Opu Hasnat

আজ ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৮,

কয়রায় এক সন্তানের জননীর উপর পাশবিক নির্যাতন খুলনা

কয়রায় এক সন্তানের জননীর উপর পাশবিক নির্যাতন

হাতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের এক সন্তানের জননী পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের তীর সুড়িখালী বাজারের বালী ব্যবসায়ীর দিকে। নির্যাতিতার অভিযোগ পার্শ্ববর্তী দিনেশ মন্ডলের উপর। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে বালি ব্যবসায়ী নির্যাতিতাকে সহযোগিতা করে চলেছে। সচেতন মহল সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
 
জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়রা উপজেলার হাতিয়ারডাঙ্গা গ্রামের সঞ্জয় সরকারের  স্ত্রী এক সন্তানের জননী পার্শ্ববর্তী সুড়িখালী বাজারের বালি ব্যবসায়ী শতদলের সহিত ধর্ম আত্মীয়তা তৈরী করে। সেই থেকে বালি ব্যবসায়ী তাদের বাড়ীতে আসা-যাওয়া করে আসছে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীর সাথে গৃহবধু অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। গৃহবধুর স্বামী রাতে বাড়ীতে না থাকায় এবং প্রতি রাতে লীজ ঘেরে থাকার সুযোগ কাজে লাগায় প্রেমিক শতদল। এক পর্যায়ে ঘটনা আচ করতে পেরে গৃহবধুর স্বামী তার নিকট দেওয়া মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলে। এতও ঠান্ডা হয়নি তাদের প্রেম। গত বুধবার ৬ জুন গভীর রাতে প্রেমিক এসে গৃহবধুকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে পাশের বিলে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে গৃহবধু অজ্ঞান হয়ে সারা রাত সেখানে থাকে। এদিকে তার ৪ বছরের শিশু পুত্র শাওন মাকে পাশে না পেয়ে কান্না কাটি করতে থাকে। তার কান্নার শব্দে পাশ্ববর্তী লোকজন বেরিয়ে গৃবধুকে খুঁজতে থাকে। কোথাও না পেয়ে তার স্বামীর নিকট মোবাইল করে। সে বাড়ীতে এসে স্ত্রীকে না পেয়ে শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঘুম পড়ে। সকালে এলাকার লোকজন বিলে গরু নিয়ে যায়, এসময় অজ্ঞান ও বিবস্ত্র অবস্থায় গৃহবধুকে পড়ে থাকতে দেখে বাড়ীতে সংবাদ দেয়। বাড়ীর লোকজন তাকে বাড়ীতে আনে। আশ্চর্য হলেও সত্য ঐ বালি ব্যবসায়ী সুকৌশলে নিজের অপরাধ ঢাকতে গ্রাম্য ডাক্তারের বাড়ীতে যেয়ে নিজেই ডাক্তার নিয়ে আসে। কিন্তু হতভাগা স্বামী তার স্ত্রীর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে চিনতে পারেনি। এ দিকে গৃহ বধুর নিকট থেকে তার বড় জা সহ শ্বাশুড়ীরা কোন কথা বের করতে পারেনি।
 
এ ঘটনায় এলাকার লোক জন পাশবিক নির্যাতনের দাবী করলেও কারা জড়িত তা জানা যায়নি। গৃহবধুর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে শুক্রবার পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় জনৈক দীনেশ মন্ডলকে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা জানায় গৃহবধু। হাসপাতালে এসে সেই শতদল বাছাড়কে দেখা যায়। শনিবার শতদল বাছাড় নির্যাতিত গৃহবধুকে পাইকগাছা হাসপাতাল থেকে গৃহবধুর মাকে বুঝিয়ে কৌশলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। জানা যায়, পাশবিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধু বর্তমানে ডুমুরিয়া উপজেলার ১২নং ডুমুরিয়া গ্রামে তার পিত্রালয়ে অবস্থা করছে। এখন প্রশ্ন গৃহবধু কেন শতদলকে বাঁচাতে চাইছে। পল্লী চিকিৎসক জগবন্ধু জানান, ৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জনৈক শতদল বাছাড় আমাকে বাড়ী থেকে ডেকে নিয়ে উক্ত গৃহ বধুর নিকট নিয়ে যায়।
 
তাকে হতভম্ব অবস্থায় দেখতে পায়। শতদল যে রোগের কথা বলে তাতে আমার সন্দেহ হলে হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়। দিনেশ মন্ডল জানান, এসব সম্পর্কে আমার কোন কিছু জানা নাই। তাদের পরিবারের সাথে আমার দীর্ঘদিন কোন সম্পর্ক নাই। গৃহবধুর কাকা পাইকগাছা বাজারের মালা ইলেকট্রনিক্সের মালিক অলোক মন্ডল বলেন, আপনারা বিষয়টি লিখবেন না। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আপনাদেরকে অবশ্যই জানাবো। আদৌ কি এ ঘটনার কোন অভিযোগ হবে? না আদৌ এত বড় ঘটনার কোন বিচার হবে না? এলাকার সচেতন জনগন এ হেন ন্যাক্কার জনক ঘটনার সুষ্টু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ ক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।