Opu Hasnat

আজ ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ২০১৮,

সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও মুক্তমনা লেখক শাজাহান বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন মুন্সিগঞ্জ

সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও মুক্তমনা লেখক শাজাহান বাচ্চুর দাফন সম্পন্ন

মুন্সীগঞ্জ জেলার কমিনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও মুক্তমনা লেখক শাহজাহান বাচ্চুর লাশ ময়না তদন্তের পর বিকাল ৪ টায় কাকালদি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে কাকালদি কবরস্থানে তার মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। 

নিহতের ভাতিজা ইরান মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং তিনি বলেন, এলাকাবাসী প্রথমে লাশ দাফনে বাধা দিলেও পরে মধ্যপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম এর হস্তক্ষেপে লাশ দাফন করা হয়। লাশ দাফনের সময় ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানা প্রশাসন উপস্থিত ছিল। এ ঘটনায় নিহতের ২য় স্ত্রী আফসানা জাহানা সকালে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামী সিরাজদিখান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এদিকে এই হত্যার প্রতিবাদে মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে দুপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবন্ধনে এই হত্যার দ্রুত বিচার দাবী করেছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। 

মঙ্গলবার বেলা ১২ টার সময় র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ, ঢাকা রেঞ্জের এ্যাডিশনাল ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম পিপিএম, র‌্যাব ১১ মুন্সীগঞ্জ ভাগ্যকুল এর ক্যাম্প কমান্ডার নাহিদ হাসান জনি, সিনিয়র এএসপি (সিরাজদিখান সার্কেল) আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

এ্যাডিশনাল ডিআইজি আসাদ বলেন, তিনি ব্লগার কিনা জানি না তবে সব কিছু মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। র‌্যাব-১১ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, আমরা তদন্ত শুরু করেছি, আমাদের হেড অফিস এবং আমাদের মুন্সীগঞ্জ টিম কাজ করছে, টেকনোলোজি এবং ফিজিক্যালি এ দুটো নিয়েই আমরা কাজ করছি। 

নিহত শাজাহান বাচ্চুর দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা জাহান বলেন, আমার স্বামী ফেইসবুকে লেখালেখি করত মাঝে মধ্যে আমাকে বলত জঙ্গিরা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। 

এর পুর্বে সোমবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জেলা কমিনিষ্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক, কবি, প্রকাশক ও ব্লগার শাজাহান বাচ্চু (৬৫) নিহত হন। 

জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যাপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকালদি গ্রামের তিন র্স্তাার মোড়ে তার বাড়ি থেকে আধা কি.মি. পূর্ব দিকে এ ঘটনা ঘটে। সে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের কাকালদি গ্রামের মরহুম মমতাজ আলী চেয়ারম্যানের ছেলে। 

শাহজাহান বাচ্চুর ১ম সংসারের ছোট মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার ছাত্রী দূর্বা (২০) জানান, লাশ দেখার আগ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে পারি নাই বাবা মারা গেছে। জানিনা কারা মারতে পারে। কে করেছে সেটা যেহেতু আমি জানিনা। ওমুক দল করে এটা বলব না। তদন্ত সাপেক্ষে যেটা হবে। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম জানান, এই ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামী কওে সিরাজদিখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ধর্মীয় উগ্রবাদ ও পারিবারিক কলহকে প্রাধান্য দিয়ে হত্যার সূত্র খোঁজার জন্য কাজ শুরু করেছে পুলিশ।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, সকল ইউনিট এ বিষয়ে কাজ করছে আমরা সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এটার সাথে যারা জড়িত আছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে এই রহস্যের উদঘাটন করব।

প্রসঙ্গত, পূর্ব কাকালদী (মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়কের) তিন রাস্তার মোড়ে আনোয়ার হোসেনের ফার্মেসী থেকে বেড় হওয়ার পর শাজাহান বাচ্চু খুন হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ২ টি মোটর সাইকেলে ৪ জন লোক এসে তাকে ধরে রাস্তায় নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় সিরাজদিখান থানার এএসআই মাসুম ঐ রাস্তা দিয়ে মুন্সীগঞ্জ থেকে থানার দিকে যাচ্ছিলেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর