Opu Hasnat

আজ ১৭ ডিসেম্বর সোমবার ২০১৮,

বিআইজেএফের দুর্নীতির তদন্ত করবে সমাজসেবা অধিদফতর মিডিয়া

বিআইজেএফের দুর্নীতির তদন্ত করবে সমাজসেবা অধিদফতর

তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)’র অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরেজমিন তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সংগঠনটির নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ সমাজ সেবা অধিদফতর।

বিআইজেএফ এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন কয়েকজন সদস্য। এর প্রেক্ষিতে গত ২২ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় অধিদফতর।

বিজ্ঞপ্তিতে সমাজসেবা অধিদফতরের স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক আবু মোহাম্মদ ইউসুফ ও উপ-পরিচালক আবু আবদুল্লাহ মো. ওয়ালী উল্লাহর সই ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ মে সংগঠনের দুই সদস্য দৈনিক ডিজিটাল সময় পত্রিকার সম্পাদক খালেদ সাইফুল্যাহ ও অনলাইন পত্রিকা বেস্টনিউজ.কম.বিডি এর সম্পাদক খন্দকার হাসান শাহরিয়ার এর অভিযোগ আমলে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। 

অভিযোগসমূহ সরেজমিনে তদন্ত করে পত্র পাওয়ার ০৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগকারী সদস্য খালেদ সাইফুল্যাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‌‘গত প্রায় এক দশক ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানান অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্বে আসীন রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ চক্রটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সাধারণ সদস্যদের কল্যাণে কিছুই করেনি। এক যুগের পুরনো এ সংগঠনটির কোন সঞ্চয় নেই এবং নেই কল্যাণ তহবিল। বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা উঠানো হলেও এর কোন সঠিক হিসাব নিকাশ দাখিল করা হয়নি এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়নি। তাই ধারণা করছি গত এক দশকে সংগঠনটিতে বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এদিকে সদস্যপদ প্রদান নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও দীর্ঘদিনের। যাদের সদস্যপদ পাবার কথা তারা দীর্ঘদিন ধরে সদস্যপদ পায় না, আবার সদস্য হওয়ার যোগ্যতা না থাকা স্বত্ত্বেও অনিয়মের মাধ্যমে অনেককে সদস্যপদ প্রদান করা হয়। সর্বশেষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩১ জনকে সদস্য প্রদান করা হলে বিতর্ক মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। যাকে ঘিরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ জন সদস্যের পদত্যাগের খবর পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সংগঠনের কয়েকজন সিনিয়র সদস্য সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলেও সেখানেও সাংগঠনিক কোন নিয়ম মানা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে সংগঠন পরিচালনা করার কারণে, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী নেতৃবৃন্দ সংগঠনটিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। আমার ধারণা দুর্নীতি করার সুবিধার্থেই তারা এমনটি করেছেন। একজন সচেতন সদস্য হিসাবে সকল সাধারণ সদস্যদের পক্ষে আমি এর প্রতিকার চাই। আমি চাই, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং সংগঠনটি যাতে সদস্যদের কল্যাণে কাজ করতে পারে সে জন্য যাবতীয় সমস্যা আইনগতভাবে সমাধানের মাধ্যমে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার পথটি সুগম হোক।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগকারী অপর সদস্য খন্দকার হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১ ও সংশ্লিষ্ট বিধি, ১৯৬২ অনুসারে বিআইজেএফ এর কোন প্রকার হিসাবপত্রাদির দলিলপত্র, অডিট রিপোর্ট, নির্বাচন যথানিয়মে সম্পাদন করা হচ্ছে না। এমনকি বিআইজেএফ এর বর্তমান ইসি কমিটি যেই সংশোধীত গঠনতন্ত্রের ভিত্তিতে নির্বাচিত হয়েছে সেই গঠনতন্ত্রটিও সমাজসেবা অধিদফতরে জমা দিয়ে কোন প্রকার অনুমোদন নেয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)-এর কোন অনুমোদিত সংবিধান নাই, অনুমোদিত কার্যনির্বাহী পরিষদ নাই এমনকি অনুমোদিত কোন প্রকার অডিট রিপোর্ট নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ইসি কমিটির দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে বিআইজেএফ এর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থা থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও আছে। এসব অনিয়ম দুনীর্তির বিরুদ্ধে যাতে কেউ কোন প্রকার কথা বলতে না পারে সেজন্য বিআইজেএফ এর ওয়েবসাইট, ফেসবুক গ্রুপ বন্ধ রাখার পাশাপাশি গোপনে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির অপচেষ্টাও করা হয়েছে। এমনকি নানা সময়ে ইসির সদস্যরা বিভিন্ন উপায়ে সাধারণ সদস্যদেরকে নানা প্রকার হুমকিও প্রদান করেছেন। আমি চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি এডহক কমিটি গঠন করে সকল প্রকার সমস্যা দূর করে নির্বাচন আয়োজন করার মাধ্যমে বিআইজেএফকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে সকলে সাহায্য করবেন।’

এদিকে অপর এক সদস্য হাসিব রহমান বিআইজেএফ এর বিগত নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে অপর একটি অভিযোগ সমাজসেবা অধিদফতরে জমা দিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।