Opu Hasnat

আজ ১৭ নভেম্বর শনিবার ২০১৮,

গাজীপুরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী ও সমর্থকরা গাজীপুর

গাজীপুরে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থী ও সমর্থকরা

সোমবার মধ্য রাত থেকে শেষ হবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। তাই নির্বাচনে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। তারা পারা মহল্লা ও অলিগলিতে গিয়ে দিচ্ছেন শেষ মুহূর্তের প্রতিশ্রুতিও।

এ নির্বাচনে ৭ জন মেয়র পদে, ৮৪ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সালনায় সকাল ৮টায় প্রচারণা শুরু করেছেন। এ সময় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যেখানে গেছি, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবার স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব দেখেছি। নির্বাচনে নৌকার পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দেবেন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারও প্রচারণা চালাচ্ছেন টঙ্গী থানা এলাকায়। এর আগে তিনি টঙ্গী বিএনপি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পুলিশের গাড়িতে চড়ে নির্বাচনের প্রচারণায় নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি নতুন কৌশলে তাদের গ্রেপ্তার করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভয়-ভীতিও দেখানো হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবো।

তিনি প্রত্যাশা করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয় পাবে বিএনপি।

এছাড়া কাউন্সিল প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা দিনরাত প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্বাচনের পোলিং এজেন্ট নিয়োগ প্রশিক্ষণ নিয়ে।

এদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল বলেন, নির্বাচনের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে যথা সময়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে নয় হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো গোলযোগ ও অনিয়ম না হয়। আজকে রাতের ভেতরে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বে থাকা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনী মালামাল বণ্টন করা হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আজ রবিবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যদের বহনকারী গাড়ি চলতে দেখা যাচ্ছে মহাসড়কে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

জানা যায়, আজ রবিবার সকাল থেকে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্লাটুনগুলো ২৭ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১১ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে ৫৭টি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ২০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে এবার। এছাড়া ৫৭টি ওয়ার্ডে র‌্যাবের মোট ৫৮টি টিম মোতায়েন থাকবে।

আগামী ২৭ জুন পর্যন্ত ৫৭টি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। আরও ১০ জন অতিরিক্ত ধরে সর্বমোট ৬৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সিটির প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে মোট ১৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। তারা ২৪ থেকে ২৭ জুন নগরীতে দায়িত্ব পালন করবেন।

৫৭টি সাধারণ এবং ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড বিশিষ্ট এ সিটি করপোরেশনের মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৭ জন। এরমধ্যে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ জন পুরুষ এবং ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮০১ জন নারী ভোটার।