Opu Hasnat

আজ ১৯ জুলাই বৃহস্পতিবার ২০১৮,

আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে মানিকগঞ্জ

আরিচা-পাটুরিয়া ঘাটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়, যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষজন তাদের কর্মস্থলে ছুটে যাচ্ছেন গত কয়েকদিনদিন যাবত। এতে আরিচা ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘ জনজট ও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এই সুযোগে পরিবহনের একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম পরিবহন সংকট তৈরী  কর্মস্থল অভিমুখে ফিরতি যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা অভিমুখে ছুটে চলা মানুষজন আরিচা ও পাটুরিয়াঘাটে ভিড় করছেন। আরিচা হতে ঢাকার ভাড়া সাধারন সময়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা । আর এখন যাত্রীদের ভিড়ের কারণে পরিবহন সেক্টরের অসাধু ব্যবসায়ীরা ৮০-১০০ টাকার ভাড়া আদায় করছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং তথাকথিত জিপি ফান্ডের নামে প্রতি গাড়ী থেকে অতিরিক্ত ৬০০-১০০০ টাকা আদায় করছে। 

এব্যপারে পরিবহন মালিকদের সাথে কথা বললে তারা বলছেন যাত্রীরা একমুখী হওয়ার কারনে অপর প্রান্ত থেকে বাস খালি আসবে বিধায় ডাবল ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে।
এদিকে যাত্রীরা এ বিষয়টিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। 

পাবনা জেলার কাজিরহাট থেকে আগত নুরজাহান নবীনগর একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। বেতন খুবই সীমিত । যা ছিল সে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে খরচ করেছেন । মাত্র ২০০ টাকা নিয়ে রওনা দিয়েছেন নবীনগর অভিমুখে। ৫৫ টাকা লঞ্চ ভাড়া আর আরিচা থেকে নবীনগর ৪০/৪৫ টাকা সবমিলিয়ে ১০০ টাকা । কিন্তু ঘাটে এসে দেখেন আরিচা হতে নবীনগরের ভাড়া ২০০ টাকা। এতে সে মহা বিপদে পড়েছেন। কোন গাড়ি ৫০ টাকা তো দূরের কথা ১০০ টাকাতেও তাকে নিতে চাচ্ছে না। নুরজাহান অসহায়ের মতো বসে আছে বাসস্ট্যান্ডে। এছাড়াও রহমান, লিয়াকত, বেগম, সাহেরা, আফরোজা, সোবহানসহ অনেকেই এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বাসস্ট্যান্ডে বসে আছেন। 

অপরদিকে, পাটুরিয়ায় গিয়ে দেখা গেছে একই চিত্র । রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোয়ালন্দ ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা  থেকে আগত মানুষজন বেশি ভাড়া দিতে না পেরে টার্মিনালে বসে আছে। তারা অপেক্ষায় আছে কম ভাড়ায় কোন না কোন সময় তাদেরকে নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলতে গেলে তারা ব্যস্ততার কারণে কথা বলার সুযোগ পাননি।

উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামাচ্ছেন বলে মনে হলো না। সবকিছুই কেমন যেন এলোমেলো। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে অথচ সবাই পুতুলের মতো নিশ্চুপ। সংকটে পরা যাত্রীরা  অসহায়ের মত বসে আছে। যে কেউ ক্যামেরা নিয়ে এগিয়ে গেলেই তাকে তাদের  ক্ষোভের  কথা বলছে কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছেন না।  ঘাট এলাকায় এলোমেলো ঘুরছেন একটু আশায় দেরী হলেও আগের বাড়াতেই যাওয়া যাবে গন্তব্যে ।