Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৮,

পাইকগাছার ‘মা’ বেকারীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বেকারীর পণ্য খুলনা

পাইকগাছার ‘মা’ বেকারীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বেকারীর পণ্য

 
পাইকগাছার “মা” বেকারীতে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে বেকারী পণ্য। দেখার কেউ নেই।বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ছে মানব দেহে।পাইকগাছার চা এর দোকান থেকে শুরু করে নামী-দামি বেকারীতে বিক্রি হচ্ছে বিস্কুট, চানাচুর, কেক, পাউরুটি, মিষ্টি সন্দেশসহ নানা বাহারী মুখরোচক খাবারর। এই খাবারগুলো কোথায় থেকে আসছে? কোথায় তৈরী হচ্ছে? কি দিয়ে তৈরী হচ্ছে? কোন পরিবেশে তৈরী হচ্ছে? তা ক্রেতারা জানে না।পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খবর রাখেন কি?
 
সরেজমিনে অনুসন্ধান জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার নতুন বাজার নামক এলাকায়" মা "বেকারী নামক একটি বেকারী রয়েছে।যেখানে তৈরী হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে নানান ধরনের খাবার। স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে অবাধে তৈরী করা হচ্ছে বেকারী সামগ্রী। কারখানার ভেতরে যেখানে তৈরী খাবার রাখা আছে সেখানেই আটা, ময়দার গোডাউন। রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল এবং একাধিক পাম ওয়েলের ড্রাম। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরী পণ্য। শ্রমিকরা খালি পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাটি করছে। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরী করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভন ভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ন তারিখ ছাড়াই বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারী সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। এখানে
 
কারখানার শ্রমিকরা বেপোরোয়া গতিতে চালাচ্ছে তাদের পণ্য উৎপাদন। এছাড়া পাইকগাছায় আরো কয়েকটি বেকারির মালিকরা বিকল্প বেকারি মোড়কে ২ নম্বর খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পণ্য বাজারজাত করা সহ বিভিন্ন চায়ের দোকানে সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফজরের আজানের পর পরই কোম্পানির ভ্যানে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, অলিগলির জেনারেল স্টোর ও চায়ের দোকানে ওই সব পণ্য পৌছে দেন পাইকারী বিক্রেতারা। পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চায়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায়,মা" বেকারীর পণ্য বিভিন্ন বিকল্প বেকারীর মোড়কে একাধিক পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাউরুটি, ক্রীমরোল, কেক, পেটিস, সিঙ্গাড়াসহ অন্যান্য খাদ্য পন্য। মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ লেখা
 
থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তার কোন উল্লেখ নেই।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভেজাল কেমিক্যাল ও নিম্নমানের উপকরন দিয়ে তৈরী করা এসব খাবার সামগ্রী খেলে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারে। পেটব্যাথা, শরীর দূর্বলসহ জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি রয়েছে। তারা আরো বলেন, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এসব ভেজাল খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই।কারখানায় হাতে পায়ে ক্লাব পরিহিত ছাড়াই পণ্য তৈরীরত এক কর্মচারী বলেন, দিনের বেলায় তারা কোন পণ্য উৎপাদন করেন না। ফজরের আগেই পণ্য উৎপাদন শেষ হয়ে যায়। রাতে ভ্রাম্যমান আদালত, র্যাব ও পুলিশের ঝামেলা কম বলেই পণ্য উৎপাদন রাতেই শেষ করে থাকে। চা দোকানি হারুন বলেন, আমরা গরীব মানুষ, ফুটপথের পাশে চা-পান বিক্রি করে সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নাই। ক্রেতারা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। প্যাকেট থেকে কোনমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে ওই সব বেকারী সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। মা" বেকারীর মালিক হরিঢালী ইউনিয়নের আশরাফ আলী গাজীর পুত্র কবির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে লিখে লাভ হবে না। সকল সংস্থাকে ম্যানেজ করেই কারখানায় পরিচালনা করি। আপনারা যা কিছু খুশি লিখতে পারেন আপত্তি নেই। পরে একাধিক কারখানায় গিয়ে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর উদয় মন্ডল জানান,উক্ত বেকারীতে কিছু দিন পূর্বে ভ্রাম্যমান আদালত বসানো হয়েছিল এবং জরিমানা সহ সতর্ক করা হয়েছিল। এছাড়াও অন্য যেসব কারখানায় অস্বাস্থ্য ও নোংরা পরিবেশে ভেজাল খাদ্য তৈরী করা হচৃছে সে সব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে তাদেরকেও খাদ্য আইনে সংশোধন হওয়ার পরামর্শ দিব। খাদ্যনীতিমালা অমান্য করিলে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান জানান, মা বেকারীতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে, আবারও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।