Opu Hasnat

আজ ২৪ অক্টোবর বুধবার ২০১৮,

নিবন্ধনের আগে ও পরে : মোমিন মেহেদী মতামত

নিবন্ধনের আগে ও পরে : মোমিন মেহেদী

২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে অগণিত তারুণ্যের অংশ গ্রহণে রেডর‌্যালীর মধ্য দিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলো নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি। সেদিন আমার নেতৃত্বে নতুনধারা আত্মপ্রকাশের পর সারাদেশে ৪১ জেলা, ১০২ উপজেলা কমিটির পাশাপাশি ৭ লক্ষ নেতাকর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী যুক্ত হয়েছেন নতুন এই সম্ভাবনার রাজনৈতিক প্লাটফর্মে। এসেছেন ভাষাসৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিকগণ। আর তার সুবাদে বিভিন্ন মহলে পরিচিতি তৈরি হয়েছে। অবশ্য সেই ১৯৯৫ সালে দৈনি ইত্তেফাকে লেখা প্রকাশের পর থেকে লেখক, কলাম লেখক আর সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিতি তৈরি হয়। এইতো কিছুদিন আগের কথা। ‘দেশী কামলার বিদেশী নাম’-এর মত করে রাজনৈতিক আন্দোলনে নিবেদিত না থেকেও কয়েকজন স্বার্থন্বেষী মানুষের রাজনীতি করার শখ থেকে গড়ে ওঠা ‘.......... কংগ্রেস’ ‘............ লেবার পার্টি’ ‘............. রিপাবলিকান পার্টি’ ‘............ বামফ্রন্ট’ ইত্যাদি নামের বাহারি পোস্টার চোখে পড়লো। এবং সেই পোস্টার গুলোতে কেবলমাত্র ১ জনের বা দুইজনের ছবি-ই দেখা গেলো। কোন কোন পোস্টার বা লিফলেটে এমনও দেখা গেছে যে, যদি ১০ টা ছবি থেকে থাকে, ১০ টাই পার্টির চেয়ারম্যান-এর ১০ পোশাকের, ১০ স্থানের। একবার আমাকে এদেরই একটা পার্টি আমন্ত্রণ জানালো তাদের নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য। অনেক ভেবে চিন্তে অন্তত কতজন লোক, কি করে, এসব বোঝার জন্য আমন্ত্রণে সাড়া দেই। গিয়ে দেখি একটা রুমে ৬ জন লোক বসা। এদের মধ্যে ২ জন অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করেন। আমি তাদেরকে এর আগেও বিভিন্ন স্থানে দেখেছি। যেহেতু নিজেও একজন লেখক, সেহেতু অনেকেই চিনে রাখি। প্রশিক্ষণ বলতে যা বোঝায়, তার কোন প্রস্তুতি নেই। কেবল খাওয়ার প্রস্তুতি। চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের গো বেচারা টাইপের আইনজীবি, মহাসচিবও একই ক্যাটাগরির মানুষ। দুজনের রাজনীতি এই চারদেয়ালের মাঝেই আবদ্ধ। চালের দাম বাড়লেও কখনো রাজপথে দেখিনি, দুর্নীতি বা সন্ত্রাস নিয়েও কখনো কথা বলতে শুনিনি। তবে হ্যাঁ, মধ্যিখানে এই দেশি কামলার বিদেশী না টাইপের রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে লোক ভাড়া করে অনেক কর্মসূচী করতে দেখেছি নিবন্ধন সংশোধনের দাবীতে। আর তখন তারা তাদের দলের লোক না পেলেও ভাড়ায় লোক পেয়েছেন প্রেসক্লাব এলাকায়। 
 
যে কথা বলছিলাম, তো শুরু হলো খাওয়ার পালা। আমি যতই বলি, প্রশিক্ষণ কখন শুরু হবে? তারা বলেন, বসেন খান। একপর্যায়ে আমি বলি, এভাবে কখনোই রাজনীতি হবে না। হবে পেটনীতি। আপনারা রাজনীতিদ করবেন, প্রশিক্ষণ দেবেন অথচ চলবেন তাদের পথে যারা রাজনীতিকে পরিবারতন্ত্রের দোকান বানিয়েছে, এভাবে চলবে না।’ কথা শেষ হতেই ৩ জন কর্মীর একজন বলে ওঠেন, আপনি জানেন কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন? আমি বললাম- ডক্টর কামালও অনেক বড় আইনজীবি কিন্তু রাজনীতিক নন। রাজনীতি করতে কষ্ট-শ্রম আর মেধার পাশাপাশি দক্ষতা লাগে। না থাকলে যতই বড় হন না কেন পুতুল খেলা ছাড়া আর কোন কাজে আসবে না; আপনাদের রাজনীতি। সেসব কথা শুনে রেগে মেগে আগুন হয়ে যায় নিউজপোর্টালের রিপোর্টার সহ। তখন মনে হলো- এরা রাজনীতি নয়; তালিনীতি করতে এসেছেন। আর তাই সারাদেশে এমন নিকৃষ্টতর রাজনীতিকের সংখ্যা খইফোটার মত করে ফুটে উঠছে আর চুলো ছেড়ে দূরে গিয়ে পড়ছে। শুধু এখানেই শেষ নয়; আমাদের রাজনীতির কপালে কালি লেপ্টে দিতে তৈরি হয়ে এই রাজনীতির নামে স্বার্থনীতিকরা গড়ে তুলেছে বেশ কিছু আস্তাবল। আর এই আস্তাবল গুলোর প্রাথমিক পর্ব হলো- নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী ৭৬ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৯ টি তথাকথিত রাজনৈতিক দলের ১৪টি আবেদনের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার নিবন্ধন ফির ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেয়নি। 
 
দলগুলো হচ্ছে-তৃণম‚ল ন্যাশনাল পার্টি (আনারস), গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভ্যাসানী) (রিক্সা), বাংলাদেশ ঘুষ নির্ম‚ল পার্টি (বিজিএনপি) (ঝাড়ু), বাংলাদেশ সততা দল (বিএইচপি) (আনারস), বাংলাদেশ হিন্দুলীগ (হাত), বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্ট (ছাতা), জাতীয় পরিবার কল্যাণ পার্টি (জেপিকেপি) (গলদা চিংড়ি), বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি (বিআইপি) (গমের শীষ), বাংলাদেশ শান্তির দল (চাঁদ), কৃষক শ্রমিক পার্টি (হুক্কা), জনস্বার্থে বাংলাদেশ (মোবাইল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিএনডিপি) (স্যাটেলাইট), বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট-বিডিএম (প্রতীক চায়নি) ও ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ভাসানী ন্যাপ (প্রতীক চায়নি)। 
 
এছাড়া নির্ধারিত ফরমে আবেদন না করায় সুশীল সামাজিক আন্দোলন-এসএসএ (প্রতীক শার্ট) দলটির আবেদন বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি (কলম), বাংলাদেশ তৃণম‚ল কংগ্রেস (গমের ছড়া বা হাতপাঞ্জা) ও মৌলিক বাংলা (মাথাল) এই তিনটি দলের আবেদনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষর না থাকায় এসব দল নিবন্ধন পাওয়ার অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি। ন্যাপ-ভাসানীর আবেদন অসম্প‚র্ণ ও গঠনতন্ত্রের কপি জমা না দেয়ায় এ দলটির নিবন্ধন আবেদন বাতিল করা হয়েছে। আমাদের দেশে অবশ্য স্বাধীনতার পর থেকে কখনোই নিবন্ধন প্রয়োজন হয়নি। কেবল ২০০৮ সালে ওয়ান ইলেভেনের রাজত্বকারী স্বৈরাচাররা একরকম বেশি আবেগের বশে স্বাধীন দেশে পরাধীনতার বাঁশি বাজিয়ে এই নিবন্ধনের রাস্তা তৈরি করে। অবশ্য সেই সাথে একশ্রেণির স্বার্থন্বেষী মহলকে কঠিনভাবে প্রতিহত করেছে নিবন্ধন পদক্ষেপ নিয়ে। একই সাথে যোগ্যদেরকেও ফেলেছে বিপাকে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়, নিখোঁজ ৮০ রাজনৈতিক দলের কথা। ডেমোক্রেটিক লীগ। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত একটি শরিক দল। ভাষাসৈনিক অলি আহাদের মৃত্যুর পর এ দলটি এখন ‘এক নেতার এক দল’-এ পরিণত হয়েছে। লোকবলের অভাবে এখনো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত হতে পারেনি। সংগঠনটির নেই স্থায়ী কোনো কার্যালয়। রাজধানীর ৮৫ নয়াপল্টনে বিএনপি জোটভুক্ত বাংলাদেশ ন্যাপ, কল্যাণ পার্টি ও লেবার পার্টির অফিসই এখন দলটির ঠিকানা। বর্তমান নেতাদের মতে ইসির নিবন্ধনের কোনো দরকার নেই। রাজনৈতিক দলকে ইসির নিবন্ধনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত ও সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। শুধু ডেমোক্রেটিক লীগই নয়, দেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৮০টিই ‘নামসর্বস্ব’। বলা চলে ‘নিখোঁজ’ প্রায়। কাগজ-কলমেই চলে তাদের কার্যক্রম। অবশ্য বিভিন্ন দিবসে গণমাধ্যমে এসব দলের বক্তৃতা-বিবৃতি পাঠানো হয়। অধিকাংশ দলের নেই কোনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়। নেতাদের বাসা-বাড়িকে দেখানো হয়েছে কারও কারও স্থায়ী কার্যালয়। গঠনতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটিও প‚র্ণাঙ্গ করতে পারেনি এসব দল। মাত্র ৪১টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত। আবার নিবন্ধনভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বড় একটি অংশেরই সারা দেশে নেই সাংগঠনিক কর্মকান্ড। বেশির ভাগই এক নেতার এক দলে পরিণত হয়েছে। জেলা-মহানগর দ‚রের কথা, কেন্দ্রীয় প‚র্ণাঙ্গ কমিটিও নেই তাদের। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের শরিক গণআজাদী লীগ। ১১ সদস্যের কমিটি দিয়েই চলছে দলীয় কার্যক্রম। ছোটখাটো কিছু কমিটি থাকলেও সেগুলো নিষ্ক্রিয়। তবুও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধন নেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিএনপি জোটের নিবন্ধিত আরেক রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ন্যাপ বাংলাদেশ ন্যাপ। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনভুক্ত হলেও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করতে পারেনি। বিএনপি থেকে বেরিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ‘তৃণম‚ল বিএনপি’ নামে নতুন দল গঠন করেন। এ ছাড়া কামরুল হাসান নাসিম ‘আসল বিএনপি’ নামে গঠন করেন আরেকটি নতুন দল। মাঝেমধ্যেই নতুন নতুন দল গঠন করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের নেই কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম। বাংলাদেশে নিত্যনতুন রাজনৈতিক দল গড়ার পেছনে নানা ‘মদদ’ রয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এই নজির রয়েছে। এমতবস্থায় আমার মনে হয় যে, প্রকৃত তরুণদেরকে এগিয়ে আসতে হবে বাংলাদেশের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য। তা না হলে আমাদের দেশের রাজনীতিতে যেভাবে পরিবারতন্ত্র জেঁকে বসেছে,  এভাবে চলতে থাকলে দেশ কিউবা বা চিন হতে সময় লাগবে মাত্র ৫ বছর। অতিত ইতিহাস অবশ্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদার রাজনৈতিক কথা স্বীকার করে। কিন্তু বর্তমানে এই উদারতার রাস্তা খুবই সংকির্ণ বিভিন্ন কারণে। তবু এগিয়ে যেতেই হবে। ইতিহাস থেকে জেনেছি যে, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এরপর ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯টি, ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮টি, ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে আটটি, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৭৫টি, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৫টি এবং ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ৩৮টি দল অংশ নেয়। তবে নির্বাচনে অংশ নিলেও নির্বাচিত হয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছে এমন দলের সংখ্যা কম। ১৯৯১ সালে ৭৫টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও ১২টি বাদে অন্যগুলো একটি আসনও পায়নি। ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১১১টি দল প্রতীক বরাদ্দের আবেদন জানায়। প্রতীক বরাদ্দ হয় ৯০টি দলের জন্য। এর মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয় ৮১টি দল এবং মাত্র সাতটি দল আসন পায়। ২০০১ সালে অংশ নেওয়া ৫৫টি দলের মধ্যে আসন পায় ৯টি দল। ২০০৮ সালে ৩৮টি দলের মধ্যে আসন পায় আটটি দল। এর মধ্যে তিনটি দল জোটভুক্ত হিসেবে অন্য দলের প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় মাত্র ১২টি রাজনৈতিক দল।
আজ যখন আমরা রাজপথে তাকাই, তখন দেখি কেবল কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড। কেন? কারণ ২০০৮ সালের শেষ দিকে যে ১০৭টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে, এর মধ্যে ৬৮টি দল প্রয়োজনীয় শর্ত প‚রণে ব্যর্থ হয়। ফ্রিডম পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার পর তা বাতিল করা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ৪৩টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদন করে। এর মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় ৪১টি দল। মাত্র দুটিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্দলীয় জন আন্দোলন, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল), বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, বাংলাদেশ মুক্তি ঐক্য দল, বাংলাদেশ নয়া সমাজ দল, ফরওয়ার্ড পার্টি, গণ ঐক্য ফ্রন্ট (গাফ) বাংলাদেশ, বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ পার্টি, জনতার সংহতি, বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী দল, বাংলাদেশ জাতীয় দল, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পাবলিক পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক পার্টি, কোরআন ও সুন্নাহ বাস্তবায়ন পার্টি বাংলাদেশ, ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু গণতান্ত্রিক পার্টি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ্, করাপশন ফ্রি পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান পার্টি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ ফ্রন্ট, লিবারেল পার্টি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ পিপলস্ পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) ভাসানী, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পেশাজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ জন-গণতান্ত্রিক দল, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কৃষক শ্রমিক ঐক্যজোট, পিপলস্ রিপাবলিকান পার্টি (পিআরপি), সামাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন, ইসলামী সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ দুনিয়া দল, বাংলাদেশ জাতীয় পিপলস পার্টি, পিপলস্ পার্টি অব বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, পাকমন পিপলস্ পার্টি, মুক্ত রাজনৈতিক আন্দোলন, জনমুক্তি পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, বাংলাদেশ রেভুলেশনারি পার্টি, ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি, ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-স্বনির্ভর পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, বাংলাদেশ দরিদ্র উন্নয়ন পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টি, জেনারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ভ‚মিহীন দল, সাহসী মুক্তিযোদ্ধা জনতা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক বাস্তুহারা লীগ, বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি, লোক দল, পিপলস্ অ্যাকশন পার্টি বাংলাদেশ, সোনার বাংলা পার্টি, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু ঐক্য ফ্রন্ট, জাতীয় জনতা পার্টি, জাতীয়তাবাদী ঐক্য মোর্চা, মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিজম ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জালালী পার্টি প্রভৃতি। এসব দলের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে আঞ্চলিক দল এবং এ দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সংগতিপ‚র্ণ নয় হিসেবে চিহ্নিত করে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। আবেদনকারী ১০৭টি দল ছাড়াও সে সময় আরও অনেক দল আবেদন ফরম সংগ্রহ করে। কিন্তু নিবন্ধনের শর্ত প‚রণ ব্যয়বহুল বিবেচনায় পরে পিছিয়ে যায়। এসব দলের মধ্যে বহুল আলোচিত কৃষক মোহাম্মদ সাদেকের বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনও ছিল। কৃষক মোহাম্মদ সাদেক তার দল থেকে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, ৩৯ বার জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনে নির্বাচন ও উপনির্বাচন এবং চারবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেন। একটু পেছনে তাকালে দেখবো যে, ২০০৪ সালে ৯ দফা দাবিতে গঠিত ১১ দল ও আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি— ন্যাপ (মোজাফফর), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মিলে রাজনৈতিক জোট ১৪ দল গঠিত হয়। বর্তমানে ১৪ দল ম‚লত ১২ দলে পরিণত হয়েছে। মতানৈক্যের কারণে গণফোরাম ও সিপিবি অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে। বাকি ১২ দল হলো- আওয়ামী লীগ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ (ইনু), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল—বাসদ (একাংশ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), সাম্যবাদী দল (একাংশ), গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি (একাংশ), গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ও বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। ১২টির মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নেই চার দলের। তার উপর আবার বড় বড় কথা বলা লোভি-লম্পট-যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক জোটের ইতিহাসে রয়েছে- ১৯৯৯ সালের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে সরকার থেকে হটাতে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, জামায়াতের তৎকালীন আমির গোলাম আযম এবং ইসলামী ঐক্যজোটের তৎকালীন চেয়ারম্যান শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে ‘চারদলীয় জোট’ গঠন করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর এরশাদ বেরিয়ে গেলে যোগ দেয় নাজিউর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা চারদলীয় জোট কলেবরে বেড়ে ১৮-দলীয় জোট হয়। এরপর আরও দুই দল জোটে যোগ দিলে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ২০-এ। বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে অন্য দলগুলোর মধ্যে রয়েছে— জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাপ, ন্যাপ ভাসানী, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও সাম্যবাদী দল। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নেই ১২টির।   
 
যে কারণেই হোক, যেভাবেই হোক ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে ইসি সংশোধন করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতাম‚লক করে। পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতেও নির্দিষ্ট কিছু পদে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়। সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্যদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়। এরও অনেক পরের কথা। গত বছর আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ৩১ অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আগ্রহীদের কাছে আবেদন চেয়েছিল ইসি। আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী ৭৬টি দল নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধনের আবেদন করে। আবেদন করে রাজনীতিতে তারুণ্যের বিজয়গান নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবিও। তারই ধারাবাহিকতায় অগ্রসরমান নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিরন্তর এগিয়ে চলছে ছাত্র-যুব-জনতা-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার প্রত্যয়দীপ্ত পথ চলা। যে পথচলার ধারাবাহিকতায় নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবির চেয়াম্যান হিসেবে নিজ হাতে Representation of the People order, 1972(P.O.No.155 of 1972) এর Article 90A এর অধীন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য দরখাস্তর পাশাপাশি সকল নিয়ম মেনে গঠনতন্ত্র, নির্বাচনী ইশতেহার, বিধিমালা, পতাকা ও লগোর ছবি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, ক্ষমতাপত্র, ট্রেজারারী চালান(সোনালী ব্যাংক,২১৫)-এর কপি, জেলা ও উপজেলা দপ্তর সমূহের ঠিকানা-কমিটি, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র/ভাড়া প্রদান রশিদ; ব্যাংক একাউন্ট নং (জনতা ব্যাংক, তোপখানা রোড-০১০১১৫৬৬৯৮১৬) এবং তহবিলের উৎস বিবরণ; এলাকা ভিত্তিক কমপক্ষে ২ শত ভোটারের স্বাক্ষর সহ জমা দিয়েছি। প্রতিক হিসেবে ‘গাছের চারা’ চেয়েছি। 
 
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে আবেদন করার পর গত ৮ এপ্রিল ২০১৮ নির্বাচন কমিশন প্রেরিত চিঠিতে গঠনতন্ত্র সংশোধন সহ ২ টি বিষয় প্রতিপালনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী গঠনতন্ত্র সংশোধনের কপি সংযুক্ত করা হলো। পাশাপাশি সকল শর্ত পূরণের পাশাপাশি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা একে ফজলুল হক সহ দেশ ও মানুষের জন্য নিবেদিত জাতীয় বীরদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বায়ান্নকে প্রেরণা, একাত্তরকে চেতনা হিসেবে বুকে লালন করে দারিদ্র-দুর্নীতি-সন্ত্রাসমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করে যাওয়া নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি সম্পর্কে আপনাকে কিছু তথ্য প্রধান করছি- ২ জন ভাষাসৈনিক, ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রেসিডিয়াম মেম্বার আর ৭ জন বরেণ্য উপদেষ্টার দ্বারা রাজপথে তারুণ্যের রাজনৈতিক আন্দোলনে নিবেদিত রয়েছে নতুনধারার রাজনীতিকগণ। আশা করি রাজনৈতিক আন্দোলনে নতুন প্রজন্মের পথ প্রশস্থ হবে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের জন্য নিবেদিত থেকে আসন্ন নির্বাচনে নিবেদিত থেকে জনগনের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বাংলাদেশের রাজনীতি সচেতন নতুন প্রজন্ম। যাদের শ্লোগান নতুনধারার অঙ্গিকার-দুর্নীতি থাকবে না আর...। কেননা, আমরা জানি, বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর রাজনীতিতে এসেছেন নিবেদিত দেশ ও মানুষপ্রেমিক অনেকেই। পাশাপাশি স্বার্থবাদী চিন্তা থেকে, রুটি-রুজি-জীবন-জীবিকার চিন্তা থেকে কিছু ছলাকলাবিদ এগিয়ে এসেছে ছলচাতুরির রাজনীতিক হিসেবে। এরা গড়ে তুলেছেন ওয়ানম্যান পার্টি। এই পার্টির ঘাটি মুক্ত হোক বাংলাদেশ, এগিয়ে চলুক আমাদের রাজনৈতিক আগামী। সেই প্রত্যয়ে আমরা রাজপথে আছি, রাজপথে থাকবো বাংলাদেশকে ভালোবেসে, বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবেসে...
 
মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি ও প্রতিষ্ঠাতা, সেভ দ্য রোড
Email: mominmahadi@gmail.com
01972740015