Opu Hasnat

আজ ২২ জুলাই রবিবার ২০১৮,

ঝালকাঠি কারাগারে মাদক সরবরাহকারী কারারক্ষী সুমন মৃধাকে শেরপুরে বদলী ঝালকাঠি

ঝালকাঠি কারাগারে মাদক সরবরাহকারী  কারারক্ষী সুমন মৃধাকে শেরপুরে বদলী

 ঝালকাঠি কারাগারে মাদক সরবরাহকারী কারারক্ষি সুমন মৃধাকে শেরপুর কারাগারে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইজি প্রিজন কার্যালয়ের এক আদেশে তাকে বদলী করা হয়। কারারক্ষি জাহিদ ইয়াবাসহ একাধিকবার গ্রেফতারের পর কারারক্ষী সুমন মৃধার বিরুদ্ধে মাদকাসক্ত আসামীদের কাছে গোপনে মাদকাদ্রব্য সরবরাহ সহ নানা অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠে। এদিকে ১০ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে অভিযুক্ত সুমন মৃধাকে শেরপুর জেলা কারাগারে বদলী করা হয়েছে এমনই খবর নিশ্চিত করেছে ঝালকাঠির জেল সুপার  মোঃ শফিউল আলম। ঝালকাঠি কারাগারের মাদক নির্মুল কামিটির সভাপতি সুবেদার নজরুল ইসলাম বলেন, বাহির থেকে আসামী কারা গেটে প্রবেশের পর ৩ স্তরে তল্লাশী করা হয়। মাদক সহ কোন ধরনের বস্তু ভিতরে প্রবেশের কোন সুযোগ নেই। জেলার তরিকুল ইসলাম জানান, অফিস ডিউটির সুযোগে কারারক্ষী সুমন মৃধা অবৈধ ভাবে মাদক কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করাচ্ছে এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে তাকে অফিস দায়িত্ব থেকে সরিয়ে আরপি গেটে (মূল গেট) অভ্যর্থনা পয়েন্টে ডিউটি দিয়ে বিষয়টি ডিআইজি (প্রিজন) স্যারকে অবহিত করি। ডিআইজি (প্রিজন) মোঃ সগির আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, সুমনের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছে ঝালকাঠি কারা কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আসলে তা তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।   উল্লেখ্য, ঝালকাঠি কারাগারে দীর্ঘদিন যাবত মাদকাসক্ত আসামীদের কাছে মাদকদ্রব্য বিশেষ করে গাঁজা, ইয়াবা সরবারহ করে আসছিল কারারক্ষী জাহিদ হোসেন এবং সুমন মৃধা। জাহিদ  হোসেন এক পর্যায় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে যায়। জাহিদ  হোসেন ৪০ পিচ ইয়াবাসহ প্রথমে  গ্রেফতার হয় বরিশাল ডিবি পুলিশের হাতে ২০১৭ সালের ৬ জুলাই । সে মামলায় কয়েকমাস পর জামিন লাভ করে আবার  সে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। জাহিদের ইয়াবা ব্যবসায় সহযোগীতা করতো কারারক্ষী সুমন মৃধা। সর্বশেষ ঝালকাঠি ডিবি পুলিশের হাতে ১০ পিচ ইয়াবাসহ গত ১৯  মে  গ্রেফতার হয় জাহিদ। বর্তমানে জাহিদ ঝালকাঠি কারাগারে আটক আছে। কারাকর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। জাহিদের প্রধান সহযোগী সুমন মৃধা ঝালকাঠি জেল সুপারের ঘনিষ্ঠতার কারনে অফিসে ডিউটি করার সুযোগে অন্যান্য কারারক্ষীদের কোণঠাসা করে কারাগারে আটক চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে  তোলে। কারাগারের বাইরে মাদকাসক্তদের বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করে সুমন অর্থের বিনিময় কারাগারে মাদক সরবারহ শুরু করে। এ ছাড়া সুমন মৃধার বিরুদ্ধে কারাগারে আটক আসামীদের সাথে  দেখা করতে আসা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আসামীদের ওকালত নামায় স্বাক্ষর নিতে জনপ্রতি একশ টাকা এবং  প্রতিদিন জামিনপ্রাপ্ত আসামীদের কাছ  থেকে ৫০০- ১০০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কারাগারে আটক ঝলকাঠির একজন সাংবাদিকের স্ত্রী তার স্বামীর সাথে দেখা করতে গেলে সুমন মৃধা তার কাছ থেকে স্পেশাল  দেখার নামে পাঁচশত টাকা এবং ওই সাংবাদিক জামিনে বের হওয়ার সময় এক হাজার টাকা হাতিয়ে  নেন। পরে ওই সাংবাদিক  জেল সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন।

জাহিদ  হোসেন ইয়াবাসহ একাধিকবার  গ্রেফতার হলেও সুমন মৃধা সবসময় ধরা  ছোয়ার বাইরে রয়ে  গেছে। কারারক্ষী হিসেবে সুমনের মাসিক মূলবেতন ১৪ হাজার টাকা হলেও  সে শহরে সাত হাজার টাকা ভাড়ায় ফ্লাটে থাকেন। তার রয়েছে একটি পালসার  মোটরসাইকেল। সম্প্রতি ঝালকাঠি  জেলা প্রশাসক কার্যালয়  থেকে কারাগারে আটক ১৫ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের  দেখা সাক্ষাতের ওপর কড়াকরি আরোপের নির্দেশনা  দেওয়া হলেও কারারক্ষী সুমন অর্থের বিনিময় ওই ১৫ জনকে বিশেষ সুবিধা দিত বলে অভিযোগ রয়েছে। কারাগারের একাধিক কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন একজন দুইজন লোভী কারারক্ষীর কারনে ঝালকাঠির ৫০ জন কারারক্ষীর সুনাম নস্ট হচ্ছিলো। 

 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর