Opu Hasnat

আজ ২৩ জুলাই সোমবার ২০১৮,

হরিণাকুন্ডু প্রাথমিক শিক্ষার অফিস সহকারী রেজাউলের বিরদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ ঝিনাইদহ

হরিণাকুন্ডু প্রাথমিক শিক্ষার অফিস সহকারী রেজাউলের বিরদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রেজাউল ইসলামের ঘুষ লেনদেনের ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে উপজেলা জুড়ে। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষকদের মাঝে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে সদ্য জাতীয়করণ শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি এ ঘুষ গ্রহন করেছেন। ১ম, ২য় ও ৩য় ধাপের শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি বকেয়া বিল করে দিয়ে হাতিয়ে নেন লাখ লাখ টাকা। রেজাউলের ঘুষের ভিডিও করেন একজন শিক্ষিকার স্বামী। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়। ৩য় ধাপে জাতীয়করণ করা হয় উপজেলার চাঁদপুর জোয়ার্দ্দার পাড়া রেজিষ্ট্রার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে। বকেয়া বিল করার জন্য শিক্ষকদের কাছে দাবি করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। প্রথম দফায় রেজাউল প্রায় লাখ টাকা নেয় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে। এরপর আরো দাবি করা হয়। সে মোতাবেক ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লতিফার স্বামী মিজানুর রহমান আরো কয়েক হাজার টাকা দেন রেজাউলকে। মিজানুর টাকা দেয়ার বিষয়টি কৌশলে ভিডিও করেন। ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য তার পছন্দের শিক্ষক দিয়ে মিজানুরকে হুমকি দিচ্ছে রেজাউল। গেজেটে নাম না থাকলেও সদ্য জাতীয়করণ উপজেলার সুরুজ পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেজাউল নামের এক শিক্ষককে টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক বানিয়ে রেখেছেন তিনি। 

এছাড়া অফিস সহকারী রেজাউলের বিরুদ্বে ঘুষ, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুন্ডুর শিক্ষক সমাজ দূর্নীতিবাজ এই কর্মচারীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়লেও হয়রানির ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। প্রতিবাদ করলেই চাকরী খেয়ে ফেলার হুমকি দেন রেজাউল। হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ৫ বছর পূর্বে যোগদান করেন রেজাউল। যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা বিতর্কের জন্ম দিয়ে একাধিকবার আলোচনায় উঠে আসেন। শিক্ষকদের বকেয়া বিল, টাইম স্কেল, বদলী বানিজ্য, শ্রান্তি বিনোদন, শিক্ষক প্রশিক্ষনসহ শিক্ষা দপ্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ সম্পাদন করার সুযোগ নেই রেজাউলের দাপটে।

অনিয়ম ছাড়া হরিণাকুন্ডু শিক্ষা অফিসে হয় না এমন কোন কাজের নজীর নেই। সকাল থেকেই অনিয়ম-দূর্ণীতির হাট বসে এ দপ্তরটিতে। হরিণাকুন্ডু উপজেলার শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতিবাজ অফিস সহকারীর কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। কিন্তু ন্যায্য সুবিধা বঞ্চিত অসহায় শিক্ষকগণ বিভিন্ন ধরনের হুমকি, চাকরী হারানোর ভয়, সার্ভিস বইয়ে খারাপ মন্তব্য লেখা এবং হয়রানির ভয়ে প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে ভয় পান। 

হরিণাকুন্ডু উপজেলার ১৩৫টি (সদ্য জাতীয়করণ) বিদ্যালয়ের প্রধানরা ও সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দূর্নীতিবাজ রেজাউলের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। ঘুষের বিনিময়ে নিজের অনুগত শিক্ষকদের একাধিকবার প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সুবিধা পাওয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি ফেরি করে নাম সংগ্রহের পাশাপাশি ঘুষের টাকা আদায়ের বিষয়েও তিনি বহুল আলোচিত। এছাড়া উৎকোচ নিয়ে তিনি ডিপিএড প্রশিক্ষনে থাকা শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষনে প্রেরণ করে থাকেন। ১ম ধাপে ৭৮টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ৩৯০ জন শিক্ষক জাতীয়করণ হয়। এরপর ২য় ধাপে ৫টি বিদ্যালয়ের ২০জন এবং ৩য় ধাপে ১টি বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষককে জাতীয়করণ করা হয়। বকেয়া বিল করার জন্য এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে তিনি মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়েছেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ। কিন্তু ন্যায্য সুবিধা বঞ্চিত অসহায় শিক্ষকগন বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং হয়রানির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চাননা। 

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘুষের টাকায় নামে বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন এই আলোচিত ৩য় শ্রেণির কর্মচারী রেজাউল। তাকে বখরা না দিলে শিক্ষকদের কোন কাজেই হাত দেন না। ৩ বছর পরপর সরকারি চাকুরীজীবিদের বদলীর বিধান থাকলেও ঘুষ, দূর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম করার কারনে তিনি হরিণাকুন্ডু ছাড়েন না। ৫ বছরে তিনি অন্তত ৩ থেকে ৪ বার বদলীর আদেশ প্রাপ্ত হলেও অজ্ঞাত ক্ষমতার জোরে শেষ পর্যন্ত হরিণাকুন্ডুতে বসতী হয়ে উঠেছে রেজাউল। প্রায় ৫ বছর ধরে হরিণাকুন্ডুতে চাকরী করার সুবাদে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলেছেন। হরিণাকুন্ডুর সচেতন নাগরিক সমাজে রেজাউলের খুটোঁর জোর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলেছেন এতদিন কিভাবে একজন ঘুষখোর কর্মচারী এক উপজেলায় চাকুরী করেন। এক নাগাড়ে ৫ বছর ধরে একই উপজেলায় চাকরী করায় যে শিক্ষা অফিসারই আসুক না কেন তারা সবই অফিস সহকারী রেজাউলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। হরিণাকুন্ডুতে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষা অফিসারগনকে বাগে নিতে তিনি অনিয়ম করার পথ বাতলে দিয়ে বাড়তি কিছু নগদ সালামী ধরিয়ে দেওয়ায় তারাও নিরব হয়ে পড়েন। বলতে গেলে রেজাউলের অধীনেই যেন শিক্ষা অফিসের অন্যান্যরা চাকরী করেন বলে ভূক্তভূগিরা জানান। হরিণাকুন্ডুতে এক নামে সবাই তাকে চিনে। কোন নিয়ম নীতির তিনি তোয়াক্কা করেন না। অর্থের বিনিময়ে সমস্থ অনিয়মই তার কাছে নিয়ম হয়ে দাড়িয়েছে। 

এসব বিষয়ে হরিণাকুন্ডু প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী রেজাউলের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন শিক্ষকদের লাখ লাখ টাকার বকেয়া বিল করে দিয়েছি। শিক্ষকরা খুশি হয়ে কিছু টাকা দিয়ে থাকেন এটা ঘুষ বলা যাবেনা। টাকা দিয়ে আবার ভিডিও করা এটা অন্যায়। তবে তার  বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে বলেন, অফিসারদের বিষযে আমার কোন হাত থাকে না। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুর রহমান বলেন, ওই কর্মচারীর ব্যাক্তিগত ঘুষের দায়ভার অফিস নেবেনা। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রেজাউলের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন আমি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করব। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 

উপজেলার শিক্ষক মহলসহ সচেতন নাগরিকগন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই ঘুষখোর, দূনীতিবাজ কর্মচারীর বদলীসহ শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।