Opu Hasnat

আজ ১৭ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

মালিপাখি’র একগুচ্ছ ছড়া-কবিতা শিল্প ও সাহিত্য

মালিপাখি’র একগুচ্ছ ছড়া-কবিতা

আমার পদ্য

আমার পদ্য ঝুমঝুমি পুর, পাতায় মোড়া গানের সাঁকো।
এসো, এসো, সবাই এসো ; আজকে খুশির আবীর মাখো।

আমার পদ্য মেঘনা, তিতাস, রূপকথা গাছ, ধানের চারা ;
আপন মনে পথ বিছিয়ে ছড়াও আলো নামতা পাড়া।

আমার পদ্য টুনটুনি ঢেউ, দোয়েল, শ্যামা, বাবুই পাখি ;
জোনাকি ফুল খবর পাঠায় সে সব খবর খাতায় আঁকি।

আমার পদ্য পাহাড়ী পথ, পাহাড় তলির একটি মেয়ে ;
নীল পালকের চাঁদ হয়ে যায় আমাকে রোজ দেখতে পেয়ে।

আমার পদ্য লেখার খাতা,  পাতায় - পাতায় নাচতে পারি।
আমার পদ্য জলছবি দেশ, এসো ছোটাই তারার গাড়ি।

*********************

মোহর দুপুর ঝরে

আসুন রাজা বসুন আমার নতুন মাটির ঘরে!
পাতার থেকে টাপুর-টুপুর মোহর দুপুর ঝরে!!

হৃদয় জুড়ে রঙিন পালক, খুশির পরাগ নাচে!
বাতাস যেন খবর পাঠায় আতাই পুরের কাছে !!

নাচের সুরে পাতাই পুরের পারুল, পলাশ, জবা !
আপন মনে বাজায় সেতার, ঝালর দোলায় সভা !!

আসুন রাজা বসুন আমার নতুন মাটির ঘরে!
পাতার থেকে টাপুর-টুপুর মোহর দুপুর ঝরে!!

********************

ঘুম ছোটে ফুল ফোটে

মামন মণি লিখেই চিঠি পাঠায় হেসে  খাম !
আকাশপরী খুশির জরী ফুলের বনে  নাম !!

সোহাগ সুখে কুঁড়ির মুখে লাগাস যদি হাম !
ফুলের হাসি দেখেই হবো অবাক, ইতি -  মাম !!

মামের চিঠি পরীর রাণী পেতেই শোনো  দুম !
সবাই এসে ফুলের বনে লাগায় ভারি  ধুম !!

মাখায় তারা আদর করে কুঁড়ির মুখে  চুম !
চুমের মায়া মেখেই মনে পালায় কুঁড়ির  ঘুম !!

*********************

খুশির রেণু বাজায় বেণু

ভোরের যাদু আঁধার ঠেলে সরায় কালি ঝুল !
পালায় পিছে লাইন দিয়ে ভয়ের শত  হুল !!

রোদের মায়া মেখেই মনে দোলায় মাথা ফুল !
আপন মনে বিলায় খুশি নদীর দুটি  কুল !!

বাতাস পেয়ে বাজায় মাদল ধানের কচি  শিষ !
জেগেই পাখি কাটুম কুটুম ছড়ায় মিঠে  শিস্ !!

এমন দিনে অমন দূরে থাকিস কেন  ইস্ !
খুশির রেণু হৃদয় জুড়ে স  নিস  !!

*****************

তারারা পরীরা

তারারা আমাকে রাতভোর ভালোবাসে।
তারারা আমার বুকের ভিতরে ওড়ে  --।
তারারা আমাকে চিঠি দিতে রোজ আসে,
রূপকথা আঁকা খুশির ডিঙাতে চড়ে।

পরীরাও আসে। ওরা নাকি সাত বোন।
পরীদের সাথে , তারাদের সাথে খেলি।
দুটি হাত তুলে নেচে ওঠে ঝাউ বন।
নেচে ওঠে কতো জুঁই, তারামনি, বেলি।

পথ চলে যায় -- সাথে সাথে আমি চলি।
কানে-কানে বাজে নূপুরের রুনুঝুনু  --।
তারা গুলো নাচে রাতভোর কথাকলি।
পরীরাও নাচে, জানো তুমি তাকি পুনু ?

রাত বেড়ে গেলে সাগরেরা কথা বলে।
বলে,  উড়ে যাও পালক ভূবন হাঁসের  --।
দূরে দূরে গ্রাম, গ্রামে গ্রামে দীপ জ্বলে !
তারারা পরীরা রাতভোর ভালোবাসে।

*******************

কবি

চাঁদে   নাচ করে দুটি পাখি  !
কবি   বলে শুধু কাকে ডাকি ??

বুকে   ঝলমল করে আলো !
ওরা   পথ আঁকে বড় ভালো !!

পথে   গাছ, নদী, পাতা নাচে  !
কবি   চোখ দিয়ে ছুঁয়ে বাঁচে  !!

চোখে   মেঘলতা কিশোরীটি  !
পড়ে   রাতভোর চিঠি, চিঠি  --- !!

চিঠি   ফুটফুটে তারা দুটি  !
চিঠি   ‘রূপকথা’, ‘আলোকুঠি’  !!

আলো   আয় আয় বলে ডাকে  !
দ্যাখো   রঙ ওড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে  !!

ওড়ে   ‘ভাঙাভাষা’,  ক্রমাগত  -- !
বলে   জোড়ো দেখি পারো কত  !!

কবি   রাতভোর দিশেহারা  !
বুকে   গোলাপের শত চারা  !!

কবি   কিশোরীকে ভালোবেসে  !
ভাসে   ঘুম নেই প্রিয় দেশে  -- !!

***************

বাঁচা

সুলেখা তুই বন্ধু খুঁজিস  ?  সুলেখা তুই ফুল,
রাখবি কোথায় ? কবিতো সেই লেখাতে মশগুল !

ভাষা খুঁজছে পাগল কবি, আয় ও ভাষা আয়।
লবণ জলে ভাসছে দু - চোখ, শব্দ শোনা যায় !

সুলেখা তুই বন্ধু খুঁজিস ?  সুলেখা দ্যাখ তুই,
রুগ্ন কবি। শীর্ণ দু হাত  আকাশটা ছুঁই ছুঁই  -- !

কবিকে তুই সুস্থ করার নিবিনা আজ ভার ?
তুইতো মায়া ! তোর দু - চোখেই অরণ্য সম্ভার  --

ছড়িয়ে আছে ইতস্তত ! অচেনা সব ঘাস,
বলছে সবাই কবির সাথে খেলবো বারোমাস !

উড়ে যাচ্ছে বলাকা দল ! কবির মাথা ভার !
সুলেখা আজ কবিকে তোর বাঁচানো দরকার !

*********************

হাত দুটি ধর

সুরে সুরে ডুবি   নাম কিরে তোর  ?
যাকে পাবি ছুঁবি   তুই আলো চোর !!

আঁকা বাঁকা নদী   ঝুমঝুমি চাঁদ  !
বুকে জাগে বোধি,   ঘাম, নোনা স্বাদ !!

তারা মিটি মিটি --   জলছবি গ্রাম !
লেখে শুধু চিঠি --  পথ কুড়ালাম !!

পথে কাটে বেলা,   পথ ছুঁয়ে ঘর !
কানামাছি খেলা   হাত দুটি ধর !!
***************

বাংলা ভাষা

কে যে এই এতোল বেতোল আলাদীন মনটি ভাসায় ---
কোন দিন বিভোর নেশায়, কোনো এক বন্ধু নদীর ;
মনোহর মোহর আলোয় মিলে যায় ইচ্ছে যদি !
আমি এক ছবির ভুবন এঁকে যাই বাংলা ভাষায় ।

প্রিয় চাঁদ জরির পোষাক পরে সুর বাঁধলে বাসায়,
মনে হয় বাউল বাতাস ভিজে যায় বর্ণমালায় ।
ভিজে যায় টগর পুরের ঘোড়া আর স্বপ্নশালা।
আমি এক ছবির ভুবন এঁকে যাই বাংলা ভাষায়।

ফোটে দেশ টাপুর-টুপুর, দোলে মন দুলকি আশায়।
দোলে মন পলাশ পুরের আলোময় পদ্যপাখির।
দেরি নয় সবাই আবার এসো ডাক দিচ্ছে নাকি !
আমি এক ছবির ভুবন এঁকে যাই বাংলা ভাষায়।

কাঁদালেও ভীষণ আবার শোনো ফের বেশতো হাসায়।
একা নই, সবাই সবার । তোলে ঢেউ রত্ন-সাগর।
ডোবা নয় ঘুমের ভিতর, জাগো দেশ। স্বপ্ন জাগো।
আমি এক ছবির ভুবন এঁকে যাই বাংলা ভাষায়।