Opu Hasnat

আজ ১৭ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৮,

সিসি ক্যামেরাসহ নিরাপত্তার চাঁদরে বেষ্টিত

ঝালকাঠির ঈদ বাজারে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি! ঝালকাঠি

ঝালকাঠির ঈদ বাজারে পুরুষের চেয়ে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি!

ঝালকাঠির ঈদ বাজারে ক্রেতাদের কাছে বরাবরের মত ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বেশি হলেও দেশি সুতি কাপড়ের কদর কম নয়। এবার ঈদ উৎসব আষাঢ়ে হলেও জ্যৈষ্ঠের তীব্র গরম দেখে দেশীয় সুতির কাজ করা মেয়েদের থ্রি পিচ ও শিশুদের ফ্রক আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় টিভি চ্যানেলে বিভিন্ন সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্রের নামকরণে বাহারি নামের পোশাকে ছেয়ে গেছে শপিং মল ও বিপণি বিতানগুলো। তবে পাকিস্তানি ও চায়নার পোশাকও ক্রেতাদের আকর্ষণ করছে। 

এদিকে, নিজস্ব ডিজাইন ও পছন্দের কাপড়ে তৈরি পোশাক পড়তে পছন্দ করেন অনেকে। তাই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে দর্জি বাড়িতে। ঈদের আগেই ক্রেতাদের হাতে পোশাক তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পোষাক তৈরীর কারিগররা। সরেজমিনে শহরের কুমারপট্টি, কাপুড়িয়া পট্টির বিভিন্ন বিপনি বিতানে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। দোকানগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইন ও বাহারি রঙের পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের আকর্ষন বাড়াতে বিপণি বিতানগুলোতে আলোকসজ্জাসহ বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। কেনাকাটায় পুরুষের তুলনায় নারী শিশুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতারা গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাবিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। 

ঝালকাঠিতে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে জমে উঠেছে ঈদ বাজার । বিপণিবিতানগুলোতে দিনরাত মানুষের উপচে পড়া ভিড় জানান দিচ্ছে ঈদের আগমনি বার্তা। অভিভাবক থেকে তরুন-তরুনী এমনকি শিশুরাও তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এবার ঝালকাঠির ঈদ বাজারে পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি তাই একটু বুঝে শুনে কিনছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। তাই সাধ আর সাধ্যের হিসেব মিলেতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খাচ্ছেন। বিশেষ করে নিæ আয়ের মানুষ তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে খাবি খাচ্ছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি পাইকারি বাজারে বেশি দাম, বাড়তি পরিবহণ খরচ, চড়া সুদে ঋণে মূলধনসহ ব্যবসার ব্যয় ভার বেড়ে যাওয়ায় এবার পোশাকের দাম একটু বেশি। 

বিক্রেতারা আরো জানান, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা জুনের প্রথম সপ্তাহে তাদের ঈদ বোনাসসহ বেতনের টাকা হাতে পেলেও বেচা বিক্রি তুলনামূলক কম। তবে তাদের আশা ঈদের আগের এ কয়দিনে বিক্রি আরো বেড়ে যাবে। প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা ২ থেকে ৪ লাখ টাকা বেচা বিক্রি করছেন। 

শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশ চেম্বার অব কমার্সের সহায়তায় ৪৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। বিপণিবিতানগুলোতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর উপস্থিতি চোখে পরার মত। কোন রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সর্বক্ষণিক টহল পুলিশ রয়েছে মার্কেটে। একাধিক দোকান মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার মেয়েদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে, ভারতীয় পোশাক আমলকি, সুলতান সুলেমান কোসেম, হুররাম, বাহুবলী, কিরণমালা, মধুমালা, মায়াপরী, পায়েল, গঙ্গা, ঘাগড়া, লেহেঙ্গা, কহিনুর, হুগলি, বাজিরাও মাস্তানি, বাগি ড্রেস, পাখি, ক্যকটাস, ফ্লোরটাচ, জয়পুরি, সুইচ লঙ্গ, কাশিশ, ভিনয়, সামপুরা লং কোটি ও পাকিস্তানী লং ইত্যাদি। বাহারি নামের থ্রীপচ তরুনীরা পছন্দ করছে বেশি। ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে শর্ট শার্ট, দেশি বিদেশি বিভিন্ন ব্রান্ড শার্ট, ডিএন্ডজি, আরমানি, কিউজি, কোলকটন, প্লাস, নেক্রট। চায়না ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে, ন্যারো জিন্স, গ্রেভাডিন। দেশীয় মুনলাইট প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ছেলেদের বিভিন্ন ব্রান্ডের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। বাচ্চাদের বিভিন্ন দামের ফ্রক ও টপস বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন থ্রীপিচ ৫ থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশিয় থ্রীপিচ ১ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছেলেদের বিভিন্ন ব্রান্ডের প্যান্ট ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় শার্ট ৫শ থেকে ১৫শ টাকা, পঞ্জাবি ৮শ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ২৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদ বাজারে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা একটি ভোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানীর কর্মকর্তা মো. শাহজাহান সাজু বলেন, আমার বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় কাজের সূত্রে ঝালকাঠি থাকায় ঈদের কেনাকাটা এখান থেকে করছি। যে পোশাকটি পছন্দ করছি দোকনিরা তার চড়া দাম হাকাচ্ছে। বাজেটের সাথে হিসেব মিলেতে পারছি না। পুলিশের চাকুরি করেন তরিকুল ইসলাম বলেন, বাবা মায়ের জন্য আগে কেনাকাটা শেষ করলাম। পরিবারের অন্যদের কেনাকাট চলছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি। 

শহরের আমতলা রোডের তরুনী সাদিয়া নৌশন বলেন, এবার ভারতীয় পোশাক চাহিদা অনেক বেশি। দাম একটু বেশি হলেও ঈদের পোশাক বলে কথা। তাই পছন্দের থ্রীপিচটি কিনেছি। স্ট্যান্ড রোডের তাইয়্যেবা আক্তার জানায়, আমার পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে ভারতীয় গাউন। দোকানঘুরে দেখছি। পছন্দ হলেই কিনে নিব। কলেজ শিক্ষক টুটুল আজম বলেন, সারাদিন মার্কেটে ঘুরে আগে মেয়ের পোশাক কিনলাম। পরিবারের সকলের পছন্দসই পোশাক ২৫ রোজার মধ্যে কেনা হয়ে যাবে। গত বছরের থেকে দোকানিরা এবার দাম বেশি চাচ্ছে। শহরের কাপুড়িয়া পট্টির অভিজাত পোশাকের দোকান ঘোমটার মালিক সমীর কুমার হালদার বলেন, ক্রেতাদের কাছে এবার সুতির কাজ করা পোশাকের কদর একটু বেশি। বেশি দামের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়তি পরিবহণ খরচ ও চড়া সুদে ঋণে মূলধনসহ ব্যবসার ব্যয় ভার বেড়ে যাওয়ায় এবার পোশাকের দাম একটু বেশি। এ ছাড়াও মূল্য সংযোজন করও বেশি। তবে আমরা চেষ্টা করছি পোশাকের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে। 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহামুদ হাসান বলেন, ঈদে কেনাকাটায় ক্রেতাসাধারনকে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা দিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে ৪৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশের টহলদল, মটরসাইকেলে বিশেষ টহলদল মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশ সুপার মহোদয় নিজে তার কার্যালয় থেকে সিসি ক্যামেরার  মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি করেন।