জানান, রোববার (৮ জুলাই) সকালে মহেশপুর উপজেলার গোয়ালহুদা গ্রামের জনৈক মঙ্গল চন্দ্র সরদার ওই সমিতির নামে ফের নিবন্ধন করার জন্য তার কার্যালয়ে আসেন। এর পর বেরিয়ে পড়ে আসল খবর। জেলা সমবায় অফিসারের দেওয়া তথ্য মতে নিবন্ধন বাতিল করা ওই সমবায় সমিতির নামে সমতলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পে বরাদ্দ থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নিবার্হী অফিসার মো: কামরুল ইসলাম সমিতির নিবন্ধন সংক্রান্ত সমবায় দপ্তরের মতামত না নিয়ে নিজ ক্ষমতা বলে বরাদ্দের অর্থ খরচ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জেলার মহেশপুর ১১ লাখ ১০ হাজার, ঝিনাইদহ সদরে  ৬ লাখ ৫০ হাজার, শৈলকুপায় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সুত্র মতে বরাদ্দের এ অর্থ স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ৩০ জুন উত্তোলন করেন এবং বিশেষ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখেন। প্রাপ্ত তথ্য মতে গত ১ জুলাই নিবন্ধন বাতিল হওয়া মহেশপুর আদিবাসি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড ও মহেশপুর উপজেলা আদিবাসি সমাজ কল্যান সমিতির সদস্যদের নামে১১  লাখ ১০ হাজার খরচ দেখানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে এই টাকার মধ্যে ৬ লাখ টাকা দিয়ে ৪টি পাওয়ার টিলার এবং বাকি টাকা দিয়ে উপবৃত্তিসহ শিক্ষা উপকরণ কেনা বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে। সুত্র মতে নিবন্ধন বাতিল হওয়া মহেশপুর আদিবাসি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের কথিত সভাপতি মঙ্গল চন্দ্র সরদারের হাতে অনুষ্ঠানিক ভাবে দুইটি পাওয়ার টিলার তুলে দেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার। এ ঘটনায় এলাকার আদিবাসিদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা শহরে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান তারা। আরো অভিযোগ করা হয়েছে ‘মহেশপুর আদিবাসি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের অবৈধ সমবায় সমিতির কথিত সভাপতি মঙ্গল চন্দ্র সরদারের নাম ভারতের ২৪ পরগনা জেলার বাগদা থানার রোনঘাট গ্রামের ভোটার তালিকার সিরিয়াল নং-৯০৯। 

তবে মঙ্গল চন্দ্র সরদার ভারতীয় নাগরিক হওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ঘটনার জন্য দায়ি হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হবেন। কারন হিসেবে তিনি বলেন উপজেলা নির্বার্হী অফিসার ডেকে নিয়ে পাওয়ার টিলার দিয়েছেন এবং সে গুলো তার কাছেই রয়েছে। এসময় ফতেপুর ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধন সনদ দেখান। এতে দেখা যায় তার বাড়ি জন্মস্থান মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামে। তার বাবার নাম বিঞ্চু সরদার এবং মায়ের নাম দাসী বালা সরদার।

এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আবু তালহা বলেন, প্রতিটি পাওয়ার টিলার দেড় লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। পাওয়ার টিলার ক্রয় কমিটির আহবায়ক ছিলেন বলেও জানান তিনি। উপজেলা সমবায় অফিসার ফরিদুল ইসলাম জানান, কবে কখন পাওয়ার টিলার ক্রয় করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। মহেশপুর আদিবাসি বহুমুখী সমাজ কল্যাণ সমবায় সমিতির নামে যে সমিতি ছিল তা ২০১৬ সালে নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। উপজেলা সমবায় অফিসার আরো জানিয়েছেন ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে রেরাববার (৮ জুলাই) উপজেলা নির্বার্হী অফিসার নিজ কার্যালয়ে ডেকে পাঠান তাকে। বিষয়টি জানতে চান তার কাছে।

অপর দিকে উপজেলা সমাজসেবা  অফিসার কাজী জয়নুর রহমান জানান, তার দপ্তরের নিবন্ধন করা একটিই মাত্র সমিতি রয়েছে। তার নাম হচ্ছে আদিবাসি সমাজকল্যাণ সমিতি। আদিবাসি বহুমুখী সমাজকল্যাণ সমিতির নামের কোন সমিতির অস্থিত্ব নেই বলে জানান তিনি। 

অভিযোগ করা হয়েছে মহেশপুর উপজেলা নির্বার্হী অফিসার নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদ্দেশ্যমুলক ভাবে ভুয়া আদিবাসি সমবায় সমিতির নামে বরাদ্দের অর্থ খরচ দেখিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বার্হী অফিসার মো: কামরুল ইসলাম ফোনে ‘মহেশপুর আদিবাসি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এর নিবন্ধন বাতিল করার খবরের সত্যতা স্বীকার করেন। তবে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং প্রধানমন্ত্রির দপ্তর থেকে দুইটি সমিাতির নামে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে দাবী করেন। তিনি আরো দাবী করে বরাদ্দ প্রাপ্তদের মাঝেই পাওয়ার টিলারসহ মালামাল বিতরন করা হয়েছে।