Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

দর্শনা এলাকা থেকে ২ মাসে প্রায় ৪৩ কেজির ৩৭২ পিচ স্বর্ণের বার উদ্ধার চুয়াডাঙ্গা

দর্শনা এলাকা থেকে ২ মাসে প্রায় ৪৩ কেজির ৩৭২ পিচ স্বর্ণের বার উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ও বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা দল অভিযান চালিয়ে গত দুই মাসে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা কাষ্টমস, নাস্তিপুর মাথাভাঙ্গা নদী ও লোকনাথপুর এলাকা থেকে ৪২ কেজি ৭শ’ ৫৭গ্রাম ওজনের ৩৭২টি র্স্বণের বার ও ১১টি খন্ডবারসহ ৫জন স্বর্ণ চোরাকারবারী কে আটক করেছে। আটককৃতরা হলো- আব্দুল মোতালেব(৫২), নুরুল ইসলাম(৪২), মাসুদ রানা (৪০), দেলোয়ার হোসেন (৫১) ও ইদ্রিস আলী (৫০)। ভারতে পাচারের উদ্দের্শে আনা এসব র্স্বনের বার  আটক করা হয়।
            
জানাগেছে, ২৫.০৪.১৮ বুুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা-৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ভারতে একটি স্বর্ণের বড় চালা পাচার হবে। এমন সংবাদের ভিতিত্বে বিজিবির সদস্যরা আগে থেকে ওৎপেতে থাকে। চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে সোলজারঘাট নামকস্থানে মাথাভাঙ্গা নদীতে চোরাকারবারীরা ৩টি বস্তা পানিতে ফেলে পালিয়ে যায়। বিজিবি সদস্যরা মাথাভাঙ্গা নদী থেকে ৩টি বস্তা উদ্ধার করে। পরে বিজিবির কুষ্টিয়াস্থ সেক্টর কমান্ডার আরশাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গাস্থ-৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক ইমাম হাসানসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ৩টি বস্তায় ৩৬ কেজি ৯২৮ গ্রাম ওজনের ৩২৪টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। 

২৫.০৫.১৮ শুক্রবার দর্শনা চেকপোষ্ট দিয়ে বিপুল পরিমান স্বর্ণের বার ভারতে চালান হবে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দার নির্দেশে ৮ সদস্যের একটি টিম সকাল ৭টা থেকে চেকপোষ্ট অবস্থান করছিল বেলা ১০ টার দিকে ভারতগামী বাংলাদেশী নাগরকি আব্দুল মোতালেব কে আটক করে কাষ্টমস অফিসে রাখা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সাংবাদিদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশী করে পায়ের জুতার ভেতর থেকে সাড়ে ৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন ১ কেজি। যার মূল্য প্রায় অর্ধ কোটি টাকা।

০৭.০৬.১৮ বৃহস্পিতিবার, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই ভাবে অভিযান চালিয়ে দর্শনা আইসিপি চেকপোস্টে এলাকা থেকে পাসপোর্টধারী নুরুল ইসলাম (৪৫) ও মাসুদ রানা কে(৪০) আটক করে। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাদের লাগেজ ব্যাগ দুটি তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৯ টি সোনার বার ও ১১ টি সোনার খন্ডবার উদ্ধার করে। যার ওজন ২ কেজি ২’শ ৭৬ গ্রাম।  যার আনুানিক মূল্য  ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

২৯.০৬.২০১৮ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বেনাপোল শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ সীমান্তের দর্শনা জয়নগর চেকপোষ্ট থেকে চোরকারবারী দেলায়ার হোসেন কে (৫১) আটক করে। পরে তার ল্যাগেজে তল্লাশি করে ল্যাগেজের হাতলের ভিতরে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৩ পিচ র্স্বণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত র্স্বনের বারের ওজন ১ কেজি ৪শ’ ৬৬গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ৭২লক্ষ টাকা। 

সর্বশেষ ০২.০৭.১৮ সোমবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি দামুড়হুদার লোকনাথপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৭টি স্বর্ণের বারসহ ইদ্রীস আলী কে (৫০) আটক করে। পরে সকাল ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর দপ্তরে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের বেল্টের সাথে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে  রাখা ৭টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারের ওজন ৮শ’ ১৫ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ৩৫ লাখ টাকা।