Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

হাওরপাড়ের ২৫ লাখ মানুষের দাবী দ্রুত সমাধান

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটের কারনে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে লোকবল সংকটের কারনে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা

হাওরের জেলা সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে সদর হাসপাতালটি। দীর্ঘদিন ধরে কুড়িঁয়ে কুড়িঁয়ে চলা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অভাব আর লোকবল সংকটের কারনে এই বিশাল জনগোষ্ঠির চিকিৎসাসেবা প্রতিনিয়ত ব্যহত হচ্ছে  । এই  জনগোষ্ঠির চিকিৎসাসেবা প্রদানের  জন্য সরকার সাড়া জেলায় ২৫টি চিকিৎসেবা কেন্দ্র চলমান রেখেছেন । তার মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য  স্বাধীনতা পরবর্তী জেলার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালের মাধ্যমে তখন থেকে লোকবল সংকট নিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলেই পুরাতন বিল্ডিংয়ের পাশেই আরো একটি ৭ তলা বিশিষ্ট ভবণ নির্মার্ণ কাজ শেষ হয়েছে যা ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ করে জেলার এই বিশাল জনগোষ্ঠির জন্য সদর হাসপাতাল হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সেবা কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা রয়েছে। 

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ভরসাস্থল হলো সুনামগঞ্জ ২৫০শয্যা সদর হাসপাতালটি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যেখানে সেবা দেওয়ার জন্য এই সরকারী হাসপাতালে ৬৯ জন  ডাক্তারের পদের মধ্যে ১৬ জন কর্মরত থাকলেও পদ খালি রয়েছে ৫৩টি । ২৩১ জন নার্সের পদে ১২৮ জন কর্মরত থাকলে পদ শূন্য রয়েছে ১০৩ টি । 

অপরদিকে হাসপাতালে কর্মকর্তা  কর্মচারী পদে কর্মরত থাকার কথা ২৯৩ জন, কিন্তু সেখানে কর্মরত আছেন ১৬০ জন এবং শূণ্য পদ রয়েছে ১৩৩টি। এর মধ্যে সহকারী পরিচালক রয়েছেন ১জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু)  একজন থাকার কথা থাকলেও সেই পদটি শূণ্য রয়েছে, সিনিয়র কনসালটেন্ট(সার্জারী) রয়েছেন ১জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) রয়েছেন ১জন, সিনিয়র  কনসালটেন্ট (শিশু) ১জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য রয়েছে, সিনিয়র কনসালটেন্ট (এন্সেথেরিয়া) রয়েছেন ১জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট( ই,এন,টি রয়েছেন ১জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডি৩লজি) রয়েছেন ১জন, সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন) ১জন থাকার কথা থাকলেও সেই  পদটি রয়েছে শূণ্য, সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিকস) ১জন থাকার কথা সেই পদটি ও শূণ্য রয়েছে, সিনিয়র কনসালটেন্ট  (ডেন্টাল) রয়েছেন ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) রয়েছেন ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট(অর্থপেডিক) ১জন থাকার কথা সেই পদটি রয়েছে শুন্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট (ই,এন,টি) ১জন থাকার কথা থাকলে ও সেই পদটি ও শূণ্য রয়েছে,জুনিয়র কনসালটেন্ট(এন্সেথেশিয়া) রয়েছেন ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (প্যাথলজি) ১জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদটি রয়েছে শূণ্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট (রেডিওলজি) ১ জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদটি রয়েছে শূণ্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট(চর্ম ও যৌন) পদে ১জন থাকার কথা থাকলে সেই পদটি রয়েছে শূণ্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী)  রয়েছেন ১জন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) রয়েছেন একজন উপস্থিত থাকলেও  জুনিয়র কনসালটেন্ট ( চক্ষু) ১জন রয়েছেন অনুপস্থিত। 

এছাড়াও কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছেন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ১জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ১জন, আবাসিক সার্জন ১জন থাকার কথা থাকলেও সেই পদটি রয়েছে শূণ্য, আবাসিক ফিজিশিয়ান পদে ১জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে ঐ পদটি রয়েছে শূণ্য, এ্যানেসথেটিষ্ট ২জন থাকার কথা থাকলে ও দুটি পদই শুন্য রয়েছে, ই এম ও/সহকারী সার্জন ৪ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন ২জন আর ২টি পদ খালি, সহকারী রেজিষ্টার/সহকারী সার্জন ১২জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে সব পদগুলি পদই শূণ্য, মেডিকেল অফিসার (বিষয় ভিত্তিক) (৫+৭)=১২জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে কর্মরত আাছেন ৪জন বাকি ৮টি পদই শূণ্য রয়েছে, প্যাথলজিষ্ট পদে ১জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে পদটি শূণ্য রয়েছে, রেডিওলজিষ্ট পদে ১জনের পদটি ও খালি,ডেন্টাল সার্জন হিসেবে ১ জন কর্মরত  থাকার কথা থাকলে ও সেই পদটি খালি রয়েছে, মেডিকেল অফিসার (আয়ুবেদীক) ১জন থাকার কথা সেই পদটিও রয়েছে শূণ্য, অন্যান্য আরো ৫৯টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২০জন বাকি ৩৯টি পদই রয়েছে খালি।  

তাছাড়া আরো ৪০ টি পদে সদর হাসপাতালে কর্মচারী থাকার কথা সেখানে ও লোকবল সংকট রয়েছে সেবা তত্বাবধায়ক থেকে শুরু করে ডোম পদটি পর্যন্ত শূণ্য থাকার কারণে সংকটে ভুগছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ২৫০শয্যার এই সদর হাসপাতালটি। অন্য দিকে নার্সিং সুপার ভাইজার ৩জন থাকার কথা তার মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১জন এবং শূণ্য পদের  সংখ্যা রয়েছে ২টি। সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে ২১২জন কর্মরত থাকার কথা থাকলে কর্মরত রয়েছেন ১১২ জন এবং শূণ্য পদ রয়েছে ৯০টি। স্টাফ নার্স ১১ জনের স্থলে সেখানে কর্মরত আছেন ৫জন শূণ্য পদ রয়েছে ৬টি, সহকারী নার্স ৫ জন থাকার কথা সেখানে ৫টি পদই শূণ্য। এই লোকবল সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই জেলার হাওর পারের মানুষজন । এখানে লোকবল সংকটের কারণে উন্নত চিকিৎসা না পেয়ে সাধারন রোগীরা আধুনিক চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী সিলেট, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, ঢাকাসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চলে যাচ্ছেন। হাসপাতালে চিকিৎসকের পদে পদায়না না করায় দূরদূরান্তের অনেক রোগীকে নিয়ে সদর হাসপাতালে আসার পথে রাস্তায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।  তবে অনেক ডাক্তার ও নার্সগন এই হাওরপাড়ের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে যোগাদনের কয়েকদিনের মধ্যেই তদবীরের মাধ্যমে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান এটা ও লোকবল সংকটের আরেকটি কারণ বলে ধারনা করা যায়। বর্তমান সরকার সারাদেশে জনগনের চিকিৎস সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হাওরের এই জেলা সুনামগঞ্জের মানুষের চিকিৎসার উন্নয়নে সরকার হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র, ক্লিনিক তৈরি করেছেন যোগাযোগ বিছিন্ন গ্রামগঞ্জের মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। কিন্তু ঐ সমস্ত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে লোকবল সংকটের কারনে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। সাধারন মানুষজনের প্রত্যাশা এবং দাবী সরকার কবে এই হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর যন্ত্রপাতিসহ লোকবল সংকট নিরসনের মাধ্যমে হাওরপাড়ের মানুষজনের  মধ্যে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সেবা পৌছে দেয়া হবে  এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে সদর থানায় রয়েছে ২৫০শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল এবং বক্ষব্যাধি ক্লিনিক সুনামগঞ্জ। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গোবিন্দনগর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ছাতক উপজেলায় রয়েছে ১টি  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতাল, সৈদেরগাঁও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, বিল্লাই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সিংচাপৈড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মহব্বতপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এছাড়া দিরাই উপজেলায় রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভাটিপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, পেরুয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ধর্মপাশা উপজেলায় রয়েছে ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সুখাইড় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সেলবরষ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মধ্য নগর ২০ শয্যা হাসপাতাল (প্রস্তাবিত)। দোয়ারা বাজার উপজেলায় রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দোহালিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এবং জগন্নাথপুর উপজেলা রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । জামালগঞ্জ  উপজেলা রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। শাল্লা উপজেলা রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ  উপজেলা রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, এবং তাহিরপুর উপজেলা রয়েছে ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এসব প্রতিষ্টানে চিকিৎসাসেবার কার্যক্রম চলমান থাকলেও লোকবল সংকটের কারনে চিকিৎসাসেবার অবনতি ঘটছে । অপরিকল্পিত জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি সর্ম্পকে গ্রামগঞ্জের নারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে একদিকে যেমন জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে তেমনি বাড়ছে রোগীদের সংখ্যাও। এই বিষয়টি সরকার বাহাদুর দ্রুত নজরে নিয়ে এই জেলার বিশাল জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে লোকবল সংকট দ্রুত সমাধানের কোন বিকল্প নেই। 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আর এম ও) ডাঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ডাক্তার, নার্স, পরিচ্ছন্নকর্মীর সংকটের কারণে কিছুটা চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলেও আমরা যারা কর্মরত আছি সিভিল সার্জন মহোদয় থেকে শুরু করে সবাই বাড়তি সময় দিয়েও এ জেলার মানুষের আধুনিক সেবা প্রদানে প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বর্তমান সরকার যেহেতু স্বাস্থ্যসেবা সাধারন মানুষের দৌড়গড়ায় পৌছে দিতে আন্তরিক তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের লোকবল সংকট সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
  
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আশুতোষ দাস জানান লোকবল সংকটের কারনে রোগীদের সেবা দিতে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় রোগীরা আমাদেরকে ভূল বুঝার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু আমাদের মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আর্তমানবতার সেবা হিসেবে এই পেশায় আমার সহকর্মীদের নিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদানে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন সরকারের সুদৃষ্টি এই সদর হাসপাতালের উপর থাকার কারণেই  আমরা লোকবল সংকট দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে এ জেলার প্রতিটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।  তবে হাসপাতালে কেহ কোন ধরনের অনিয়ম আর র্দূনীতির সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান।  

এই বিভাগের অন্যান্য খবর