Opu Hasnat

আজ ১৭ নভেম্বর শনিবার ২০১৮,

লিবিয়ায় নৌকা ডুবে নিহতদের ২ শিশুর বাড়ি নোয়াখালী, আরো ২জন নিখোঁজ নারী ও শিশুপ্রবাসনোয়াখালী

লিবিয়ায় নৌকা ডুবে নিহতদের ২ শিশুর  বাড়ি নোয়াখালী, আরো ২জন নিখোঁজ

লিবিয়ায় নৌকা ডুবে নিহত ২ জন ও নিখোঁজ ২ জনের  পরিচয় পাওয়া গেছে, এ দিকে নৌকা ডুবে নিহত ও নিখোঁজের খবর  বাড়িতে পৌছলে নিহত ও নিখোঁজদের  মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। নিহত ২ জন ও নিখোঁজ ২ জনের বাড়ি  নোয়াখালী জেলার চাটখিল, সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ  উপজেলায় । চাটখিলের বদলকোর্ট ইউনিয়নের মেগ্রা গ্রামের লিবিয়া প্রবাসী আঃ আজিমের ৮ মাস বয়সের শিশু কন্যা রাইসা ও তিন বছর বয়সের রিমাজ লিবিয়ার সাগরে পানিতে ডুবে মারা গেছে । এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া  আঃ আজিম, তার স্ত্রী নার্গিস ও মেয়ে রিতাত লিবিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ।

প্রবাসী আজিমের ছোট ভাই সালাউদ্দিন জানান, ১৯৯৯ সালে তার ভাই স্বপরিবারে লিবিয়ায় যায় । সেখানে বসবাস করে আসছিল । গত ১ মাস আগে তার ভাই যে কারখানায়  কাজ করতো  সে কারখানাটি জঙ্গিরা বন্ধ করে দেয়ায় তার ভাই বেকার হয়ে পড়ে। পরিবার নিয়ে অভাব অনটনে দিন কাটাচ্ছিল । এক পর্যায়ে অভাবের তাড়নায়  তার ভাই আজিম, স্ত্রী নার্গিস, মেয়ে রিতাত, রিমাজ ও রাইসাকে নিয়ে ইতালীর উদ্দেশ্যে নৌকা যোগে সাগর পাড়ি দেয় । এ সময় বড় মেয়ে রিতাত ওয়াটার প্রæফ জ্যাকেট পরা থাকায় সে বেঁচে যায় । আর স্বামী-স্ত্রী ২ জন কে কোষ্টগার্ড উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।  

সালাউদ্দিন আরো জানায়, তার ভাই-ভাবী ও মেয়ে   বর্তমানে সুস্থ আছেন  । একই ঘটনায় নিঁেখাজ রয়েছে  সোনাইমুড়ী উপজেলার চাষীর হাট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের কাবিল পুর গ্রামে মৃত আবুল খায়েরের পুত্র ফখরুল ইসলাম মুন্না । 

নিহত পরিবার ও চাষীর হাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হানিফ মোল্লা জানান, মুন্না নৌকা যোগে ইটালী যাওয়া পথে নৌকা ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে পড়ে। তার পরিচিত প্রবাসীরা বহু খোঁজা খুঁজির পরও তার কোন সন্ধান মিলেনি। মুন্নারা ৩ ভাই ৩ বোন । তার মধ্যে সে  দ্বিতীয়।  এ দিকে এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে সেনবাগ উপজেলার ছাতের পাইয়া ইউনিয়নের সিলাদী গ্রামের গোলাম ছারওয়ারের ছেলে গোলাম মাওলা । 

গোলাম মাওলার ছোট ভাই নুরনবী জানান, সর্ব শেষ ১৪ আগষ্ট তার ভাই তার বাবার সাথে ফোনে  কথা বলে জানান, সে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাবে । তার পর থেকে তার কোন সন্ধ্যান পাওয়া যাচ্ছেনা। এক সন্তানের জনক গোলাম মাওলা ২০১৩ সালে লিবিয়া যায়।  এ দিকে নৌকা ডুবে নিহত ও নিখোঁজের খবর  বাড়িতে পৌছলে নিহত ও নিখোঁজদের  মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।